জ্যোতির্ময় রাসেল-মোঃ রবিউল ইসলাম

(১) চাঁদ উঠেছে

ঝিরঝির বাতাসে ফুলগুলি দুলছে,

সুরভিত জোৎস্না আঁধারকে খুলছে।

জোনাকিরা মিটিমিটি আলোজ্বেলে খেলছে,

রাতজাগা পাখিগুলি পাখাদুটি মেলছে।

 

শিউলির গাছজুড়ে শতফুল ফুঠছে,

আলোমেখে তারাগুলি আকাশেতে উঠছে।

মাটির পৃথিবীটা প্রাণভরে হাসছে,

মেঘভরা গলিপথে রাসেল যে আসছে।

 

আদরের টুকরাটি মা’রকোলে দোলখায়,

চাঁদমুখী চাঁদদেখে প্রজাপতি রোসনায়।

ফুলের জলসায় চাঁদনেমে এলো ঐ,

সারাঘর চাঁদময় সরব আর হেচৈ!

 

 

(২) গোলাপ কুড়ি

 

সবুজ পাতার ছোট্টকোণে নতুন কুড়ির আগমন,

হেমন্তেরই শুভ্রক্ষণে ভোরের হাওয়ায় স্বাগতম।

হাসবে তুমি মুকুল কলি শীতল পরশ জড়িয়ে,

স্মৃতিকনা ছিটিয়ে দিয়ে স্পর্শতায় ছড়িয়ে।

 

নীল আকাশের তারার আলোয় হাসছে গোলাপ কুড়ি,

ময়ূর নাচে মেখম মেলে গোলাপ বাগান জুড়ি।

অনুভবে ঘুম ভেঙে যায় নতুন ভোরের গানে,

ঘ্রাণে বিভোর হাসনা হেনা নদীর কলতানে।

 

স্বপ্ন বুনে স্মৃতি ব’য়ে হৃদয় আকাশ ভরা,

বুকের মাঝে সুখের নগর হৃদয় দিয়ে গড়া।

ফুল বাগানে বিছিয়ে দিয়ে গোলাপ কুড়ির আলো,

উঠলো হেসে ফুলেরা সব বাগান ঝলোমলো।

 

মিষ্টি করে গাইলো ওরা নতুন কুড়ির গান,

আলোর মশাল ঝংকরিয়ে রাসেল আগুয়ান।

অন্তরেতে প্রভা জ্বেলে ফগ্লুধারায় হাসি,

একটি শুভ্র গোলাপ কুড়ি দেখলো জগৎবাসী।

 

 

 

(৩) উচ্ছ্বসিত জন্মদিনে!

 

খালে বিলে নদ-নদীতে ঝরণা ধারার জল,

আসবে আদর শান্তি নিয়ে নিঝুম কোলাহল,

হেমন্তেরই শিশির ভোরে আলো-ছায়ার রূপ,

আকাশ জুড়ে নামল রাসেল চাঁদের সমরুপ।

 

লেকের পারে সবুজ ঘাসে ঘরটিভরা আভা,

শুভ্র সাদা কাশের ফাঁকে মিষ্টি মধুর শোভা।

মেঘের কোলে বৃষ্টি জমে পড়লো খুবই ভোরে,
শ্রেষ্ঠ ঋতুর উপহারটি আসলো ঘরের দোরে।

হাসনা হেনা বকুল ফুলের সৌরভ আসে ধীরে,
স্বচ্ছ কালো শাপলা জলে আকাশটিকে ঘিরে।

খবর এলো মেঘ জড়িয়ে শুধুই ছোটাছুটি,

খুশির ডানায় লেকের তীরে হর্ষ লটোপুটি।

গাখানি তার সোনালি রঙ উদাস করে মন,

আকাশ বাতাস মুখরিত সুখের শিহরণ।

উচ্ছ্বসিত বুকের ভেতর বসন্তের উৎসব,

লেক পাড়াতে রাত দুপুরে হল্লা, কলরব।

 

ছুটে আসে আবেশ ভরে মায়ার অনুরাগে,

সবুজ ছায়ে দলে দলে লেকের গুলবাগে।
অভিনন্দন জানিয়ে যায় অপূর্ব অতুল,

রঙিন ডানার প্রজাপতি হাজার রঙের ফুল।

স্নিগ্ধ কোমল পরিপাটি ছায়ায় ঘেরা পাখি,

আনন্দেরই অশ্রুধারা হৃদয় ছুঁয়ে আঁখি।
চাঁদের আলোয় পদ্ম পাতায় শিশির বিন্দু ঝরে,

ঝিলিমিলি ঢেউয়ের দোলায় দুলছে থরে থরে।

 

 

 

(৪) মহাকাশের তারা

 

পশ্চিম আকাশে, ঝিরঝিরে বাতাসে, উঠেছে সন্ধাতারা,

শুভ্রতার রঙে, আপন গগণে, ফুল পাখি মাতোয়ারা।

অনিন্দ্য ফাগুন, সুশোভিত গুণ, মন ছুটে যায় বনে,
হলুদের মাঠে, স্নানের ঘাটে, শুভ্র সমীরণে।

শিমুল শাখে, পাতার ফাঁকে, কোকিলের কুহু ডাক,

আঁচল নাড়ে, মনটা কাড়ে, মুক্তা দানার ঝাঁক।
সদ্য ফোটা ফুল, চামেলী বকুল, মৌমাছিদের মেলা,
সুখের বীন, অহর্নিশি দিন, কাটছে রাসলের  বেলা।

হৃদয় জুড়ে, মহাকাশ ফুড়ে, তারায় তারায় ভরা,

ধ্রুবতারার জ্যোতি, প্রস্ফূটিত বাতি, আনন্দে আত্নহারা।

মিটি মিটি জ্বলে, জলে ও স্থলে, দূর অজানার দেশে,
রিনিঝিনি বাজে, সবুজাভ সাজে, দুলবে রাসেল হেসে।

 

 

 

(৫) আগমনী বার্তা

 

সারা গাঁয়ে খুশির জোয়ার ফুটল ধরায় ফুল,

আকাশ থেকে নামল শিশু গাখানি তুল তুল।

রাশি রাশি ফুলের হাসি গন্ধে মাতোয়ারা,

হৃদয় কোণে উজ্জ্বলতা আনন্দে আত্নহারা।

 

সারাবাড়ি আজ কোলাহলে ঘেরা উল্লাস সারাদিন,

নতুন অতিথির আগমনে সবে বাজায় খুশির বীণ।

পৃথিবীর সব ভালোবাসা এলো আকাশ থেকে নেমে,

নির্মল শোভা ছড়িয়ে হৃদয়ে উচ্ছ্বাস রবে না থেমে।

 

বুকের মাঝে জিনিয়া ফুটেছে কমলা-হলুদ রঙে,

ভালোবাসার দু’কুল ভরিয়ে শুভ্রতার সম্মানে।
দু’হাত দিয়ে আড়াল করে দ্বীপ শিখাটির আলো,

রাসেলের বার্তা জানিয়ে দিয়ে দূরকরো সবকালো।

 

 

 

(৬) জন্ম তোমার ধন্য

 

তোমার জন্ম না হলে বাংলা ভাষা অলংকৃত হতো না,

তোমার জন্ম না হলে মাতৃভূমি মহান স্বাধীনতা পেতো না,

তোমার জন্ম না হলে গাছে গাছে বকুল ফুল ফুটত না,

তোমার জন্ম না হলে সূর্যমামা উঁকি দিয়ে উঠতো না,

তোমার জন্ম না হলে আকাশে সাদা মেঘ ভাসতো না,

তোমার জন্ম না হলে খোকাখুকুর ঘুম আসতো না,

তোমার জন্ম না হলে সাগরে ঢেউ খেলতো না,

তোমার জন্ম না হলে শিশুরা কথা বলতো না,

তোমার জন্ম না হলে রাজপথে মিছিল হতো না,

তোমার জন্ম না হলে শিক্ষা শোভা পেতো না,

তোমার জন্ম না হলে গাছেরা ফল দিতো না,

তোমার জন্ম না হলে পাখিরা গান গেতো না,

তোমার জন্ম না হলে ধরনী উচ্ছ্বসিত হতো না,

তোমার জন্ম না হলে বাংলা শান্তি পেতো না,

তোমার জন্ম না হলে জাতীয় সঙ্গীত বাজতো না,

তোমার জন্ম না হলে কবিতার ভাষা আসতো না,

তোমার জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর হতো না,

তোমার জন্ম না হলে অধিকার বঞ্চিত শিশুদের জীবন গড়তো না,

তোমার জন্ম না হলে ফাগুনের লাল কৃষ্ণচূড়া ধরতো না,

তোমার জন্ম না হলে স্রোতধারায় মধুমতী ব’ইতো না,

তোমার জন্ম না হলে বাংলাদেশী জাতীয়তা আলোকিত হতো না,

তোমার জন্ম না হলে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল শোভা ছড়াতো না,

তোমার জন্ম না হলে চতুর্থ শ্রেণির বন্ধুরা ভালোবাসা পেতো না,

তোমার জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধুর কলিজাটুকু ঠান্ডা হতো না।

 

 

 

(৭) চকলেট বিলানোর অপূর্ব দৃষ্টান্ত

 

রাসেল এসেছে, কাছে বসেছে, বাচ্চারা সারি সারি,

পাখ পাখালি, গাছগাছালি, নেই কোন মারামারি।

পেয়ে হাতে হাতে, খায় সাথে সাথে, দাও না রাসেল আরো!

ছোট্ট রাসেল, হাসিভরা দেল, দুঃখ দেয় না কারো।

রাসেলের গান, চির অম্লান, ব্যঞ্জনায় চন্দ্র-তারা,

রব যে মহান, সুখ্যাতি দান, বিশ্ব মাতোয়ারা।

পাড়ায় ঘুরে ঘুরে, মাঠ পেরিয়ে, ছোট্ট রাসেল সোনা,

চকলেট বিলিয়ে, আত্নভুলিয়ে, স্বপ্নের জালবোনা।

তরু গাছপালা, খাল-নদী-নালা, রাসেলকে তারা স্মরে,

শুভ্র আকাশ, সুনীল বাতাস, দোয়া মাগে আকাতরে।

অপূর্ব মনে, আত্নস্মরণে, আনন্দময় জ্যোতি,

স্পর্শীত উপাদান, চকলেট প্রদান, জীবন্ত সুখ্যাতি।

মন্ত্রমুগ্ধ, বিলিতে শুদ্ধ, ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়া,

লালিত স্বপ্ব, রাসেল রত্ন, ফেলেছে গাঁয়ে সাড়া।

সেই চিরচেনা, ছোট্ট সোনা, সে তো আজ পরপারে,

বিলাবেনা কভু, চকলেট তবু, আসবে না এ ধরাধারে।

 

 

 

(৮) হাসু’বুবুর হাতছানি

 

রান্না ঘরে আয় রে সোনা

রান্না ঘরে আয়

সুবজ রঙের শাকের সাথে

ফুলের রঙের কপির সাথে

ছোট্ট মলা মাছের সাখে

খাবে যদি আয়।

 

হাসু’বুবু যে ডাকছে জোরে

রাসেল সোনা সে কোন ঘরে

গরম ভাতে বাতাস করে

মাছের ঝোলের স্বাদে ভরে

গালে তুলে খাওয়াবে তোরে

খাবে যদি আয়।

 

কবুতরের ছোট্ট ঘরে

রাসেল সোনা চুপটি করে

দেখছে ক’টা বাচ্চা আছে

আদর করে নেবে কাছে

সেখান থেকে কোলে করে

হাসু’বুবু যে আদর করে

গালে তুলে দিল খানা

বলছে রাসেল আর খাবো না

এবার তুমি দাওগো ছেড়ে

যাব আমি অনেক দূরে!

 

 

(৯) পুষ্পিত রাসেল

 

শ্বেতকাঞ্চন ফুল, দোলে দোদুল দুল, সুমিষ্ট গন্ধ মাখা,

কমলা সাদা মূল, সন্ধ্যামালতী বকুল, রাসেল রঙে আঁকা।

ডালিয়া নাগকেশর, চিরসবুজ অনিন্দ্য ধূসর, মঞ্জুরি শোভিত বর্ণ,

ফুলে ফুলে অলংকার, পুষ্পস্তবকের অহংকার, বসন্ত পত্রপল্লব অনন্য।

 

বর্ণিল প্রস্ফুটন, রাসেল সুনিপুণ, মনোলোভা সবুজ গাঁদা,

ভাস্কর্য প্রজ্ঞাপন, মধুর সুঘ্রাণ, সৌন্দর্য বিকশিত মর্যদা।

পঞ্চমুখী গুনাগুন, পাপড়ির ভেষজগুণ, বাহারী স্বর্ণচাঁপা,

মেহেদি রঞ্জন, প্রভাতী আকুজ্ঞন, জারুল কাঁপা কাঁপা।

গাঢ় সবুজ হিজেল, পাঁপড়ি মাঝে রাসেল, ডাগর পাতার পরে,

সোনালুর সোনায়েল, রূপসীত হিমেল, ঝরণা ধারা ঝরে।

বসন্তের উদ্দিপক, শ্যামলী পাচক, অপরাজিতায় আকাশমণি,

একাঙ্গী পুষ্পকোষ, ঘৃতকুমারী নিবারক, গোলাপ কামিনী।

 

রাসেল চন্দ্রমুখী, মহাশ্বেতা চিরসুখী, বকুল নয়নতারা,

রজনীগন্ধার উঁকি, কুঞ্জলতার আঁখি, ম্যাগনোলিয়া আত্নহারা।

অঞ্জন অনন্ত লতা, উদয়পদ্ম পাতা, কুসুম আকুলতা,

নীলমনি সাদা পাতা, টগর নীলাভচিতা, রাসেলের আবিলতা।

 

 

 

(১০) রাসেল আসিবে ফিরে

 

রাসেল আসিবে ফিরে বাংলার প্রতিটি ঘরে

শিশুদের মনের মাঝে

সকাল সন্ধ্যা সাজে

হয়তো বা মানুষ না হয়

ক্ষুদে ফেরেশতা বেশে

সে আসিবে অবশেষে।

 

রাসেল আসিবে ফিরে বাংলার প্রতিটি ঘরে

ঝিলিমিলি কলতানে

কলকাকলির বাতায়নে

হয়তো বা শিশির বিন্দু না হয়

ছোট্ট পাখির বেশে

সে আসিবে অবশেষে।

 

রাসেল আসিবে ফিরে বাংলার প্রতিটি ঘরে

হাস্যসিক্ত মনে

গুন গুনিয়ে গানে

হয়তো বা ঝরণা ধারা না হয়

সুমধুর গানের বেশে

সে আসিবে অবশেষে।

 

 

(১১) মাছ ধরার আনন্দ!

রাসেলের মাছ ধরাতে অনাবিল মিহি আনন্দ,

রৌদ্র ছায়ায় বসতো লেকে বিকেলে এক পড়ন্ত।

গ্রীষ্ম শেষে বর্ষার দিনে মাছেরা নিত খবর,

রাসেল এসেছে আপন মনে মাছ ধরবে যবর।

চল চল তোরা রাসেলের ছিপে ঠোকর দিয়ে আসি,

বিঁধেছে যে মাছ টান মেরে তোলে রাসেলের মুখে হাসি।

সমুখ টানে আঁখি মেলে দেখে মাছের মনেতে সুখ,

লাফিয়ে দাপিয়ে মাছেরা বেড়াতো দিত না কোন দুখ।

হাসি খুশি ভরা নেই কোন ত্বরা রাসেলের শুভক্ষন,

মাছ ধরে ধরে দিতে সবে ছেড়ে রাসেলতো সুমাহান।

 

 

 

(১২) রুপময় রাসেল

 

রাসেলের রুপ, বাংলার মুখ, শাশ্বত বাংলার স্বপ্নতরী,

আবহমান বাংলা, বিমোহিত নির্মলা, ঐশ্বর্যে মুগ্ধ পরী।

নিসর্গের রূপকার, বিশুদ্ধ অনির্বার, মুগ্ধতার সূত্রে গাঁথা,

ভোরের বাতাসে, ঝিরিঝিরি আসে, শীতের উষ্ন কাঁথা।

রাসেলের দুটি বাহু, কোকিলের ডাক কুহু, সৌন্দর্য আছড়ে পড়ে,

বিমুগ্ধ বাংলার রূপকার, সৌন্দর্যের অশতীপর, পল্লবের স্তুপের পরে।

অগাধ ভালবাসা, রাসেলের রুপে হাসা, চারিদিকে নীল জলে আঁকা,

বাংলার রুপ খুঁজে, পৃথিবীর রূপ বুজে, এক ফালি চাঁদ যেনো বাঁকা।

ভোরের দোয়েল পাখি, চারিদিকে ডাকাডাকি, রাসেলের স্মৃতি আবরণ,

জামবটকাঁঠাল, অশ্বত্থ-আমহিজল, নীল ছায়ার রুপ অনুক্ষণ।

মানচিত্রে রাসেলের রুপ, অখণ্ডের অস্তিত্ব স্বরুপ, স্বদেশে নক্ষত্রের আলো,

দূরেবহু দূরে, কল্পনাতে ঘুরে ঘুরে, আকাশরেখা রূপে ঝলোমলো।

লুকোচুরি খেলা, রূপসী বাংলার মেলা, কবিতার আবহের ছোট্ট সোনা,

স্বপ্নের জালে শঙ্কমালা, ঘোড়ার কেশে চন্দ্রমালা, কিশোলয়ের বৃক্ষরাজি বোনা।

ক্লান্ত দেহে, অল্প ঘায়ে, প্রকৃতির শিশির জলের চালতাফুল,

শিহরিত চুপচাপ, লাজুক বাতাসের ছাপ, সৌন্দর্যসুধায় রাসেল দোলে দোদুল দুল।

দক্ষিণা বাতাসে, রুপের পসরা হাসে, রাসেল চাঁদের আলো,

সুমিষ্ট ঘ্রাণে, রাসেলের টানে, বিজন ঘাসে টলোমলো।

 

 

 

(১৩) সুরভিত রাসেল

 

রাসেল তুমি শুভ্র মেঘ, তুমি কবিতার মৃদু ছন্দ,

রাসেল তুমি পুষ্পিত গোলাপ, তুমি বৃষ্টি ঝরা আনন্দ।

রাসেল তুমি গল্প সবার, তুমি মুগ্ধ নয়নের হাসি,

রাসেল তুমি গর্বিত ধন, তুমি হৃদয় ভোলানো বাঁশি।

 

রাসেল তুমি দূরন্ত শৈশব, তুমি আবেগের আপ্লুত কথা,

রাসেল তুমি হিমালয়ের দেয়াল, তুমি শান্তিময় আকুলতা।

রাসেল তুমি স্বপ্নের নায়ক, তুমি লাল সবুজের দোলা,

রাসেল তুমি ছোট্ট কবি, তুমি আদৃত্যের পরশ খোলা।

 

রাসেল তুমি ইচ্ছের রং, তুমি জ্যোৎস্না ভরা রাত,

রাসেল তুমি শান্ত জলধারা, তুমি গল্পের অভিমাত।

রাসেল তুমি বাংলার চিঠি, তুমি লুকিনো অভিব্যক্তি,

রাসেল তুমি নববর্ষের সকাল, তুমি পড়ালেখায় ধীশক্তি।

 

রাসেল তুমি ছোট্ট বীর, তুমি বঙ্গবন্ধুর দীপ্ত ভাষণ,

রাসেল তুমি যুদ্ধাহংকার, তুমি বাংলার শ্রেষ্ঠ আসন।

রাসেল তুমি রমনার বটমূল, তুমি সুর ও গানের আভা,

রাসেল তুমি শান্তির পরশ, তুমি বৃক্ষচ্ছাদিত শোভা।

 

রাসেল তুমি হাসু’বুবুর হৃদয়, তুমি সজীবতা বাড়িময়,

রাসেল তুমি দ্যপ্তীমান প্রদীপ, তুমি বাংলার সুবিজয়।

রাসেল তুমি বাংলার ঊষা, তুমি গোধূলী লগ্নের বেলা,

রাসেল তুমি তাজমহলের শ্বেতপাথর, তুমি নিষ্পাপ শিশুমেলা।

 

রাসেল তুমি মায়ের আদর, তুমি বাবার চোখের মণি,

রাসেল তুমি স্বপ্ন সিঁড়ি, তুমি স্বার্থক স্বর্ণখনি।

রাসেল তুমি এক পশলা বৃষ্টি, তুমি সবুজ বাংলার মায়া,

রাসেল তুমি বর্ণিল মুখ, তুমি ঝকঝকে তরু ছায়া।

 

 

 

 

(১৪) তোমার ছোট্ট কথা

তোমার ছোট্ট কথায় সবুজে শোভিত পাতা নড়ে,

তোমার ছোট্ট কথায় টুপ টুপ সুরে বৃষ্টি পড়ে,

তোমার ছোট্ট কথায় মুখটি ভরে বাচ্চা হাসে,

তোমার ছোট্ট কথায় পাখা মেলে হাঁসেরা ভাসে,

তোমার ছোট্ট কথায় রাতের আকাশে জ্যোৎস্না দোলে,

তোমার ছোট্ট কথায় শিশুরা হাসে মায়ের কোলে,

তোমার ছোট্ট কথায় তারারা আকাশে নেভে জ্বলে,

তোমার ছোট্ট কথায় হিমালয় পর্বতের চূড়া টলে,

তোমার ছোট্ট কথায় বাগান ভরা ফুল ফোটে,

তোমার ছোট্ট কথায় পানির নীচে মাছেরা ছোটে,

তোমার ছোট্ট কথায় সবুজের বুকে আঁকা ছাতা,

তোমার ছোট্ট কথায় কালির ছোঁয়ায় বইয়ের পাতা,

তোমার ছোট্ট কথায় ঝরণা থেকে সাগর হয়,

তোমার ছোট্ট কথায় আকাশ থেকে বায়ু বয়।

 

 

 

(১৫) তুমি জন্মেছো বলে

 

তুমি জন্মেছো বলে পুষ্প কাননে ফুল ফুটেছে,

তুমি জন্মেছো বলে পাখিরা সব গানে মেতেছে।

তুমি জন্মেছো বলে পদ্মা মেঘনা যমুনা বহমান,

তুমি জন্মেছো বলে বাংলাদেশের বেড়েছে সম্মান।

তুমি জন্মেছো বলে নীল সাগরে ঢেউয়ের মেলা,

তুমি জন্মেছো বলে আকাশ ভরা তারার খেলা।

তুমি জন্মেছো বলে জ্যোৎস্নাভরা রাতের আকাশ,

তুমি জন্মেছো বলে স্নিগ্ধভরা ভোরের বাতাস।

তুমি জন্মেছো বলে খলখলিয়ে শিশুরা হাসে,

তুমি জন্মেছো বলে দীঘির জলে শাপলা ভাসে।

তুমি জন্মেছো বলে আকাশ থেকে বৃষ্টি পড়ে,

তুমি জন্মেছো বলে সবুজে ভরা পাতা নড়ে।

তুমি জন্মেছো বলে মাছেরা সব সাতার কাটে,

তুমি জন্মেছো বলে গোধূলীর রঙ বাটে বাটে।

তুমি জন্মেছো বলে ধানের ক্ষেত হাওয়ায় দোলে,

তুমি জন্মেছো বলে প্রকৃতির দয়ায় সোনা ফলে।

তুমি জন্মেছো বলে নব বধূরা রঙিন সাজে,

তুমি জন্মেছো বলে কৃষক শ্রমিক মেতেছে কাজে।

তুমি জন্মেছো বলে বন্যেরা বনে আনন্দ করে,

তুমি জন্মেছো বলে আনন্দ আজ প্রতি ঘরে।

তুমি জন্মেছো বলে বঙ্গবন্ধু আজ গর্বিত পিতা,

তুমি জন্মেছো বলে বঙ্গমাতা আজ সম্মানিতা।

 

 

(১৬) স্পর্শিত লেক

 

বড়শি ফেলে মাছ ধরাটা ভীষণ ছিলো শখ,

রোদ্দুপুরে রুপার জলে গা খানি ফক ফক।

থুতনি ছোঁয়া আঙ্গুলটিতে পরনে লাল জামা,

আলতো ছোঁয়ায় মাছটি ধরে নখটি দিয়ে থামা।

 

কাতলা পুটি ঝগড়া করে শান্ত ঢেউয়ের জলে,

শালিক, দোয়েল মুখ বাঁকানো শিমুল গাছের তলে।

অবোধ শিশু আপন মনে মুখটি শুধু ঘষে,

রঙিন মাছের নীলাভ লেকে বেড়ায় সে যে চষে।

অভিমানী মাছগুলি তাই সুখের তরে উঠে,

একটু পরে দিলে ছেড়ে পানির ভেতর ছোটে।

এমনি ভাবে চলে খেলা স্নেহের পরশ হাতে,

ছোট্ট রাসেল মাছটি পেলে ছাড়ে সাথে সাথে।

 

বৃষ্টি ভেজা আকাশেতে লেকে নতুন সিঁড়ি,
ফুলের মতন ছোট্ট রাসেল বসে পেতে ফিঁড়ি।

পেটভরা সব মাছের ডিমে রাসেল বেজায় খুশি,

ছেড়ে দিত মাছগুলি সব খায় না যেনো পুশি।

 

খেলার ছলে ধরবে সে মাছ, ছাড়বে আবার সেটি,

এমনিভাবেই কাটবে বেলা যখন খুশি যেটি।

রাসেল নামের ছোট্ট শিশু মাছ ধরে না আর,

লেকের কোলে নরম হাতে দেখবে নাতো তার।

 

 

 

(১৭) প্রাণের স্পন্দন

 

নতুন অতিথি এসেছে তাই চারিদিকে কোলাহল,
বাজছে বাঁশি-সানাই-ঢোল হাজারো লোকের ঢল।
স্বপ্নের মতো অজস্র প্রাণে বাজিছে সুখের দোলা,
ফুলদানিতে নতুন ফুলের বসেছে রাসেল মেলা।

কোথায় জামাল, কৈরে কামাল, রেহেনাপু আসো,

হাসু’বুবুর বুকের মানিক জড়িয়ে ধরে হাসো।

ফুফুর কোলে ছোট্ট রাসেল পড়েছে যে হৈ-চৈ,
বিলাও যত মিষ্টি মেঠাই মুড়ি-মুড়কি খৈ।

 

কচি সোনার মুখখানি আজ কাঁচা দুধের স্বর,
চতুর্দিকে জয়গানে ভরা শ্যামলী শুভ্র ঘর।
জন্ম হলো ভোরের পাখির ভাঙ্গে সবার ঘুম,

আলোর ঝিলিক অরুণ রবি দু’চোখে দেয় চুম।

নীলাকাশে আলোক ছটা চলছে নিরবধি,
ভোরের আভায় কলকলিয়ে সাগর পানে নদী।

জল থৈ-থৈ ঝির ঝিরে বয় শীতল হাওয়ায় ঘুম,

ছোট্ট সোনার শান্তি সুরে কেনাকাটার ধুম।

 

 

 

(১৮) স্বপ্ন ভেঙে চুরমার

শেখ রাসলেকে ঘাতকরা চতুর্থ শ্রেণীতেই থামিয়ে দিয়েছে,

আকাশের মর্মছেঁড়া অশ্রুর প্লাবনে কচি আত্নাটা নিয়েছে।

বুলেট বৃষ্টিতে নরপশুরা ওর স্বপ্ন ভেঙে করেছে চুরমার,

শত শাহাদাত বার্ষিকীর অশ্রুপাত নয় তাকে ফিরাবার।

 

ঝাঁঝরে দিয়েছে ভীতসন্ত্রস্ত রাসেলের ছোট্ট নরম দিল,

উদ্যত অস্ত্রে ঝাপিয়ে পড়েছে হৃদয়হীন হিংস্র নখরীচিল।

ভীত বিহ্বল রাসেলের কচি আত্না চললো আরশ পানে,

অকৃতজ্ঞ জাতির বীরত্বগাথা পাংশুল রর্বরতার সোপানে।

 

বন্ধুরাসব ফুফিয়ে কাঁদে রাসেল ক্লাসে ফিরবে না আর,

যাবে না দেখা প্রিয় বন্ধুর হাসিমাখা মুখের দৃপ্তিভার।

সেনা অফিসার কভু হবে নাকো সুপ্ত বাসনা ভরে,

দেশের সেবায় আত্ননিয়োগ আগেই গেছে যে মরে।

 

তীব্র গতির অগ্নি মাশাল জ্বালালো স্বপ্ন খানা,

ছোট্ট রাসেলের ভগ্ন মনে ছিলো না আগে জানা!

প্রিয় শিক্ষকদের পরম স্নেহে ছিলো সে স্বপ্নমাখা,

ইউনিভার্সিটি স্কুলের প্রতিটি কণায় নামটি যে তার আঁকা।

 

স্পর্শিত আকুতি টলাতে পারেনি পাষাণ খুনীর মন

আত্মচিৎকার, আহাজারি বাজে কানে যে সর্বক্ষণ।

ঠান্ডা মাথায় খুন করে ওরা গোলাপ অঙ্কুরটাকে,

ডুকরে কাঁদা মর্মস্পর্শী আর্তি ঘাতকের কাঁপেনি হৃদয়টাতে।

 

স্মৃতি বিজড়িত ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এখনো খোঁজে তাকে,

দুরন্তপ্রাণ রাসেল আসে যে স্বপ্নের বাঁকে বাঁকে!

চতুর্থ শ্রেণী আজো ডাকে তাকে সময়ের ক্ষণে ক্ষণে,

নিদারুন মৃত্যু দিবে না প্রাণ ঘণ্টা বাজলেও মনে।

 

রাসেল সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন থাকবে কালে কালে,

ফাতেহা দোয়া, মিলাদ মাহফিল পাবে সে পরকালে।

হৃদয়ের রাসেল থাকবে হৃদয়ে অনিন্দ্য ফুলেমিশে,

ফুলদানিতে গোলাপ হয়ে থাকবে সে ভালোবেসে।

 

 

 

(১৯) বুলেটবিদ্ধ রাসেল

 

পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট, ভোররাতের নিষ্ঠুরতা, রক্তের আঁখর চারিদিকে,

ছোট্ট রাসেলের আকুতি, আম্মুর কাছে যাবার মিনতি, তখনও উঠেনি রোদ্দুর ঝিকমিকে।

রক্তের গন্ধ মাড়িয়ে, ছোট্ট কোমল পদভারে, অজানা সংকোচে রাসেল আগুয়ান,

ফসিলের বুক চিরে, ভোরের ঘন আঁধারে, ছোট্ট মানিকের মনে বড় সন্দিহান!

চোখ মেলে মেলে, লাশ ঠেলে ঠেলে, ঘুম ঘুম চোখে চলা,

স্নেহময়ী মায়ের কাছে, আদর ভালোবাসা আছে, হবে বুঝি মাকে জড়িয়ে কথাবলা।

মহিতুলকে জড়িয়ে ধরে, ছোট্ট রাসেল অস্ফূষ্ট স্বরে, ভাইয়া! ওরা মারবে নাতো!

মাছুম বাচ্চা রাসেল, অসহায় দুরু দুরু দেল, ভয়ার্ত দৃষ্টিতে কাঁপছে কতো!

রমা ভাইয়াকে আঁকড়ে ধরে, ওরা কি আমাকে দিবে মেরে! দেবে নাকো মুক্তি!

রমা ভাইয়া দিলো আশ্বাস, আমার প্রতি রাখো বিশ্বাস, ওরা তোমাকে দেখাবে ভক্তি।

আচমকা জোর করে, কচি দুটি হাত ধরে, আজিজ পাশার নিষ্ঠুর কথা,

মায়ের কাছে যাবে, দোতলায় চলো তবে, ছোট্ট দেহের উপরে নিষ্ঠুর ব্যথা।

ছোট্ট কচি দেহ, বুলেটের সমারোহ, মহান আল্লাহর আরশ উঠে কেঁপে,

দশটি তাজা গুলি, থেতলে মাথার খুলি, চোখ দুটি বের হয় ফেঁপে।

রক্তের হোলি খেলা, পাষন্ডের মত্ত মেলা, ছোট্ট শিশুকে দেইনিকো মাফ,

বাঙালী জাতির পিতা, রাসেলের সৌভাগ্য দাতা, নিষ্ঠুরতার পড়ে আছে ছাপ!

নিথর নিরব দেহ, পড়ে আছে নেবে কেহ! দেখ, কি তুল তুলে গাল,

হাসিতে মুক্তা ঝরে, ছোট্ট মানিকের ঠোটের পরে, হাসু’বুবুর চুমুতে লাল।

লাশগুলি থরে থরে, বঙ্গবন্ধুর শোয়ার ঘরে, মায়ের শিয়রে নিথর রাসেল সোনা,

আম্মু আমিও এসেছি, তোমার শিয়রে রয়েছি, আমাকে পেয়েও কেনো এত আনমনা!

কোলে তুলে নাও, আদর করে দাও, খেলতে যাবো জ্যোতির্ময় তারার দেশে,

অসংখ্যা অগণিত তারা, নিজেকে করবো আত্নহারা, মিলিব তোমার সাথে অবশেষে।

 

 

 

(২০) তোমারা রাসেলের পদচিহ্নকে হত্যা করেছো!

 

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো বিশ্ব মানবতা,

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো জাতির ছোট্ট কথা,

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো সুশিক্ষার মায়াজাল,

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো সুপ্রদীপ্ত মশাল।

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো তীক্ষ্ণতায় ভরা মেধা,

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো পুষ্পতায় ভরা শ্রদ্ধা।

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো ছোট্ট কচি কথা,

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো নিষ্ঠুরতার ব্যথা।

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো সুন্দর বিনয়াবনতা,

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো নিবিষ্ট সত্যবাদিতা।

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো সুপ্ত ভালোবাসা,

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো বুকভরা প্রত্যাশা।

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো সুন্দর পথচলা,

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো সুমিষ্ট কথাবলা।

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো কোরআনের দেখানো পথ,

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো নবীজির অভিমত।

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো জাতির পিতার স্বপ্ন,

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো তার দেশপ্রেমের মগ্ন।

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো হাসু’বুবুর প্রাণের স্পন্দন,

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো তার অভিষ্ট অভিনন্দন।

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো লাল সবুজের পতাকা,

তোমারা রাসেলকে হত্যা করোনি হত্যা করেছো বাংলার বুকে তার পদচিহ্ন আঁকা।

 

 

 

(২১) রাসেলের আত্না

 

খুনিরা তোমারা নরপশু

তোমারা হিংস্রতার থাবা

তোমরা শকুনি নখর

তোমারা বিষাক্ত জানোয়ার

তোমরা জাতির শত্রু

তোমরা রক্ত খেকো হায়েনা

তোমাদের রক্ত মাখা হাতের দুর্গন্ধ এখানো আমার নাকে আসে

তোমাদের সেই বুটের শব্দ এখনো আমার কানে বাজে

তোমাদের বুলেটের শব্দ এখানো আমি শুনতে পাই

আমার বাবার ছোপ ছোপ রক্ত এখনো সিড়িতে আমি দেখতে পাই

আমার মায়ের শেষ রক্ত মাখা মুখ খানি ভাবলে আমি আজো শিউরে উঠি

আমার ভাইয়ের রক্তে তোমাদের হাত রঞ্জিত

আমার পরিবারের সদস্যদের সকলের কথা খুবই মনে পড়ে।

তোমাদের মুখে থুথু ছিটিয়ে দিচ্ছি

তোমরা অভিশপ্ত শয়তান।

 

 

 

(২২) হাসু‘বুবু ‍তুমি কেমন আছো!   

 

হাসু’বুবু ‍তুমি কেমন আছো!

আমার কথা কি তোমার মনে পড়ে!

জন্মের খবরটি আব্বুকে টেলিফোনে জানানোর কথা!

আমাকে দোলনায় দোল দেওয়ার কথা!

সেই টেপ রেকর্ডারে কান্না রেকর্ডের কথা!

আমার মুখে চুমু দেওয়ার কথা!

আমাকে খাদ্য মুখে তুলে দেওয়ার কথা!

আমার সেই লেকে মাছ ধরার কথা!

কুকুরের সাথে ঝগড়া করার কথা!

টুঙ্গি পাড়ায় চকলেট বিতরণের কথা!

আব্বুর সাথে জাপান ভিজিটের কথা!

কবুতরের গোশ না খাওয়ার কথা!

জয় মামার সাথে খেলা করার কথা!

যুদ্ধের সময়ে একটি বাড়িতে আটকে থাকার কথা!

আমার পায়ে পিঁপড়া কামড়ানোর কথা!

হাসু’বুবু তোমার কথা খুবই মনে পড়ে!

তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে হয়,

তোমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে ইচ্ছে হয়,

তোমার কোলে চড়ে ঘুরতে ইচ্ছে হয়,

তোমার হাতের দুধমাখা ভাত খেতে ইচ্ছে হয়,

কিন্তু হায়েনারা যে আমাকে তোমার কাছ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

আমি আকাশের তারা হয়ে ফুটে আছি

তোমাকে সর্বদা আমার আলোয় উদ্ভাসিত করে রাখি।

 

 

 

(২৩) তুমি যদি বেঁচে থাকতে

 

তুমি যদি বেঁচে থাকতে বাংলাদেশ হতো চির বিষ্ময়,

তুমি যদি বেঁচে থাকতে বাংলাদেশ হতো আনন্দময়।

তুমি যদি বেঁচে থাকতে বাংলাদেশ হতো আত্নহারা,

তুমি যদি বেঁচে থাকতে বাংলাদেশ হতো পাগলপারা।

তুমি যদি বেঁচে থাকতে বাংলাদেশ পেতো মহাসম্মান,

তুমি যদি বেঁচে থাকতে বাংলাদেশ হতো চির অম্লান।

তুমি যদি বেঁচে থাকতে বাংলাদেশ হতো বিশ্ব সেরা,

তুমি যদি বেঁচে থাকতে বাংলাদেশ হতো প্রদীপ্ত ঘেরা।

তুমি যদি বেঁচে থাকতে বাংলাদেশ হতো সবুজ কানন,

তুমি যদি বেঁচে থাকতে বাংলাদেশ পেতো পবিত্র অঙ্গন।

তুমি যদি বেঁচে থাকতে বাংলাদেশ হতো সুজলা সুফলা,

তুমি যদি বেঁচে থাকতে বাংলাদেশ হতো তারুণ্য মেলা।

 

 

 

(২৪) শৈশবের পদ্মা

 

পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে মনে জাগে ঢেউ,

রূপসী বাংলার রুপের কোলে বসবে নাকি কেহ।

পদ্মা মেঘনা যমুনার পানি এখনো ব’য়ে চলে,

মধুমতির সেই খলখল স্রোত যায়নিকো রাসেল ভুলে।

নদীর মাঝে নৌকা চলে কোমল পদ্ম ফুল,

দুই কূল ভরা সাদা কাশঁ ফুল দোলে দোদুলদুল।

 

নদী পাড়ি দিয়ে দাদু বাড়ি যায়

কৌতূহলের শেষ নাহি রয়

নিল আকাশের রংধনু মেখে

প্রকৃতির সৌন্দর্যের সজিবতা দেখে

শৈশব ছিল অফুরন্ত তার

খুলে গেলো এক প্রশান্তির দ্বার

ঢেউ ঠেলে ঠেলে যাচ্ছে ওকূলে

নৌকা চলে বেশ দুলে দুলে

কি যে আনন্দ রাসেলের মনে

নেচে উঠে সে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে।

 

 

 

(২৫) মন মাতানো

 

নির্মল বিনোদন, সারাদিন সারাক্ষন, শিশিরবিন্দু ঝরানো হাসি,

প্রকৃতি চিরন্তন, নবীন ঘনশ্যাম, নীলগীরী পর্বত ভালোবাসি।

গগনে প্রভাতের আভা, মেঘমালায় দোলে শোভা, রাসেল বড়ই মানবিক,

নুতন রূপের ঝলক, প্রদীপ্ত আঁখির পলক, দাঁতগুলি হাসিতে ঝিক ঝিক।

 

দুধ ভাত মাখা, খুশিতে ঠোঁট আঁকা, হাসু’বুবুর নয়নের তারা,

মুঠিতে ভাত রাখা, গাল করে বাঁকা, খুশিতে রাসেল আত্নহারা।

সাইকেলে চড়া, চোখ ছানাবড়া, বিকালটা কাটবে লেকের পাশে,

ছায়াতলে পড়া, রাস্তায় গড়িগড়া, পা’দুটি ব্যথায় ভরে আসে।

 

রাসেল হবে লাট, চন্দ্রশোভিত মাঠ, পদ্মা মেঘনা যমুনার ছন্দে,

লাল সবুজের পাঠ, ঝলমলে সোনালী ঘাট, আকাশ ছুঁতে ব্যস্ত আনন্দে।

চুলগুলি ঝুরঝুরে, দেহময় তরতরে, পৃথিবীর যত নীল রঙে ধোয়া,

আকাশটা ফুরফুরে, রাসেলের মন জুড়ে, একরাশ স্বপ্নের ছোঁয়া।

 

টঙ্গীপাড়া দাপায়ে, পুকুরেতে ঝাঁপায়ে, চড়ছে ছোট্ট নাও,

দাদুবাড়ি কাঁপায়ে, প্রকৃতিতে লাফায়ে, কচি দু’হাত দোয়ায় তুলে দাও।

হিজলের বনে বনে, ঘুরছে মনে মনে, হাল্কা ঘাসে নরম হাওয়ায় মেতে,

আসবো ক্ষণে ক্ষণে, টুঙ্গিপাড়ার সম্মানে, মাতৃভূমির শুভ্র সুভাসেতে।

 

 

 

(২৬) নরম আত্নাটি ঝরে গেলো!

 

স্বপ্নের টানে, ঢেউয়ের বাণে, ঊছলে পড়িল বায়ে,

তাজা গোলাপ, মিষ্টি সৌরভ, নিরব আরশের ছায়ে।

গাছের তলে, হিমালয় জলে, সাদাফুল হলো লাল,

কচি আত্না, পবিত্র হৃদয়, কেঁদে যাবে চিরকাল!

মোহনীয় ফুল, গোলাপ বকুল, কচিশিশুটির মন,

রক্তের মাখানো, দেহটি বাঁকানো, ঠিক যেন ত্রিকোণ।

চির গৌরবে, শত সৌরভে, রাসেল ছেড়েছে মায়া,
পৃথিবীর কোনে, কান পেতে শোনে, অন্তরীনের কায়া।

জীবনের কথা, ভালোবাসার লতা, আজো আছে ম্রিয়মান,

ফুলের পাপড়িতে, ভ্রমরের মায়াবীতে, রাসেলের বেড়েছে সম্মান।

 

 

 

(২৭) তুমি আসবে বলে (হাসু’বুবুর আর্তি)

 

তুমি আসবে বলে তোমার নীড়টিকে হৃদয় সৈকতের ঝিনুক দিয়ে সাজিয়ে রেখেছি,

তুমি আসবে বলে কল্পনার নীল সাগরের পানি নিয়ে ঠাঁয় অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছি।

তুমি আসবে বলে স্বপ্নের সাদা রঙের আঙিনায় বিছানা পেতে বসে রয়েছি,

তুমি আসবে বলে জ্যোৎস্নামাখা নিশিতে অমলিন প্রভাতের প্রার্থনায় রত রয়েছি।

তুমি আসবে বলে খুব ভোরে উঠে মহান আল্লাহর দরবারে সেজদাবনত,

তুমি আসবে বলে কোরআনের সুরে ঘরময় করছি আলোকিত।

তুমি আসবে বলে আকাশের তারার স্নিগ্ধতায় দিচ্ছি কুমড়ো বড়ি,

তুমি আসবে বলে নতুন ঊষার নতুন আলোয় খুঁজছি গোলাপ কুড়ি।

তুমি আসবে বলে অনাবিল সুখে মেলেছি ঘাসের উপর শিশির কণা,

তুমি আসবে বলে ফাগুনের মেলায় মুক্ত করেছি প্রজাপতির ডানা।

তুমি আসবে বলে পাখির কলতানকে ব্যকুলতার আবরণে ভরে রেখেছি,

তুমি আসবে বলে দূরের নীল নীলিমার মিষ্টি আভার বিচ্ছূরণ তুলে রেখেছি।

তুমি আসবে বলে বৃষ্টির টুপ টুপ শব্দ ঝির ঝিরে বাতাসে লুকিয়ে রেখেছি।

তুমি আসবে বলে দুখের স্বপ্নগুলি চাঁদের আলোর সুখদিয়ে ভরে রেখেছি।

তুমি আসবে বলে নামাজের ছোট্ট জায়নামাজটি গোলাপজল দিয়ে ধুয়ে রেখেছি।

তুমি আসবে বলে সারা গাঁ’য়ের ছোট্ট সোনামণিদের খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে রেখেছি।

তুমি আসবে বলে টকুটুকে লাল শাড়ি জড়ানো পুতুলটি বউ করে সাজিয়ে রেখেছি।

তুমি সত্যিই আসবে! অবশ্যই আসবে!

সন্ধ্যা তারাটি দেখলে তোমার কথাই মনে করিয়ে দেয়!

 

 

 

(২৮) শেখ রাসেলের জন্মদিন: ১৮ অক্টোবর, রবিবার; ১৯৬৪ সাল

 

গভীর রাতের নিস্তবতা ভেঙে আজানের ধ্বনিতে তোমার জন্ম,

হাসনা হেনার সুরভিত পরশে বঙ্গবন্ধু ভবনে হেমন্তের নবান্ন।

১৮ অক্টোবর, ১৯৬৪ দিনটিকে ইতিহাসের পাতা করেছে সমুজ্বল,

পত্রপল্লবের শিহরিত মহাকাব্যের জন্মতে পড়েছে অফুরন্ত কোলাহল।

অবিস্মরণীয় কালের পরিক্রমায় তোমার জন্মটি হয়েছে মহাবিষ্ময়।

শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ট পুত্র অভূতপূর্ব তন্বয়।

অমর জন্ম, বংশ পরিচয়, মহাকাব্যের মহাসত্যের দ্বিধাহীন অপরূপ,

রক্তের ধারা বেগমান হলো সৌন্দর্য শোভিত সোনালী কাব্যের স্বরুপ।

সময়ের সাহসী সন্তান যুগ যুগ পরে এসে দক্ষিণা সমীরণ করেছে অমলিন,

আবেগাপ্লুত করে ধানমন্ডির বাড়িটির পরে আজ বাজছে স্বপ্নের বীণ।

কালের বুক চিরে রক্তের কালিতে প্রকৃত ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা,

হৃদয়ের মণিকোঠায় লাল সবুজের পতাকায় তোমার জন্মের সম্মাননা।

 

 

 

(২৯) হাসু আপার ছোট্ট হৃদয় রাসেল

রাসেল জননী ডাকছে, থালাতে ভাত মাখছে, এসো এবার খাবে,

মা মা ওগো মা, আর ডাকতে হবে না, এবার কাছে পাবে।

মায়ের গলা ধরে, মায়ের বুকের পরে, ছোট্ট রাসেলের ঘুম,

শান্তি মাখা বুকে, রাসেল ঘুমায় সুখে, প্রশান্তি ঝুমঝুম।

বয়স সবে দেড়, আব্বাকে দেখেনি ঢের, আব্বা তখন জেলে,

সবার ছোট বলে, আদরের পাখা মেলে, স্পর্শিত আভা ঢেলে।

ফুটেনি তখনও কথা, যদি একটুও পায় ব্যথা, কলিজা ছিড়ে যায,

আদরে ভরে রাখি, সব ভাইবোনের আঁখি, আঁচড় লাগে না তায়।

ধানমণ্ডি ৩২ নং বাড়ি, রাসেলের গড়াগড়ি, নিমিষেই মা’র কোলে,

তুলতুলে রাসেল সোনা, স্পর্শনীয় আদুরে গহনা, সবার কোলে কোলে।

জন্মেই ফুফুর কোলে, আমাকে দিলেন তুলে, তুলতুলে নরম গাল,

মাথা ভরা ঘন কেশ, বড়সড়ও বেশ, ও যেনো আলোর মশাল।

আমার চুলের বেণি ধরে, ও খেলতো সারা ঘরে, করতো অনেক মজা,

নাদুস-নুদুস শিশু, বাঁশ ধরে হাঁটতো কিছু কিছু, স্বাস্থ্য তরতাজা।

সাহস বেজায় ভারি, পিপড়া ধরতো তাড়াতাড়ি, কামড়ে দিল তায়,

আঙ্গুল ফুলে মোটা, শিরাগুলি গোটা গোটা, আমরা তো হায়হায়!

হাসু’পা বলে ডাকে, সময়ের বাঁকে বাঁকে, মনটা খুশিতে ভরে,

সারা বেলা চলে খেলা, কবুতর ঘর মেলা, কবুতর ছাড়ে ধরে।

লাল ফুল আঁকা থালা, নেই কোন অবহেলা, পিঁড়ি পেতে বসে খাবে,

কুকুর টমি ছোটে, ঘেউ ঘেউ করে ওঠে, বকা খেয়ে রাসেল দুঃখপাবে।

পুলিশের গাড়ির বিউগল, ও পুলিশ কাল হরতাল, জয় বাংলা চিৎকার,

ছোট্ট মানিক সোনা, দেখলে পুলিশের আনাগোনা, বলতো বাড়িয়ে কণ্ঠস্বর।

বন্দি জীবনে রাসেল, খাবারের অভাবে উদ্বেল, বাঁচা যে কষ্টকর,

চারিদিকে বিভীষিকা, দেশময় অমানিষা, ১৯৭১ স্বাধীনতা স্বাধিকার।

মুক্ত মনে আনন্দ সব, জয় বাংলা আনন্দ রব, রাসেল হেলমেট পরা,

বিজয়ের উল্লাস, চারিদিকে আজ, অগণিত মানুষের অদ্ভুত অনুভূতি ত্বরা।

ছোট্ট সাইকেলে চলে, রাসেল হেলে দুলে, গণভবনে আসত প্রতিদিন,

মাছ ধরার খেলা, চলে সারা বেলা, এরা যেন অনন্ত সঙ্গীন।

শিক্ষকের মর্যদা, দিয়েছে রাসেল সর্বদা, মানবিকতায় সে ছিলো ভরপুর,

মেহমান আপ্যায়ন, উল্লসিত প্রতিক্ষন, মিষ্টি কথামালায় সে ফুরফুর।

খুদে বাহিনীর প্যারেড, ডামি বন্দুক ক্যারেট, চকলেট আর পোশাক বিতরন,

মহাআনন্দের মাঝে, থাকতো সকাল সাজে, বিলি হতো খুবই সযতন।
জাপান সফর, নেভি সফর, আর দেশের মধ্যে চলা,

মপেট চালায়, পা আটকে যায়, কি নিদারুন কষ্টের বলা।

১৯৭৫ সালের পনের আগস্ট, ঘাতকের নির্মম বুলেট, কেড়ে নিল ছোট্ট প্রাণ,

নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করল, ছোট্ট বুকটা ফেটে গেলো, ব্যথায় কষ্টে বেদনায় ওষ্টাগত জান।

বুকফাটা আর্দনাদ, হৃদয়ের হাহাকার, আজো হাসুবুবু বেঁচে আছে নিজে মরে বারবার।

(৩০) পৃথিবীর তেমন কিছুই রাসেলের দেখা হয়নি

 

রাসেলতো রাজনীতি বোঝে না তাহলে

কেনো একটা মুক্ত আকাশ থেকে তাকে সরিয়ে ফেলা হলো!

কেনো একটা সুন্দর পৃথিবী থেকে তাকে বঞ্চিত করা হলো!

কেনো চারপাশের অনাবিল শুভ্রতা থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো!

কেনো তার স্বপ্নকে চুরমার করে ফেলা হলো!

 

রাসেলতো তো মাছুম বাচ্চা তাহলে কেনো

একটা প্রদীপতে নিভিয়ে ফেলা হলো

একটা অঙ্কুরকে বিনাশ করা হলো

একটা আশা কে হত্যা করা হলো

একটা গতিকে পথরোধ করা হলো!

 

রাসলে তো গোলাপ কুড়ি তাহলে কেনো

তাকে আদর করে ছেড়ে দেওয়া হলো না

তাকে ঘরে বসিয়ে বহু যত্ন করা হলো না

তাকে সৌরজগতের গ্রহটি ঘুরিয়ে দেখানো হলো না

তাকে ভোররাতের জোৎস্না দেখতে দেওয়া হলো না!

 

রাসেল তো শিহরিত সমীরণ তাহলে কেনো

পত্রপল্লবীতে তাকে ব’ইতে দেওয়া হলো না
পত্রপল্লবীতে শরৎ হেমন্তের আলোর অঞ্জলি ছড়াতে দেওয়া হলো না

পত্রপল্লবীতে মোহন অঙ্গুলি দোলাতে দেওয়া হলো না
পত্রপল্লবীতে শিশির বিন্দুর ফোটা পড়তে দেওয়া হলো না!

 

রাসেল তো প্রকৃতির ঋতুর শোভা তাহলে কেনো

প্রভাতের হৃদয়ে শোভা বর্ধন করতে পারলো না

প্রভাতের শিউলি ফুলের চারপাশ ছুতে পারলো না

প্রভাতের শুভ্র কাশফুলের নরম দোলা পেলো না

প্রভাতের মৃদু হাওয়ায় মোহনীয় রূপে দুলতে পারলো না!

 

রাসেল তো মিষ্টি সুবাসের ভালোবাসার দোলা তাহলে কেনো

ঝকঝকে নীলাকাশের সাদা মেঘের অপরূপ সৌন্দর্য কেড়ে নিল

ঝকঝকে জ্যোৎস্না মাধুর্যে পরিপূর্ণ হেমন্তকে আড়াল করে দিলো

ঝকঝকে মেঘের বারিধারাকে সাদা মেঘ দিয়ে ঢেকে দিলো

ঝকঝকে কোমল শান্ত সিগ্ধ শরৎএর গল্পকে আটকে দিলো!

 

রাসেল তো ক্যানভাসে আঁকা হৃদয়ের গোলাপ তাহলে কেনো
রক্ত গোলাপে তাকে আচ্ছাদিত করা হলো

রক্ত নখরে তাকে খামচে দেওয়া হলো

রক্ত সাগরে তাকে চুবিয়ে মারা হলো
রক্ত রাজ্যে তাকে চিত্ত হারাতে হলো!

 

রাসেল তো প্রজাপতির সাত রং তাহলে কেনো

ভোররাতের স্বচ্ছ বাতিতে তাকে পোড়ানো হলো

ভোররাতের আজানের শব্দ থেকে বঞ্চিত করা হলো

ভোররাতের হাসু’বুবুর কোরআন পড়ার শব্দ থেকে সরানো হলো

ভোররাতের তমাশাচ্ছন্ন ভেঙে সূর্যের লাল আলো থেকে দূরে পাঠানো হলো!

এসবের কোন জবাব নেই!

 

 

 

(৩১) সেই রক্ত

 

আমি সেই রক্তের কথা বলছি যা আজো শুকিয়ে আছে,

গোলাপ ফুল নিংড়ে যে রক্ত ঝরেছে তা ভোলার নয় নি:শ্বাসে।
গোলাপের পাপড়িগুলি এলোমেলো পড়ে ছিলো মায়ের পাশে,

শহিদ মিনারের লাল রং আর স্মৃতি সৌধ আজ সমাবেশে।

 

পলাশ ফুলের রং লাল টুকটুকে সেতো রাসেলের ফিনকি রক্তে,

পতাকার লাল রং সেতো রক্তের আর্তস্বরে কবিতার অবক্তে।

লাল সাগরের সাহসী গল্প সেতো রাসেলের রক্তের বলি,

স্বাধীনতায় ত্রিশলক্ষ শহীদের রক্তিম খুনের রক্তঝরা গলি।

কত বসন্ত কেটে যাচ্ছে ব্যথিত মানুষগুলো কালের মহাসাক্ষী,

কৃষ্ণচূড়ার শুষ্কভগ্ন লাল বেনারশীর নীলবর্ণে সিক্ত মিনাক্ষী।

রাসেল তো মরেনি মরেছে হিংসুকদের নিন্দিত আত্না,

পাষন্ডের কাপুরুষোচিত ধ্বংস যজ্ঞ হিংস্র প্রেতাত্না।

 

সংবিধানের পাতা ছোট্ট রাসেলের প্রতিফোটা রক্তের শোভা,

কামান আর বুলেটে মৃত্যুর শেষধাপে রাসেলের সুস্মিতা আভা।

হেঁটে হেঁটে দোতলায় রাসেলের মা’য়ের মুখের ছবি,

বাংলার মানচিত্রে রক্তাক্ত রাসেল কেঁদেছে মানব কবি।

 

 

 

(৩২) সবে দশ বছর!

 

রাসেলের প্রাণবায়ু, দশ বছরের আয়ু, হন্তারিত তপ্ত মাঠ,
বিষাদের ছায়া, বুকভরা মায়া, নির্মম বুলেটে প্রভাত পাঠ।

পাষাণ অভিশাপী, দুর্জন পাপী, ওরা জানোয়ারের দল,

শিশুকে হত্যা, পাপিষ্ট আত্না, ওদের পা’য়ে ম’ল।

 

শতধিক! চারিদিক! ওরা হত্যা করেছে রাসেলের বাঙালিমন,

জগৎ জানলো, বাংলা থামলো, বাঙালির মুক্তির নেশা সর্বক্ষণ।

বুলেট ছুঁড়িয়া, জীবন কাড়িয়া, প্রাণ-সঞ্চারিত ধরার পরে,

হৃদয়ে করুন গান, মৃত ছোট্ট জোয়ান, আত্ননাদ বাংলার ঘরে ঘরে।

 

বিষাদের ছায়া, অমলিন মায়া, চারিদিকে আকাশ ভাঙা কান্নার সুর,

কনিষ্ট মন, কাঁদে সর্বক্ষণ, শোক বিধুরতা ছড়িয়েছে দূর হতে বহুদূর।

 

প্রাণ সংহার, তপ্ত চেতনার, চিরচেনা রাসেল হলো রক্তমাখা বীর,

বাষ্পিত ভবিষ্যত, মুদিল নয়নাহত, দুখ-বিঁধুর গোলাপ মঞ্জুরীর।

 

মুয়াজ্জিনের আযানের ধ্বনি, শুনিল সকলে তখনি, সুরেলা কন্ঠে মধুর সুর,

আল্লাহ মহান, জগতের শান, বায়ু তরঙ্গ ফুঁড়ে আছড়িয়ে পড়ছেও সাত সমদ্দুর।

 

নিথর ছোট্ট লাশ, চিৎকার হায়-হুতাস, দশ বছরের বালককে খুন নরপিচাশ,

খুনিরা উল্লাসে, নির্দয় অভিলাশে, এমন পাপিষ্ঠ প্রাণ হয় কি জগৎময়!

 

নীল আসমান লাল, রক্ত মাখা গাল, শেষ বাক্যটি কালিমা শাহাদাৎ,

কাঁদে ডুকরিয়া, রাসেল শুকরিয়া, জান্নাতের ফুল বাগানের ভবিষ্যত।

 

 

 

(৩৩) স্মৃতিময় রাসেল!

হাসু’বুর কাছে যাওয়ার আকুতি!

ছোট্ট বালক পাখির পালক নির্মমতার ছোঁয়া,

ঘাতক বুলেট কেড়ে নিলো বু’বুর কাছে যাওয়া।

ছোট্ট রাসেল বলল কেঁদে মারবে নাতো ওরা!

মায়ের কাছে যাবে তুমি চল করে ত্বরা।

স্নেহময়ীর লাশটি দেখে ভয়ে আঁতকে উঠে,

হাসু’বুবুর কাছে যাবে বলল অস্ফূষ্ট ঠোটে।

কোথায় বুবু, কোথায় বাবা, সামনে জল্লাদ সেনা,

জড়িয়ে ধরে বলল তাদের বাঁচতে আমায় দে-না!

শকুনি থাবা, নিষ্ঠুর ওরা, ঠান্ডা মাথার খুনি,

প্রাণবায়ু নিবে বলে তারা হুশিয়ারী এক্ষুনি।

তোমার মা’য়ের লাশের পাশে এবার মাতৃভূমি,

দশটি তাজা নারকীয় বুলেট ভেদ করালো খুনি।

 

স্নেহময়ী মায়ের যেন আকুতি!

আমার বুকের মানিক, হৃদয়ের নাড়ি ছেড়াধন,

ওকে মেরো না তোমারা বাঁচাতে দাও শিশুপ্রাণ।

আমি ভিক্ষা মাগছি, রাসেলের জীবন, তোমাদের কাছে,

চালাও যত গুলি আমার উপর, ওর কি দোষ আছে!

ও দুধের শিশু সহ্য করতে পারবে না তোমাদের অত্যাচার,

আদরের মানিক, আমার কলিজার টুকরাটি ছেড়ে দাও এবার।

ওকে যেতে দাও ওর হাসু’বুবুর কোলে,

রাসেল জননী বলছে প্রাণ খুলে,

কিন্তু পাষন্ডের হৃদয় না গলে,

 

কোন নিবেদন শুনলো না ওরা, এবার…

মা জননীর শিয়রের কাছে চললো সপাটে গুলি,

গুলির আঘাতে আছড়ে পড়লো ছোট্ট মাথার খুলি।

চোখ বুঝে মা সহ্য করলো সীমাহীন নিষ্ঠুরতা,

বুকের পাজরে জাপটে ধরলো দুখিনী মায়ের ব্যথা।

রাসলের আত্না জড়িয়ে ধরে কেঁদে হয় খান খান,

গোটা বাড়িটা নিষ্ঠুর বুলেটে হয়েছে যে মহাশশ্মান।

 

 

 

(৩৪) সেনা সেনা খেলা

 

আয়রে ছেলের দল

গুলি করি চল

পাকিস্তানী ঐ সেনাদের নাইকো যাদের বল

চল চল চল।

 

আয়রে ভাইয়ের দল

বাঁধ ভেঙে আজ চল

হানাদারকে খতম করার খেলা করি চল

চল চল চল।

 

আয়রে খোকার দল

গায়ে খাটিয়ে বল

হানাদারদের গুলি করে বাংলা গড়তে চল

চল চল চল।

 

 

 

(৩৫) বাবার বুকের মানিক

 

আব্বু,

তোমার বুকের পরশ পেয়ে ধন্য ছিলাম কত,

তোমার বুকের মাঝে রহমত ঝরতো অবিরত।

তোমার বুকের মানিক আসবে না কভু ফিরে,

পিতা পুত্রের বন্ধনের রক্ত ঝরালো অকাতরে।

 

আব্বু,

তোমার রাজসিক চিত্তের আলিঙ্গনে পেতাম তৃপ্তমাখা,

পিতা পুত্রের কর্ম ব্যস্ততায় ডুবিলো অস্তরেখা।

প্রতিভা মাখা সংস্কারের দেখবে না কেহ ছবি,

রাজনৈতিক জগতের জ্বল জ্বলে নক্ষত্রসম কবি।

 

আব্বু,

তোমার আদর্শের অভিব্যক্তিকে রুখে দিলো ওরা খুনি,
তোমার গুনের সমাহারের কথা আজো অবিকল শুনি।

স্বপ্নের প্রিয় বন্ধু তুমি শৈশবের স্মৃতির পাতার ডানা,

তোমার উৎসাহে সার্থকতা পেতাম স্মৃতির সম্মাননা।

 

আব্বু,

হৃদকাশে এখনও ভাসে তোমার চিরচেনা চোখদুটি,

গণভবনের সামনের লেকে মাছ ধরার সুখস্মৃতি।

চিৎকার করে আজো কেঁদে ফিরি তোমার সুখানুভূতি,

তোমার হারানোর দগ্ধ বেদনা অপূরনীয় ক্ষতি।

 

আব্বু,

আমাকে বুকে আগলে রাখতে কাটতো সারাটি রাত,

তোমার বুকের স্মৃতির পাতায় মাথাটি হতো কাত।

প্রথম হয়েছি, নাম্বার পেয়েছি সবার চাইতে বেশি,
পরম মমতায় টেনে নিয়ে বুকে চুমু খেতে হয়ে খুশি।

 

আব্বু,

আজ তুমিও নেই আমিও নেই স্মৃতিগুলি চনমনে,

হাসু’বুবু সেই স্মৃতি হাতড়িয়ে স্বপ্নের জাল বোনে।

রেহানা আপার আদর স্নেহ হৃদয়ের ছায়াতল,

শুনবো না কভু দাদুভায়ের ডাক, মধুমতির ছলছল।

 

(৩৬) রাসেলের প্রার্থনা

 

তুলে দুটি হাত আরশ মহলে বলছি রবের সনে,

ফুলের সুবাস তারার ঝিলিক ভরে দাও দু’নয়নে।

পড়ালেখা করে মানুষ হতে চাই প্রভু দাও বরকত,

সকাল সাঝে দোয়া মাগি মনে পেতে যত রহমত।

 

নবীজির পথে চালিত করো হে প্রভু দয়াময়,

অতুল খোশবুতে সুরভিত করো মোর হৃদয় আঙিনায়।

সৌন্দর্যরসে পরিসিক্ত প্রভু দাও শান্তির দান,

প্রিয় ব্যক্তিদের পদাঙ্ক দাও করো না অপমান।

 

তোমার রঙে দাওগো রাঙিয়ে যত আছি মোরা শিশু,

নেয়ামত ভরা ক্ষমা দাও প্রভু চাই না অন্যকিছু।

কোরআনের আলো দাও গো প্রভু অন্তরেতে জ্বেলে,

সুরক্ষা দাও দেশময় প্রভু আরশের আলো ঢেলে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

(৩৭) একখণ্ড ভালোবাসা

মহাশূন্যের শুভ্র আঙিনায় ভেসে বেড়াচ্ছে শিশু রাসেল,

উত্তর থেকে দক্ষিণ কোণে মেঘমালা ঘিরে উদ্বেল।

শ্রেষ্ঠ শতাব্দীর অনন্ত বিজয়ের জন্মানো এক শিশু,

আঁতকে উঠা নির্মোহ এক বুলেটবিদ্ধ আত্নার অনুসন্ধিৎসু।

 

অলৌকিক, অপরূপ, মনোরম প্রনালীর ধ্রুবকের বর্ণমালা,

নীলাভ লাল বর্ণ শোভিত নীড়পাতায় রাসেল যে উজালা।

রুদ্ধ করেছে বাকশক্তি করাঘাতে শানিত হলো মুক্তমন,

বজ্র নিশান সাঙ্গ হলো আধিপত্যবাদের সর্বদিগ্ব্যাপী অনুক্ষণ।

 

কৃষ্ণ কালো চোখের মনি অতল গহ্বরে গেলো হারিয়ে,

চোখের জলে দীর্ঘশ্বাসের বিদগ্ধ ইতিহাসের আদরে জড়িয়ে।

রাতের নিস্তব্ধতায় রাসেলের আত্না উঁকি দেয় বাতায়নে,

জীবন্ত সত্ত্বা রংধনু স্বপ্নে আকা ভালোবাসার অনুক্ষণে।​

 

 

 

(৩৮) রাসেল কবিতার অলংকার

তুমি বিদ্রোহী কবির গগন বিদারী হাক,

তুমি বিশ্ব কবির দীপ্তি মাখানো ডাক।

তুমি ভোরের পাখির প্রাণ জুড়ানো গান,

তুমি কিশোর কবির চেতনার সম্মান।

 

তুমি সাহিত্য সম্রাটের অনিন্দ্য রুপায়ন,

তুমি পল্লীকবির সবুজের ঘেরা অগ্রহায়ন।

তুমি রুপসী বাংলার মিষ্টি রঙে আঁকা,

তুমি নবজগতের বনফুলের ঝাঁকা।

 

তুমি নীল আসমানী ছন্দের যাদুকর।

তুমি মহাকবির লেখনীর অবিনশ্বর।

তুমি সাহিত্যরত্নের উদ্দীপ্ত দীপ শিখা,

তুমি ভাষাবিজ্ঞানীর প্রখ্যাত অভীক্ষা।

 

 

 

(৩৯) আমায় নিয়ে কবিতা লিখো না

 

আমি ছন্দ পতনের স্বপ্নহারানো পথ,

আমি চলতে চলতে থেমেছি হঠাৎ।

হত্যাকারীরা আজও ওঁৎ পেতে আছে,

বধ্যভূমিতে অদৃশ্য ঘাতক দাঁড়িয়ে পাছে।

দোয়া করো আমায়,

আমায় নিয়ে কবিতা লিখো না

 

আমি ঘুমিয়ে আছি মায়ের কোল জুড়ে,

ফিরবো না কোনদিন অসীম আকাশ ফুড়ে।

মেঘের আড়ালে স্বপ্নে বোনা নদী,

কবিতা ও গানে ঝংকার নিরবধি।

দোয়া করো আমায়,

আমায় নিয়ে কবিতা লিখো না

 

মন কাঁদে ক্ষণে ক্ষণে মহানুভবতা ছুঁয়ে,

অদৃশ্য হাতের খেলায় সম্ভাবনা নুয়ে।

দৃঢ়প্রত্যয়ের ভালোবাসার জীবন্ত এক ছবি,

আমার ছোট্ট জীবনী লিখোনা ওগো কবি।

দোয়া করো আমায়,

আমায় নিয়ে কবিতা লিখো না

(Visited 31 times, 1 visits today)

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *