সন্তানদের থাকার ব্যবস্থা করুন!

http://www.newsevent24.net/detail/event/28841

 

সন্তানদের থাকার ব্যবস্থা করুন!

লেখক: মোঃ রবিউল ইসলাম

August 20, 2016; Saturday 

 

সেই কবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছেড়েছি! তারিখটা মনে নেই। সালটা ২০০১! শাহ্ মখ্‌দুম হল। কি অসাধারণ পড়ার পরিবেশ! এখনো ভাবলে মনে হয় হলের সেই প্রিয় বেডরুম, রিডিং টেবিলে সাজানো পুস্তক সম্ভার, করিডোরের পাশে আম গাছের পাতার আচ্ছাদিত সুকোমল পরিবেশ, কারুকার্য খচিত মসৃণ মসজিদ, হল লাইব্রেরী, কমনরুম, অডিটরিয়াম, বিশাল ডাইনিং রুমে বন্ধুদের সাথে একত্রে খাওয়া, হল ভর্তি গোলাপ ফুলের সুঘ্রাণ, হল গেস্টরুমে বসে চুটিয়ে গল্প, হল গেটে তুখোড় ছাত্রনেতাদের রাজনৈতিক বাক্যলাপ আর আমার প্রিয় ফোল্ডিং আমব্রেলাটা মাথায় উপরে রেখে অনিন্দ্য সুন্দর ক্যাম্পাসের রবীন্দ্রভবনের সিড়ি মাড়ানোর সেই ফেলে আসা দিনগুলি! সেটা এখন শুধুই স্মৃতি!

হলের দাবিতে আমাদের সন্তানেরা আন্দোলন করছে। ওরা একটু ঠাঁই পেতে আন্দোলন করছে। ওরা মেসে মেসে পুলিশি তল্লাশির ভয়ে আন্দোলন করছে। ওরা ব্যাচেলর জীবনের কষ্ট ঘোচাতে আন্দোলন করছে। ওরা বাড়িওয়ালাদের রক্ত চক্ষুর ভয়ে আন্দোলন করছে। ওরা পড়ালেখার সুশীতল পরিবেশের জন্য আন্দোলন করছে। ওরা অনাবিল শান্তির একটু পরশ পেতে আন্দোলন করছে। ওরা পড়ার পরিবেশের জন্য আন্দোলন করছে। ওরা নিরিবিচ্ছিন্ন পরিবেশে ওদের হোম এ্যাসাইনমেন্টগুলি করার জন্য আন্দোলন করছে। ওরা ২২ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর আবাসিক হলের জন্য আন্দোলন করছে। ওরা হলের জন্য আন্দোলন করছে এমন একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যা বাংলাদেশের প্রাচীনতম এক উচ্চশিক্ষার সূতিকাগার। শিক্ষার অনন্ত শিখা। সুবিশাল দুর্গ। দেশের এই অতি পুরনো বিদ্যাপীঠটি ১৮৫৮ সালে ব্রাহ্ম স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭২ সালে জগন্নাথ স্কুল, তারপর ১৮৮৪ সালে জগন্নাথ কলেজে উন্নীত হয়। সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। এটিই দেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যা সময়ের ব্যবধানে পাঠশালা থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা রক্ত ঝরানো স্বাধীন জতি! আমরা বুঝি আমাদের কর্তব্যপরায়ণতা। আমাদের অধিকার আদায় আমাদের অহংকার। এটি এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় যা রাজধানীর বুকে চির উন্নত শিররুপে পুরাতন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির স্বাক্ষর বহন করছে। এটা বাংলাদেশের মেধাবীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। বুড়িগঙ্গার তীরে এ যেন ইতিহাসের আরেক পিরামিড! আনন্তকালের তাজমহল! সরকারের একান্ত পৃষ্টপোষকতায় এখানে নিশ্চিত করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার সুনিপন পরিবেশ। পাঠদানের জন্য রয়েছে বিশ্বমানের একঝাঁক সম্মানিত শিক্ষক যারা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে উৎকর্ষের শিখরে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান অনীস্বকার্য করে তুলেছে। শিক্ষার্থীরাও তাদের মেধার সর্বোচ্চ প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু যে বিষয়টি শিক্ষার্থীদের সাবলীলতায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে তা হলো উন্নত পড়ালেখার পরিবেশ! এই পরিবেশ তাদের কাছে একান্ত অনিবার্য করে তুলেছে। তাদের দাবীতো কোন অযৌক্তিক না। তারা একটি পরিবেশ চাচ্ছে। পড়ালেখার পরিবেশ! একটু মাথাগোঁজার পরিবেশ!

সরকারের শিক্ষা নিয়ে সুবিশাল পরিকল্পনার অংশ হলো ডিজিটাল দেশ গঠনের অঙ্গীকার, ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো ছড়ানো, নিরক্ষরমুক্ত দেশ গড়া, উচ্চ শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া। তাহলে আমাদের সন্তানদের দোষ কোথায়? ওরা তো সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য হলে থাকবে। নতুনরা আসবে পুরাতনরা চলে যাবে এটাই তো নিয়ম। সম্মানিত যে সমস্ত ব্যক্তিবর্গের নিকটে এই সন্তানরা হলের দাবি করছে আপনারা একটিবার ভাবুন আপনারা কিন্তু এই হলে থেকেই পড়ালেখা শেষ করেছিলেন। আপনাদের কাছে হলের গুরুত্ব বোঝানো নিষ্প্রয়োজন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহেদ ইসলাম বাদল দ্বার্থহীন ভাষায় বলেছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। এটা তাদের নায্য অধিকার। তারা আন্দোলন করবে, এটাই স্বাভাবিক। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদের এই সন্তানদের আন্দোলন করার পরে একটা আবাসনের ব্যবস্থা করবেন এমন মানষিকতা পরিহার করাই মঙ্গলজনক। বরং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ বসে একটা সমাধান করাই শ্রেয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংকট নিরসনে সরকারকে দ্রুত সক্রিয় হতে হবে।

পুরাতন একটা কারাগারে ছাত্রছাত্রীরা স্বেচ্ছায় কারাবরণ করছে! এটা ভাবলেই তো অবাক লাগে! ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ ২০১৪ সালের ২৩ মার্চ সরকারের কাছে এক আবেদনে জানিয়েছিলো, খালি হওয়ার পরে বখশি বাজারের কেন্দ্রীয় কারাগারটিতে তারা ছাত্র হল নির্মাণ করতে চায়। সেখানে সরকারের প্রস্তাবিত জাদুঘর, বিনোদন কেন্দ্রও থাকতে পারে, কিন্তু সেটা হতে হবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অধীনে এবং তার সঙ্গে জাতীয় চার নেতার নামানুসারে সেখানে চারটি আবাসিক হল করা হবে, এমনটি উল্লেখ করা ছিল ওই আবেদনে। সংশ্লিষ্ট মহলকে ইস্যুটি গুরুত্ব দিয়ে এতদিনে ফয়সালা করা উচিত ছিলো কিন্তু আজোও এ বিষয়ে কোনও সাড়া মেলেনি। অথচ এটা একটা বার্নিং ইস্যু।

এখানে সুন্দর ব্যবস্থাপনা আগেই রয়ে গেছে। পুরুষ ওয়ার্ডগুলিতে ছেলেরা আর মহিলা ওয়ার্ডগুলিতে মেয়েরা থাকতে পারে। যেভোবে কয়েদী এবং হাজতীরা থাকতেন। আর সেখানার পৃথকীকরণ ব্যবস্থা বেশ কড়াকড়িভাবেই অনুসরণ করা হতো। ছাত্রছাত্রীরা এখানে থাকতে কোন অসুবিধা নেই। ছাত্রছাত্রীরাই আগামী দিনের সম্পদ। তাদেরকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের।

 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বিষয়ে আমার অবজারভেশনসমূহ:

  1. নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের জমিতে হল নির্মাণের দাবিতে ১ আগস্ট থেকে আন্দোলন করছে জবির শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছে তা একবারে অহিংস। তাদের দাবির পক্ষে তারা মিছিল করছে, ক্যাম্পাসে ধর্মঘট করছে, সরকারের কাছে দাবি পেশ করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে দাবি পেশ করছে, প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করছে, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে হলের বিষয়ে জানানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। কোন ভাংচুর নেই, জ্বালাও পোড়াও নেই, সহিংসতা নেই। তাদের যৌক্তিক দাবীকে সম্মান জানানো দরকার।
  2. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হল নির্মাণের জন্য জমি কিনতে শুরু করেছে এবং পুরানো হলগুলোর জমি উদ্ধারে আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ছাত্রদের আবাসিক হল নির্মাণের জন্য ঢাকার অদূরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের নোয়াদ্দা ও বাঘৈর এলাকায় ৫ একর জমি কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অবশ্য পুরাতন কারাগারের ১৭ একর জায়গার উপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, পার্ক, ওয়াকিং ওয়ে ও কারাগারের বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়া জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকটে রয়েছেন এটা শতভাগ বাস্তব। জগন্নাথ কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১১টি ছাত্রাবাস নির্মাণ হলেও নানাভাবে এগুলো অবৈধ দখলে চলে গেছে। হল না থাকায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেস করে পুরান ঢাকার বিভিন্ন বাসা বাড়িতে থাকেন। স্থায়ীভাবে না হলেও সরকার যতদিন না শিক্ষার্থীদের হলের সুব্যবস্থা করতে পারছেন ততদিন পুরাতন কারাগারটি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করা প্রয়োজন।
  3. বাংলাদেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বসবাসের জন্য হল রয়েছে। কেবল ব্যতিক্রম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। তাই এখানে হল থাকা বাঞ্চনীয়। শিক্ষার্থীদের বসবাসের যায়গাটা খুবই জরুরী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কখনো অনাবাসিক হতে পারে না। আর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশের যে পরিবেশ তা উচ্চশিক্ষার পরিপন্থি; ন্যূনতম থাকার পরিবেশই সেখানে নেই। সরকারের সমালোচনা করে হল আন্দোলনের সাবেক সংগঠক মাসুদুর রহমান বলেন, “সরকার সেনাবাহিনীর জন্য বিভিন্ন জায়গায় ৪৮ হাজার একর জায়গা কিনেছে। অথচ জগন্নাথের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য একটি হল নির্মাণ করতে পারে না! ”
  4. পুরাতন কারাগারটিতে শিক্ষার্থীদের হলের পাশাপাশি একাডেমিক ভবন, শিক্ষক ও হল প্রোভোস্টের আবাসিক ব্যবস্থাপনা থাকবে। তাহলে স্থানটি ছাত্রশিক্ষকের মিলন মেলায় পরিণত হবে।
  5. শিক্ষার্থীরা দাবি করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিষটি নিয়ে একবারে চুপ থাকলে তো হবে না। এমন যদি ভাবা হয় কবে তারা বাস ভাংচুর করবে, রাস্তা অবরোধ করবে, আগুন জ্বালিয়ে আন্দোলন করেব, পুলিশ লাঠি চার্জ করবে, নাম না জানা অসংখ্য শিক্ষার্থীর নামে মামলা হবে, শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হবে, তাহলে সেটা মারাত্নক অন্যায় হবে। এটা প্রশাসনকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী বা প্রশাসনের কোন কর্তাব্যক্তির নিকট থেকে কোনো আশ্বাস না পেলে তারা হয়তো একদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে হয়তো একটা আশ্বাস পাবেন। কেননা যে কোন দুঃসময়ে, কঠিন মুছিবতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তে দেশবাসী উপকৃত হয়েছে। এবারো হয়েতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আর্শীবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ভালো রেজাল্ট পাবে।
  6. শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করছে, প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে বাহাদুর শাহ পার্ক ও আদালত এলাকার রাস্তা দখল করে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে, এতে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের সমূহ ক্ষতি হচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় এক্ষুনি নিতে হবে। অন্তত: তাদের সাথে বসে একটা সমাধান বের করতে হবে।
  7. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যান্য যে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একেবারেই স্বতন্ত্র। সবচেয়ে অল্প জায়গাতে সবচেয়ে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে ২০০৫ সালে। শিক্ষার্থী বিবেচনায় তৃতীয় বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসের আয়তন কাগজে
    কলমে ১১.১১ একর হলেও বাস্তবিক পক্ষে ৭.১০ একর। বর্তমানে এর শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। ৩১টি অনুষদ ও ১টি ইনস্টিটিউট নিয়ে এর শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার একাদশ বছরে পদাপর্ণ করলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন, শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগারে পুস্তক, গবেষণাগার, পরিবহন এবং শিক্ষকদের একাডেমিক বসার স্থান সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রকট আবাসন সংকটে খালি কারাগারটি একমাত্র সম্বল হিসাবে তারা বেছে নিয়েছে।
  8. এই সরকারের আমলে ১ হাজার সিট বিশিষ্ট শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ছাত্রী হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহল সরকারের সদিচ্ছার প্রতি আস্থা রেখে চলেছে। জগন্নাথের মেয়েদের আবাসিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাবাজারে শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের নির্মাণকাজ শিগগিরই শুরু হবে। ২০তলা ভবনটি নির্মিত হলে অনেক ছাত্রী সেখানে থাকতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে প্রকল্পটি কবে আলোর মুখ দেখবে তা দেখার বিষয়।
  9. বাংলাদেশে রাজধানীর মেসে থাকার অভিজ্ঞতা সবারই কম বেশি রয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির সমস্যা প্রবল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে মেস জীবনযাপন করায় প্রতিনিয়ত এই চতুর্মুখী সমস্যায় আবর্তিত হতে হচ্ছে। অন্যদিকে পুরান ঢাকার পরিবেশ ও আর্থিক দিক বিবেচনায় যারা ক্যাম্পাস থেকে দূরে অবস্থান করে তাদের প্রতিদিন বাঁদুর ঝুলা হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতের দিকটি তো আছেই। এতোদিক সামলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য যে সংগ্রাম করতে হচ্ছে তা ইতিহাসের পাতায় লিখিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বৈকি। তাদের এ অবস্থায় আবর্তিত হওয়ার কথা ছিল না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি হল জালিয়াত চক্র বিভিন্ন উপায়ে দখল করে নেওয়ায় তাদের আজ এই সীমাহীন কষ্ট-দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
  10. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট্ট আঙিনায় একটু দম ফেলার ফুরসত বুঝি এখানে ফাঁকা নেই। পাঁচ শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় বৃহৎ সংখ্যক শিক্ষকদের সবাইকেই থাকতে হচ্ছে ব্যয়বহুল রাজধানীর ভাড়া বাড়িতে। আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও পুরান ঢাকার ক্লান্তিকর যানজট ঠেলে শিক্ষকদের পাঠদান ও একাডেমিক গবেষণায় নিয়োজিত থাকা কতোটা কষ্টসাধ্য তা সহজেই অনুমেয়।
  11. সরকারকে অবিলম্বে শিক্ষার্থী সংখ্যায় তৃতীয় বৃহত্তম এই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি নজর দেওয়া উচিত। কোনো শিক্ষকের গায়ে গুলি বা কোনো শিক্ষার্থীকে পুলিশের নির্মম লাঠির আঘাত খুবই দুঃখজনক হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আবাসিক সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগই এর বাস্তব সমাধান।
  12. আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছে, হলের জন্য আমরা এর আগেও রক্ত দিয়েছি, প্রয়োজন হলে প্রাণও দিবো, তবু আমাদের বাস্থানের ব্যবস্থা করা হোক। আমরা কোন রক্ত চাই না। আমরা চাই সুষ্ঠ সমাধান।
  13. তাছাড়া এখানে রয়েছে শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতা ও পরিবহন সঙ্কট। সেমিনার কক্ষ ও গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ নয়। নামেমাত্র মেডিক্যাল সেন্টার, নিম্নমানের ক্যান্টিনে চড়া মূল্যের খাবার। এছাড়া খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। তারপরেও ইতিমধ্যেই শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ প্রিয় হয়ে উঠেছে এ বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুকদের পছন্দের তালিকায় স্থান পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রার এক দশকে শিক্ষার্থীদের কাছে অনন্য অবস্থান করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি এবং দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।
  14. প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে হল নির্মাণের সুস্পষ্ট ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবেন না জানিয়ে ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সব সময়ই আন্তরিক বলে আমার বিশ্বাস। তাই আসুন আমাদের সন্তানদের দাবিকে ‘হ্যাঁ’ বলি!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ, বিআইইউ (শিক্ষা ছুটিতে)

পিএইচডি গবেষক: ইন্টারন্যাশন্যাল ইসলামিক ইউনির্ভারসিটি মালয়েশিয়া

Email: robiulbiu@gmail.com

(Visited 11 times, 1 visits today)

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *