চরম ভোগান্তি!

চরম ভোগান্তি!

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। নামটির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক অনাবিল প্রশান্তি। বহুবার এই বিমান বন্দর দিয়ে যাওয়া আসার সুযোগ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন করে দিয়েছেন। কিন্তু বহুতল কার পার্কিং-এ এমন নির্যাতন লুকিয়ে রয়েছে তা গতকালই প্রথম টের পেলাম। পরিবার নিয়ে আসা যাওয়ার কারণে কার পার্কিং এ যেতে হয়েছে! কিন্তু গতকালের ভোগান্তি বিষয়ে সামান্য দু‘লাইন লিখছি।

একজন গুরুত্বপূর্ন মেহমানকে রিসিভ করতে নিজেদের একটি হাইস গাড়ি নিয়ে বিমান বন্দরে পোঁছালাম, আলহামদুলিল্লাহ। পার্কিং এর জন্য নিরাপদ স্থান হিসাবে বেছে নিলাম বহুতল কার পার্কিং বিল্ডিং এর ২য় তলা। সিঙ্গাপুর থেকে আগত একজন সম্মানিত মেহমান যথারীতি ল্যান্ড করলেন। তিনি এ্যারাইভালের ১নং গেট ব্যবহার করে বাহিরে আসলেন। তিনি পৌঁছানোর বিষয়টি বিমান বন্দরের ভিতর থেকে জানালেই আমি গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার চেষ্ঠা করলাম। কিন্তু বিধি বাম ২য় তলায় উঠা ও নামার একমাত্র পথ ব্যবহার করতে হয়। আমি ২য় তলার নামার মুখেই স্লপে আটকে থাকলাম। নীচে অসংখ্য গাড়ির দীর্ঘ লাইন। একটি গাড়িও নড়া চড়া করছে না।  মজার ব্যাপারগুলি হলো:

১. গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত উঠার একটাই মাত্র পথ।

২. ২য় ও ৩য় তলায় গাড়ি উঠা ও নামার জন্য খুবই অপ্রশস্ত একটি মাত্র পথ ব্যবহার করতে হয়।

৩. নীচ তলায় বিভিন্ন রো থেকে গাড়িগুলিও একটি পথে এসে ভীড় করে।

এমনভাবে প্রায় ২০-২৫ মিনিট একই যায়গায় গাড়ি নিয়ে অবস্থান করে কিছুটা ধৈর্য্যহারা হয়ে গাড়ি থেকে নীচে নেমে অনেক কষ্টে গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে খেয়ে সামনে অগ্রসর হতে লাগলাম। পরিশেষে মূল গেটের সাথে নামার রাস্তার মুখে এসে দেখি পুলিশ গাড়ি বের হতে দিচ্ছে না। সেখানে যা দেখলাম:

১. Departure (ডিপাটচার) যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া অসংখ্য গাড়ি মূল বিমান বন্দরের ২য় তলা থেকে একই পথে নামছে।

২.  এ্যারাইভালের যাত্রীদের গড়িতে উঠিয়ে অসংখ্য গাড়ি মূল বিমান বন্দরের নীচ তলা থেকে একই পথে নামছে।

এই সময়ে গাড়ির প্রচন্ড চাপ সহ্য করতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ বহুতল কার পার্কিং এর গাড়ি নামা বন্ধ রেখেছে। বিষয়টি অবাক করার মতো!

আমার গেস্ট বেলা ১১টায় নেমে ইমিগ্রেশন অতিক্রম করে ল্যাগেজ সংগ্রহ করে ১২.৫২ মিনিটে প্রথম কল দিয়েছেন। ঠিক সেই সময় থেকেই আমরা গাড়িটি বের করার চেষ্ঠা করছি। যাহোক, আমার ছোট্ট পরিচয় দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানালাম যে, আমার সম্মানিত একজন গেস্ট আছে তিনি ইমিগ্রেশনের সব ফরমালিটিজ সম্পন্ন করে বাহিরে অপেক্ষা করছেন। আর তাকে বহন করতে আমার গাড়িটিও বের করতে পারছি না। বিষয়টি জানা মাত্র মহান আল্লাহর ইচ্ছায় পুলিশ গাড়ির লাইনটি ওপেন করে দিলো। তার পরেও আমাদের বের হতে আধাঘণ্টার মতো লেগে গেলো। প্রায় ১ ঘণ্টার মতো গেস্ট কে অতিরিক্ত অপেক্ষা করতে হলো। সিস্টেমের কারণে বিষয়টির জন্য তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করলাম। তিনি নিজ থেকে বললেন, এটা আমাদের দেশের একটি নিয়ম হয়ে গেছে!

সরকারী টাকায় এমন দুর্বোধ্য বিল্ডিং! বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র না ঘুরলে সত্যিই মিস করতাম! আমি অসংখ্য দেশের বিমান বন্দরে যাতায়াত করে এবং তাদের পার্কিং দেখে মনে হয়েছে আমাদের দেশের এই পার্কিং বিল্ডিং টা যথেষ্ট দূর্বল আর্কিটেক্ট দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে। এর দূর্বলতাগুলি:

১. ২য় ও ৩য় তলায় উঠা ও নামার একটি মাত্র পথ।

২. ২য় ও ৩য় তলায় উঠা নামার একটি মাত্র পথ হলেও ডিভাইডার দিয়ে আলাদা করা নেই।

৩. বেশ কষ্টের সাথে গাড়ি উঠাতে ও নামতে হয়।

৪. পার্কিং-এ নামার পথটি রাস্তার সাথে যেখানে মিশেছে সেখানে একাধিক পথের অসংখ্য গাড়ির মুভমেন্ট। ফলে পার্কিং এর গাড়ি নামা বন্ধ রাখতে হচ্ছে বা গাড়ি খুব স্লোভাবে রাস্তায় প্রবেশ করাতে হচ্ছে।

এবার পার্কিং এর ভিতরের দুর্বলতা:

১. ৩ ঘণ্টার জন্য ১০০ টাকা ধার্য করেছে সেটা মোটেই বেশি নয় কিন্তু ভিতরের পরিবেশটি খুবই নোংরা।

২. কোন প্রকার ম্যানেজম্যন্টে ভেতরে দেখা যায়নি।

৩. চালকগণ যে যেভাবে পারছে গাড়ি রাখছে।

৪. এলোমেলো ভাবে রাখা গাড়ি বের করাও বেশ কষ্টকর।

৫. বিল্ডিং এর স্পেস অনেক কম।

 

যাহোক, আমি মনে করি:

১. বড় আকারের ডিজিটাল পার্কিং করা এখন বাস্তবতার দাবি।

২. বর্তমান পার্কিং এর প্রবেশ মুখেও বেশ জ্যাম থাকে তাই এখানেও ম্যানুয়েল এর পরিবর্তে ডিজিটাল ভাবে টাকা সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. এর ভিতরের বাথরুমটি খুবই নাজুক অবস্থা সেটির উন্নতি করা প্রয়োজন।

৪. ভিতরের ম্যানেজম্যান্ট ইফিসিয়েন্ট হওয়া জরুরী।

৫. চালকদেরকেও সুন্দর সারিবদ্ধভাবে গাড়ি রাখা প্রয়োজন।

সকলকে ধন্যবাদ।

(Visited 12 times, 1 visits today)

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *