পাত্রী দেখা

পাত্রী দেখা

মোঃ রবিউল ইসলাম

 

 

 

 

বিভিন্ন বিষয়ে ৫০টি কবিতা

জুন ২০২০

 

 

 

বর্ণমালা-০২

 

প্রকাশক

বর্ণমালা প্রকাশনী

আরাফাত আবাসিক এলাকা

খুলনা

 

 

কপি রাইট

লেখকের নিজস্ব

 

প্রথম প্রকাশ

জুন ২০২০

 

অনুপ্রেরণায়

মোসাঃ মনিরা খাতুন

মোঃ রফিকুল ইসলাম

আসিফ নেওয়াজ

 

কম্পোজ

মোঃ হালিমুল আলম

 

ডিজাইন

আবিদ ও মিম

 

কভার ডিজাইন

তাজ ও নাঈম

 

মূল্য

২৮০ (দুইশত আশি টাকা মাত্র) US $5

 

ISBN

…………………………………….

 

Precaution

No part of this book can be reprinted, photocopied or distributed in any form or by any means without the earlier written permission of the publisher.

 

 

 

 

 

 

 

 

 

উৎসর্গ

আমার সকল প্রিয় ছাত্রছাত্রীকে

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


পরিবার থেকে নেওয়া

কূটিল মানুষের মনটা অন্ধকারাচ্ছন্ন। তাই তারা আবোল তাবোল বলতে দ্বিধাবোধ করে না। মিথ্যা তথ্য দিয়ে আপন একজনকে অন্যজনের চোখে বিভীষিকাময় করে তুলতেও তাদের বুক কাঁপে না। অনেক ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের ভূয়া কাগুজে সনদ নিয়ে বাহাদুরি দেখলে অন্তরাত্না কেঁপে ওঠে। তারা রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধাগুলোও কাজে লাগাচ্ছে। তাই এই মহান প্রয়াসের মাঝে আমার পরিবারের যুদ্ধকালীন অবদানটাকে সারসংক্ষেপ করতে ভুললাম না। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমার স্নেহময়ী মায়ের সাথে আমারও মৃত্যুর প্রহর গুণতে হয়েছিলো। যুদ্ধরত বাবার খোঁজে পাকিস্তানী হানাদাররা স্বদেশী দোসরদের সহায়তায় আমাদের গ্রামের বাড়ি ঘেরাও করে বাবাকে না পেয়ে আমার জীবনের একান্তানুভূতি মা’কে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো সাথে আমার একান্ত প্রিয় দাদীকেও। আমি তখন খুবই ছোট্ট। কেবল বসতে শিখেছি। আমার মায়ের পবিত্র কোলে বসে আমাকেও সেদিন যেতে হয়েছিলো। প্রায় ৫কিলোমিটার পথ আমার জন্মদাত্রী মা’কে আমাকে কোলেরতাবস্থায় ও দাদীকে হায়েনারা অমানবিক কষ্ট দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়েছিলো। এবার তাদের ক্যাম্পে মায়ের ও দাদীর অবস্থান ঠিক করে দিলো। আমি খুব কাঁদছিলাম তাই হায়েনারা একদোলা মিছরি দিয়ে মায়ের নিকটে বসিয়ে রেখেছিলো। কি ভয়ার্ত দৃশ্য! একটু পরেই লোলুপ জানোয়ারেরা প্রাণপাখি তিনটি সংহার করবে। বন্দুকের তাক! যেন আত্না শুকিয়ে যাচ্ছে। মায়ের অস্থিরতা বেড়ে যাচ্ছে। মা একনিবিষ্টভাবে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে স্মরণ করছে। অন্যদিকে আমার আব্বার কথাটাও বার বার মনে করছে। যুদ্ধকালীন সময়ে এমন অরাজক পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য খুবই স্বাভাবিক ছিলো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সাহেব যখন ২৬শে মার্চ  প্রথম প্রহরে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন তখন থেকেই আব্বার মনে এই অঞ্চলকে স্বাধীন করার দৃঢ় মানষিকতা পোষণ করতেন। তার ফলশ্রুতিতে যুদ্ধের শুরুর দিকে বাংলাদেশের সাতক্ষীরার ভোমরা আর ভারতের ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত পাড়ি জমিয়ে ওখানকার নাকুয়াদহ ট্রেনিং ক্যাম্পের প্রধান ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর সাহেবের তত্বাবধানে প্রাথমিক ট্রেনিং গ্রহণ করে দেশে ফিরে আসেন আর ঝাঁপিয়ে পড়েন মহান মুক্তির সংগ্রামে। মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতে সেদিন মা, দাদী ও আমার মুক্তি মিলেছিলো কিন্তু যুদ্ধ শেষ করেই তবে আমার বাবার মুক্তি মিলেছিলো। আমার এতিম বাবা আমার দাদীর একমাত্র পুত্র সন্তান হওয়ার ফলে তার (দাদীর) পরামর্শে (রাজাকাররা তোকে এখন মেরে ফেলবে) মুক্তিযুদ্ধের সনদ গ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলো। দাদীর নির্দেশ মানতে আমার বাবা সেটা আজো গ্রহণ করেননি। আর আজ আমার ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা সেটি হয়তো কোন দিন গ্রহণ করবেন না। কিন্তু সত্য কোনদিন চাপা থাকে না। আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি সেটিই অনেক প্রাপ্তি ও তৃপ্তি। আর আমার ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া ছদর চাচাকে (আমার দাদার আপন ভাইয়ের পুত্র) পকিস্তানী হায়েনারা তার প্রাণপ্রিয় সাতক্ষীরা সরকারী কলেজ গেইট থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছিলো। আমরা তার লাশটি আজও পায়নি। আমার ঐ দাদী মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত তার স্নেহের ধন, বুকের মানিক, কলিজার টুকরাকে পাওয়ার জন্য খুবই কেঁদেছেন। শহীদ ছদর চাচা আজ তোমার তপ্ত রক্তমাখা প্রিয় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু জাতি তোমাকে সেই শ্রদ্ধা দেখাতে পারিনি। আমার পরিবার স্বাধীনতা যুদ্ধে রক্ত ঝরানো পরিবার, আমার পরিবার যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা পরিবার, আমার পরিবার যুদ্ধকালীন কষ্ট স্বীকার করা পরিবার, আমার পরিবারকে নিয়ে আমি গর্বিত।

 

সূচিপত্র

 

ক্রমিক নং কবিতার নাম পৃষ্ঠা নং
নদী  
নবরত্ন  
ছিঃ হাতটা সরান  
আবার ঢাকা চল  
হিজাব  
তুমি ভালো  
জঞ্জাল  
খন্ড শুরু  
ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ  
১০ মায়ের পথ চেয়ে থাকা  
১১ রাঁধুনি  
১২ যাত্রী  
১৩ ত্যাগী মা  
১৪ ধন্য ভাবী  
১৫ নোংরা  
১৬ প্রতিবাদ  
১৭ খোকার কষ্ট  
১৮ নির্মম নিষ্ঠুরতা  
১৯ বাঁধ  
২০ সত্যিই তুমি মা  
২১ শহীদ পাগল  
২২ দাদা  
২৩ চাঁদের আলো  
২৪ ইকরা  
২৫ আয়াজ  
২৬ ভূমিকম্প  
২৭ হজ্জ  
২৮ আড্ডা  
২৯ মহৎ মানুষ  
৩০ চাষা  
৩১ বাঙাল  
৩২ পেটুক  
৩৩ আপন  
৩৪ তাওয়াফ  
৩৫ ফিরে এসেছে  
৩৬ মৃত্যু মিছিল  
৩৭ বদর যুদ্ধ  
৩৮ ঈদে ঘরে ফেরা  
৩৯ ঈদের টিকেট  
৪০ পাত্রী দেখা  
৪১ হাসান ভাই  
৪২ অপমান  
৪৩ ছোট্ট বোন  
৪৪ আমরা মানুষ  
৪৫ বেচারি মিলন  
৪৬ লাইলাতুল কদর  
৪৭ ফিরিয়ে দে  
৪৮ বাচ্চা  
৪৯ লাশ  
৫০ দুর্নীতিবাজ  

 

 

. নদী

ছোট্ট নদী এঁকে বেঁকে

চলেছে গাঁ বেয়ে,

কাশফুলেতে ঘেরা পাড়

নৌকা চলে ধেয়ে।

 

ছেলেরা সব লাফায় পাড়ে

মাছেরা উঠে ভেসে,

গোসল শেষে নববধূ

দাঁড়ায় কূলে এসে।

 

নদীর পারে চরে গরু

রাখাল বাজায় বাঁশি,

ডুবছে রবি দূর আকাশে

অঙ্গে মধুর হাঁসি।

 

সুনীল আকাশ নদীর উপর

মেঘ যে থরে থরে,

উড়ছে পাখি নীল আকাশে

শুভ্র পাখার তরে।

 

চাতক পাখি জলের মাঝে

উঠবে প্রভাত রবি,

দুষ্টু মেয়ের নদীর ঘাটে,

বর্ণছটা ছবি।

 

. নবরত্ন

মুক্তির ঝান্ডা উড়িয়ে

রত্নেরা রেখে যায় স্মৃতি,

সবুজে দেখা যায় প্রায়ই

লিখে যায় তাদের কৃতি।

 

স্বপ্নেরা আমাদের আহ্বান,

দেশে হলো তারা খ্যাতিমান।

তিলে তিলে তারা হল সুমহান,

গেয়ে যায় জীবনের জয়গান।

 

গর্জনে ভূমি আজ অস্থির,

দেয়না তো বাজে কোন ঝম্প।

মুমিনের ওয়াদাততো সুনিপুন

কাপুরুষ ভয়ে দেয় লম্ফ।

 

. ছিঃ হাতটা সরান

তোমার হাতের ছোঁয়া নিয়ে

বাঁচতে চাই না,

তোমার মনের বাঁধন হয়ে

থাকতে চাই না।

 

ভাইটি তোমার দুষ্টু ছিলো

শাওন ছিল খাঁটি,

ছোট্ট নারী ঘরে এনে

সংসার হল মাটি।

 

অসভ্যতা ছড়িয়ে দিয়ে

নোংরা করো দেশ,

মোদের ঘাড়ে হাতটি দিয়ে

মজা করো বেশ।

 

অন্য মেয়ের বুকের মাঝে

নিজের মেয়ে পরের,

দুনিয়াটায় স্বর্গ ভেবে

আগুন জ্বালাও ঘরের।

 

কোরআন হাদিস মানতে হবে

করতে সমাজ শাসন,

দুনিয়ায় পাবে অনাবিল সুখ

জান্নাতে পাবে আসন।

 

. ঢাকা চল

চারিদিকে কলোরব চল চল ঢাকা চল,

অবিরাম স্লোগানে সরকার বেশামাল।

জনগণ খেপেছে সারা দেশ উত্তাল,

ফ্যাসিবাদী হঠাবে ঢাকায় জনঢল।

সরকারী বাহিনী র‌্যাব আর পুলিশে,

শত শত অস্ত্র ভরা থাকে গুলিতে।

হাতে হাতে রামদা, লাল নীল বাহিনী,

মহা এক তান্ডব, বেদনার কাহিনী।

নদীপথ, রাজপথ বন্ধ থাকবে,

ঢাকামুখী মানুষকে আটকে রাখবে।

জনতার একদাবী, সততার সরকার,

আর নয় গোলাগুলি অন্যায় বার বার।

 

. হিজাব

তোমার হিজাব ফেলল সাড়া জগৎ করে আলো

আমি সত্যকে জেনেছি
আমি সত্যকে বুঝেছি

আমার সত্য জানাতে কোন ভুল নেই।

বাবার হাত ধরে বড় হতে চেয়েছিলাম,

কিন্তু সামাজের বেহায়াপনা বাবাকে অন্ধ করে দিয়েছিল,

অসভ্য মেয়েটিকে বাবা হাতড়িয়ে ফিরেছিল,

আমার মা খুব কষ্ট পেয়েছিল,

বাবার নিকট থেকে মা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল,

আমি বাবার অসভ্যতাকে ঘৃণা করি,

আমার চাচার অসভ্যতাকে ঘৃণা করি,

এই সমাজের নগ্নতাকে আমি ঘৃণা করি,

এই সমাজ আমাকে অসভ্যতা শিক্ষা দিলেও

অসভ্য সমাজ আমাকে সত্যের আহ্বান করেছে।

আমি মুক্ত মনের নির্ভিক মানুষ

আমি আজিবন সত্যের পথে মানুষকে ডাকব,

সুন্দরের পথে মানুষকে ডাকব,

সবার কামনা হোক আমার চাওয়া।

 

. তুমি ভালো

বন্ধু, হাতটি বাড়িয়ে

আছো কেন দাঁড়িয়ে

একটু মনখুলে হাসো,

 

বন্ধু, তোমার হাতটি

এত নিরেট খাঁটি

একটু পাশেতে বসো।

 

আমাদের হাতা হাতি

আলোচনা রাতারাতি

হবে এক মনোরম আমেজে,

 

মুসলিম মেয়ে আমি

বেগানা পুরুষ তুমি

রবের ভয়ে গোনহার কাজ থামে যে।

 

হাতে হাত ধরেছি

লুকোচুরি খেলেছি

কত মজা স্কুল মাঠেতে,

 

জীবটা সুন্দর

কত ভালো অন্তর

কোন দিন পাইনি তা পাঠেতে।

 

আঁচলের মাঝে হাত

বের করা মহাপাপ

এত থাকে স্বামীর চরণে,

বাংলাদেশের তরে

হাত দুটি বের করে

কি হিসাব দেব আমি মরণে?

 

 

 

. জঞ্জাল

জঞ্জাল ঝাড়ু দাও

জঞ্জাল ফেলে দাও

জঞ্জাল জ্বালাতন

করে শুধু অকারণ

জঞ্জাল অমঙ্গল

জঞ্জাল করে করে

দেশ বাজায় বারটা

জঞ্জাল আবুলেরা

মাল করে নষ্ট

মরুভূমির দেশেতে

পুলিশি কষ্ট

বিদেশে ঘুরে ঘুরে

আপু মনি নিঃস্ব

দশ টাকা চাল খেয়ে

ডিম পাড়ে অশ্ব

জঞ্জাল মন্ত্রীর

আয়ু আর কতদিন

জ্বলছে সারা দেশ

দুর্নীতি অমলিন।

 

. খন্ড শুরু

খন্ড শুরু, খন্ড শুরু, আয়রে সবে আয়,

সাদা, দাদা, দখলবাজ, মজা করে খায়।

প্রতি খন্ড বেচব মোরা দামে খুবই কম,

খন্ড নিয়ে ব্যস্ত খুবই পড়ছে না তো দম।

ছাগল, পাগল চারিদিকে খন্ড নিয়ে গোল,

ধাঁধাঁ দিয়ে মানুষ ঠকায় ঢালব মাথায় ঘোল।

স্বপ্ন ছিল ওদের চোখে খন্ড হবে ঢাকা,

বিরোধিতা করলে পরে লাঠি দিয়ে ফাঁকা।

আরো কিছু স্বপ্ন আছে আমার খাবনামায়,

কেবা আছে পালন কালে লোকজনকে থামায়?

কেউ বা বসে ভাগ করে আর কেউ ভাবে চেয়ার,

কেউ বা বসে স্বপ্ন দেখে চেয়ার দখল নেওয়ার।

আমরা যদি না জাগি তো কেমনে দখল হবে,

দুই খন্ডে দখল নিয়ে ফিরব বাড়ি তবে।

নেতার চোখে স্বপ্ন ছিল ভূখন্ডকে পাওয়া,

চামচাদের স্বপ্ন ছিল লুটে পুটে খাওয়া।

স্বপ্ন তাদের পূরন হল খন্ড করে করে,

দেশের এবার খন্ড হবে প্লেট নেবে ভরে।

লোকটি তো ভীষন খুশি খন্ড বুঝি পাব,

বিনা বাধায় যুদ্ধ ছাড়া মজা করে খাব।

আয়রে ভাই, আয়রে বোন, ভাগ নিবি কে আয়,

সস্তা দামে সহজ ভাগ কে না পেতে চায়?

ওরা সবে খুশি অনেক এদের মনটি ভাঙা,

সরব কেহ খন্ড পেতে কেউ বা বলে রাঙা।

 

. ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ

আন্দোলন সংগ্রাম আজ নায্য অধিকার,

গণতন্ত্র ভঙ্গুর খেলায় চলিছে অত্যাচার।

গরম জলের সাজানো কামান, বাতাসে বারুদ গোলা,

ন্যায়ের মিছিলে পুলিশি বাঁধা, আইনের ঝামেলা।

খুন খুনে আজ সিঞ্চিত জমিন, গুমের রাজ্যে বাস,

সীসা পার্লারের অচ্ছন্ন ধোঁয়া, যুবকের সর্বনাশ।

সর্বগ্রাসী লীভ টুগেদার, নানান ধর্মে বিয়ে,

যৌনতার ঐ অক্টোপাশে জাতিকে যাচ্ছে নিয়ে।

মিথ্যা নাটক, মিথ্যা ছবি, যৌনের ছড়াছড়ি,

উলঙ্গতা, বেহায়াপনায় আজ ঢালছে যত কড়ি।

চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট দেশ, সুদে ঘুষে বেশামাল,

নাচে গানে দেশ ভাসছে যেন, দুর্নীতি মহাকাল।

মিথ্যা শাসন আর কতকাল, সত্য শাসক চাই,

নির্দয় ওরা মানুষ পেটায়, শাস্তিতে অসহায়।

মিথ্যা শাসক, মিথ্যা ভাষণ, মিথ্যার ঘণঘটা,

হঠাও বাতিল, হঠাও ভন্ড, ঝরুক আলোকছটা।

 

১০. মায়ের পথ চেয়ে থাকা

ঝম্ ঝম্ ঝম্ রেল চলছে, নির্ঘুম রাত, চোখে মুখে স্বপ্ন,

ভোর হয় হয়, এক্ষুনি ট্রেন থামবে ষ্টেশনে,

মুয়াজ্জিনের আজান ভেসে এল, ধীর গতিতে ট্রেন থেমে গেল।

কোকিলের চিরচেনা ডাক আর ভোরের আঁধারে বাড়ি পৌঁছে গেলাম।

মা! মাগো! সাথে সাথে মা দরজা খুলে দিল,

মায়ের মুখে রাজ্যের সুখ স্মৃতি,

মায়ের বুকে যেন সব সুখ অনুভূত হল,

খোকা তোর কষ্ট হয়নি তো!

পথে কোন অসুবিধা হয়নি তো!

লিলি, ময়না, মণি কে কোথায় আছিস?

তাড়াতাড়ি উঠে আয়, দ্যাখ কে এসেছে?

বাড়িময় যেন আনন্দে উদ্বেলিত!

ওযু করে নে! ফজরের নামাজ আদায় কর!

তোর জন্য মাছ ভেজে রেখেছি,

কবুতরের গোশ রান্না করে রেখেছি,

তেলে ভাজা পিঠা তৈরি করে রেখেছি!

খেয়ে নে!

মা যেন স্বর্গীয় চাঁদ হাতে পেয়েছে!

দীর্ঘ দিন পরে সন্তানের বাড়ি ফেরা!

সারাদিনভর মায়ের মিলন মেলা চলবে!

মায়ের অফুরন্ত ভালবাসায় সিক্ত হবে সন্তান!

 

১১. রাঁধুনি

মুগ্ধতায় মনটা ভরা

নূরের রান্না গুনে,

জিভে আমার জল যে এল

দাওয়াত দিবে শুনে।

 

রান্না তোমার অসাধারণ

সুগন্ধেরই আভা,

নুরের ছোয়ায় লাগল দোলা

কি যে দারুন শোভা!

 

বাটি ভরা শব্জি স্বাদের

গোশের ভূনা বেশ,

রান্না মানেই নূরের যাদু

পাগল করা দেশ।

 

আদর্শ এক রাঁধুনি তুমি

রাখবে দেশের মান,

সকল দেশে নূর ছড়াবে

তুমি হবে মহান।

 

১২. যাত্রী

ভীষন বিপদ, শেষের খেয়া

যাত্রী হল ঠাসা,

ভগ্ন মনে মাঝির সনে

একটু কি যায় বসা?

 

দেখল মাঝি, লোকটি ভীষণ

বিপদ মাঝে আছে,

বলল হেসে ডাবল ভাড়া

নিব তোমার কাছে।

 

হয়ে রাজি উঠল নায়ে

যাত্রী খুবই ধনী,

মাঝি ভাবে ডাবল ভাড়ায়

এবার হব গণি।

 

ঝড়ের রাতে শক্ত হাতে

পারাপারের খেলা,

আল্লাহ ছাড়া কে বাঁচাবে

বিপদেরই ভেলা।

 

অন্ধকারে দাঁড় বেয়ে যায়

বজ্র নিনাদ ভারি,

বৈঠা চালায় জোয়ার ভেদে

যেতে তাড়াতাড়ি।

 

নৌকা দুলে ভীষণ জোরে

তেজি ভীষণ ঝড়,

দরুদ পড়, কালিমা ধর

রবকে স্মরণ কর।

 

কালিমা মুখে অবশেষে

নৌকা এল কূলে,

খেয়া ঘাটে নামল সবাই

আল্লাহ পাককে ভুলে।

 

ও ধনী ভাই, যাত্রী তুমি

ভাড়া দিবে দ্বিগুণ,

ভাড়ার কথা শুনেই তিনি

রাগে হল আগুন।

 

সবার মত আমার ভাড়া

বলল তিনি ক্ষেপে,

আর যদি চাও দ্বিগুণ ভাড়া

ধরব তোমায় চেপে।

 

অবাক মাঝি চিন্তা করে

মানুষ নাকি কুকুর,

এমন মানুষ সামনে এলে

মারব মহা মুগুর।

 

বিপদ মাঝে পারে নিলাম

কষ্ট পেলাম শত,

পার পেয়ে তার উল্টো কথা

স্বার্থপরের মত।

 

বিচার করো আল্লাহ তায়ালা

রোজ হাসরের দিনে,

পৃথিবীময় এমন মানুষ

রাখবে ঠিকই চিনে।

 

১৩. ত্যাগী মা

এমন ত্যাগী মা!

কেহ কষ্ট দিও না!!

ঘুটঘুটে কালো রাত

চারিদিকে শুনশান নিরবতা

হঠাৎ অস্পষ্ট শব্দ কানে ভেসে এল

একজন সন্তান সম্ভবা মা কাতরাচ্ছে

ধীরে ধীরে কাতরানীটা স্পষ্ট হচ্ছে

মহান আল্লাহকে বার বার স্মরণ করছে

হে মহান আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর!

হে মহান আল্লাহ! আমাকে রক্ষা কর!

হে পরওয়ারদিগার! আমি আর সহ্য করতে পারছি না!

হে পরওয়ারদিগার! তুমি আর কষ্ট দিও না!

হে রহমান! আমার হৃদয়টা ফেটে যাচ্ছে!

হে রহমান! আমার কলিজাটা ছিড়ে যাচ্ছে!

তোমার মদদ চাই! তোমার রহমত চাই!

মায়ের নির্মম দোয়াগুলো তীরের মতো বিঁধছে,

আকাশ বাতাস মুখরিত করা বেদনাহত মায়ের কথাগুলো

যে কারো হৃদয় ছুয়ে যাবে।

মায়ের আর্তচিৎকারে উপস্থিত সবার চোখে জল এসে গেলো,

কেহ মায়ের শিউরে বসে সান্তনা দিচ্ছে,

কেহ বা মায়ের হাত দু’টা ধরে শান্ত হওয়ার উপদেশ দিচ্ছে,

কেহ বা পা দু’টাতে কোমল হাতের স্পর্শ বুলিয়ে দিচ্ছে,

মায়ের ছটফটানি হঠাৎ থেমে গেলো!

মা নিরব হয়ে গেছে!

সারা গায়ে ঘামের বিচ্ছুরণ!

মা হয়ত এক্ষুণি আর জাগবে না!

কিন্তু একি! সকল স্তব্ধতা ভেঙে সবার ঠোঁটের কোনে মৃদু হাসির স্ফূরণ,

থরে থরে রক্ষিত রক্তের মাঝ থেকে

ফুটফুটে এক গোলাপের কুড়ি বের করা হলো।

গোলাপ কুড়ি থেকে এখনও রক্তের নির্যাস ঝরছে,

মধুর আলিঙ্গনে গোলাপ কুড়িকে নরম তুলিতে জড়ানো হলো,

ঘোর অমানিশা ভেদ করে নতুন আলোয় উদ্ভাসিত হল চারিদিক,

এসেছে নতুন অতিথি তাকে দিতে হবে আসন,

একটু পরে মায়ের নড়াচড়া দেখা গেলো,

ছোট্ট সোনামণিকে মায়ের বুকে চড়ানো হলো,

মা তার কলিজা ছেড়া ধনকে বুকের সাথে চেপে ধরলো,

আদরের টুকরা, বুকের মানিককে জড়িয়ে

মায়ের শত সহস্র কষ্ট যেন দূরীভূত হলো।

মায়ের বুকের দুধে বাচ্চার দেহ শীতল হলো,

বাচ্চাকে তিলে তিলে বড় করল এই মা!

মায়ের এক ফোটা দুধের দাম শোধ করার সাহস কেহ দেখাতে পারব না!

মায়ের কোলে কত বার যে পায়খানা হয়েছে!

মা নিরবে সহ্য করেছে!

সন্তানের জন্য চোখের পানি ফেলে মা দোয়া করেছে!

সন্তানের অসুখে সারারাত্র জেগে মা সেবা করেছে!

আহ! কি নিঃস্বার্থ মা!

মায়ের নাড়ি ছেড়া আমরা সেই সন্তান!

সেই সন্তান হয়ে এই ত্যাগী মা’কে যদি কষ্ট দেই, বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাই

তবে এর চাইতে কষ্টকর! একজন মায়ের জন্য আর কি হতে পারে!

হে মহান রব সকল মুমিনা মা’কে তুমি জান্নাত দিও!

 

১৪. ধন্য ভাবী

ধন্য ভাবী, ধন্য তুমি;

সুনাম সারা দেশ

 

মিষ্টি ভাবীর হাতের পাকে

রান্না হল সারা,

সকল হাজি তৃপ্তি ভরে

খেয়ে পাগল পারা।

 

ডাল খেয়ে সব বেজায় খুশি

মাছে তৃপ্তি বেশ,

ধন্য ভাবী, ধন্য তুমি

সুনাম সারা দেশ।

 

তোমার হাতের পরশ পেয়ে

খাদ্যে সুবাস ভরা

যাবে না ভোলা মিষ্টি ভাবীর

এমন রান্না করা।

 

অবাক করা রান্না তোমার

রাধুনীতে সেরা,

দেশের তরে শ্রেষ্ঠ তুমি

সোনার আলোয় ঘেরা।

 

১৫. নোংরা

দুষ্টু মেয়ের দুষ্টামিতে

নোংরা করে ব্লগ,

প্রতিদিনের বাজে লেখায়

দেয় না সময় ক্লক।

 

নীচু মনের দুষ্টু হাতে

অনেক থাকে কথ্য,

ক’জন বোঝে মিথ্যা বুলি

থাকে না কোন তথ্য।

 

জন্ম যাদের অজন্মাতে

নেংটা তাদের কেহ,

নোংরামিতে চিন্তা তাদের

ব্যবসা নিয়ে দেহ।

 

কুত্তা চলে হেলে দুলে

দুষ্টু মেয়ের তালে,

তাদের দেখে অবাক লাগে

তিলক এঁকে গালে

 

পরিমলের প্রিয় তারা

দেহ পসরা করে,

ওদেরকে নেংটা ভেবে

হামলে এসে পড়ে।

 

ভালোমানুষ ঘরে এনে

স্ত্রী আদর কত!

দ্বীন ঈমানের শিক্ষা দিবে

শান্তি অবিরত!

 

১৬. প্রতিবাদ

ওহে ভাই ওরে দাদা

এক কাতারে শরীক হ!

ওহে মর্দে মুমিন

ওঠরে জেগে

কালিমা খঁচিত পতাকা ধর

শির উঁচু করে বলরে মুখে
আল্লাহু আকবার।

 

ওহে তরুণ ওঠরে জেগে

গর্জন কর তীব্রবেগে,

বজ্রভেদে চলরে হেঁকে

টিপাই হতে যাবে ভেগে।

 

ওরে চপল, ওরে যুবক

চলরে চল ক্ষোভে ফাটি,

টিপাই হবে রক্ষা তবে

ছাড়ব না এক ইঞ্চি মাটি।

 

ওহে মুসলিম বীরের জাতি

খীপ্র পায়ে সামনে চল,

টিপাই থেকে ফিরিয়ে দিয়ে

দুপা দিয়ে ওদের মল।

 

ওহে দ্বীন ঈমানের প্রহরী

মাতৃভূমি বাঁচিয়ে রাখি

চলরে চল ঝাপিয়ে পড়ি,

নইলে মরুভূমিতে কাঁদাবে আঁখি।

 

ওহে বিশ্বাসী, ওহে দেশপ্রেমিক

বিশ্বসঘাতককে মাররে লাঠি,

টিপাই মুখ রক্ষা কর

মুক্ত কর দেশের মাটি।

 

ওহে মজলুম তুই শক্তহ
দুশমনকে কররে খতম

টিপাই দিলে পুড়বে এদেশ

করতে হবে শোকের মাতম।

 

ওহে রবের গোলাম চল এগিয়ে

সোনার দেশকে রক্ষা কর

শান্তি নয়, যুদ্ধ হবে

বঙ্গভূমির জন্য মর।

 

ওহে ভাই ওরে দাদা

এক কাতারে শরীক হ!

অত্যাচারীর করাল থাবা

চূর্ণ করে দেশ বাঁচা।

 

১৭. খোকার কষ্ট

খোকা তুই কেমন আছিস?

ওরা কি তোকে খুব কষ্ট দেয়?

আমি জানি তুই কোন দোষ করিসনি

তবুও ওরা মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে

ওরা তোকে মেরে ফেলতে চায়

তোর জনপ্রিয়তায় মুগ্ধ হয়ে ওরা হিংসা করে

ওরা তোকে আটকে রাখতে পারবে না

তোর মুক্তি কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

 

খোকা ওরা তোকে ভাল খেতে দেয় তো?

ওরা তোর চিকিৎসায় কোন অবহেলা করে নাতো?

তোর বুকের ভিতর নিয়ে কত আদর করতাম

তোকে গালে তুলে ভাত খাওয়াতাম

তোর গায়ে ব্যথা লাগবে বলে মাটিতে রাখতাম না

খোকা তোর জন্য মনটা বড় খাঁ খাঁ করে।

খোকা মহান আল্লাহ আমাকে ভাল রেখেছে

তুই সেই শেষ জানাজা কালে আমার পাশে ছিলি

সেই স্মৃতি নিয়ে আমি কবরে বেশ ভাল আছি

কিন্তু খোকা তোর কথা ভেবে ভেবে খুব কষ্ট হয়।

 

খোকা ওরা তোর কোন ক্ষতি করতে পারবে না

ওরা তোর অপমান অপদস্ত করতে চায়

ওরা তোর কন্ঠকে রোধ করতে চায়

ওরা তোর কোরআনের ব্যাখ্যা বন্ধ করতে চায়

ওরা তোর রাসূলের চলার পথ অবরুদ্ধ করতে চায়

আমার দোয়ার বরকতে ওরা কোনটিই পারবে না,

খোকা আমার মনে তোকে নিয়ে থাকে শংকা

সর্বদা বাজে মনে অকুতোভয় এক ডংকা।

 

খোকা ওরা তোকে খারাপ বলে

ওরা তোকে নারী ভোগী বলে

ওরা তোকে মানুষ খুনি বলে

ওরা তোকে মানবতাবিরোধী বলে

ওরা তোকে অগ্নি প্রজ্বলনকারী বলে

কিন্তু আমি মা সাক্ষ্য দিচ্ছি অকপটে

ওরা যা করছে তা করছে ক্ষমতার দাপটে।

 

১৮. নির্মম নিষ্ঠুরতা

মাগো! ও মাগো! তুমি কোথায় আছো?

তোমার মানিক দেখ জুতার তলে!

মাগো! দেখবে এসো মরন কালে!

নিষ্ঠুরতার যাতা কলে!

ক্ষুধায় কাতর মাগো আমি!

ক্ষুধার চেয়ে বুটটি দামী!

মাগো! কে দেবে মোর খাদ্য তুলে?

আদর করে আমার গালে?

 

মাগো! ও মাগো! তুমি কোথায় আছো?

ওরা মারছে আমার নির্দয় ভাবে!

মাগো! চুরি করেছি চরম অভাবে।

মাগো! কে দেবে মুখে খাদ্য তুলে?

দেশের সেবায় সব আছে ভুলে!

ওরা করছে শাসন মানুষ দলে!

পিষছে মানুষ বুটের তলে!

 

মাগো! ও মাগো! তুমি কোথায় আছো?

মাগো! খায়নি আমি গোটা দুই দিন!

শরীরটা মোর চলে না, খুবই ক্ষীন!

মাগো! ওরা হাত পা মোর দিয়েছে ভেঙে

আচমকা টেনে হেঁচড়ে এনে।

মাগো! হঠাৎ যেন পড়ল বাজ

আমার মাথায় ভেঙে আজ।

 

মাগো! ও মাগো! তুমি কোথায় আছো?

চুরির সাজা এত বড়!

অমানবিক নির্মমতায় জড়সড়!

ওরা ফেলবে মেরে তিলে তিলে

অত্যাচারী সকলে মিলে।

মাগো! যারা রাষ্ট্রীয় ধন করছে চুরি

এমন নজির আছে ভুরি ভুরি

তাদের সাজা হয় কিভাবে?

আমার চেয়ে তীব্রভাবে?

 

মাগো! যারা দেশের সম্পদ লুটে পুটে খায়

তাদের বিচার কিভাবে হয়?

মাগো! লুটেরা সব মাফ পেয়ে যায়!

সভ্য সমাজ, উঁচু তলা

দুর্নীতিতে পথ চলা

মাগো! সুশীল শাসন দেখতে কেমন?

মোর রক্ত মাখা মুখটি যেমন?

 

১৯. বাঁধ 

হে মহান পানি দাতা!

তুমি যদি একজন নারীকে জোর করে ধর্ষণ করতে

তাহলে অন্ততঃ সে একা খুব কষ্ট পেত!

 

হে মহান পদ্ম ভূষণ!

তুমি যদি সীমান্তে অসহায় ফেলানীর মত হত্যা করতে

তাহলে অন্ততঃ সে একা খুব কাতরাত!

 

হে মহান গণতন্ত্রকামী!

তুমি যদি আমাদের সব নদী দখল করতে

তাহলে অন্ততঃ মানুষ পানি পেত!

 

হে মহান ডক্টর!

তুমি যদি আমাদের মাতৃভাষা কেড়ে নিতে

তাহলে অন্ততঃ আমরা অন্য ভাষায় কথা বলতে পারতাম!

 

হে মহান দরদী!

তুমি যদি আমাদের কোন মন্ত্রীকে আকৃষ্ট করতে ঘুস দিতে

তাহলে অন্ততঃ উনি একা অন্যায়ের শাস্তি পেত!

 

হে মহান চিন্তাবিদ!

তুমি যদি আমাদের সুশিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে

তাহলে অন্ততঃ আমরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতাম!

 

হে মহান মানব!

তুমি যদি আমাদের বাঙালী সংস্কৃতি ধ্বংস করতে

তাহলে অন্ততঃ আমরা হিন্দি সংস্কৃতি নিয়ে বেঁচে থাকতাম!

কিন্তু হে বিশ্বাস ঘাতক!

তুমি আমাদের যৌথ নদীগুলোতে বাঁধ দিয়ে

আমাদের দেশকে মরুভূমি করেছো।

 

হে মহান দেশপ্রেমিক!

তুমি আমাদের দেশকে আর একটি মরুভূমিতে পরিণত করতে

টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে গর্ব করছো।

 

হে মহান লোভী!

তুমি আমাদের ট্রানজিট ব্যবহার করে রাস্তা নষ্ট করে

সুবিধা না দিয়ে লজ্জাহীনতার পরিচয় দিয়েছো।

 

হে মহান নেশাখোর!

তুমি তোমার যুবকদের মহান নেশায় ফেলে

আমাদের যুবকদের ধ্বংসের দারপ্রান্তে নিয়েছো।

 

হে জ্ঞানী!

তোমাদের নির্লজ্জ কাজ থামাও

আমাদের শান্তিতে থাকতে দাও।

 

 

২০. সত্যিই তুমি মা

সত্যিই তুমি মা!

তোমার নেইকো তুলনা,

তোমার হাতের পরশ পেয়ে

হই যে আনমনা।

 

কষ্ট তোমার জীবনভরে

দিচ্ছি মোরা অবিরত,

তোমার আদর ভালবাসা

পাচ্ছি মোরা শত শত।

 

হাতের উপর পায়ের ছাপে

ছলছে গাড়ি ধাপে ধাপে,

মায়ের বুকে ছোট্ট শিশু

আদরে ভরা ছোট্ট খাপে।

 

এমন মাকে কষ্ট দিলে

উঠবে তোমার চমকে পিলে,

ভালবাসায় জয় করিবে
মায়ের মন ভরিয়ে দিবে।

 

২১. শহীদ পাগল

(২০১১ সালে, হজ্বের সময় আমি সম্মানিত শহীদ হাসান ভাইকে রুমমেট হিসাবে পেয়েছিলাম তিনি খুবই ভাল কর্মঠ এবং মহৎ মানুষ। তার উদ্যেশ্য কবিতাটি লেখা।)

 

কাজ পাগল এক মহান মানুষ

কাজ নিয়ে সে থাকে,

ইবাদাতেও আল্লাহ পাগল

কাবার বাঁকে বাঁকে।

 

তাওয়াফ করে আপন মনে

মাতাফ ঘুরে ঘুরে,

আল্লাহ পাকের শেষ্ঠ তিনি

কুরআন পড়েন সুরে।

 

নবীর তরে সালাম বলেন

খুবই ভালবেসে,

দ্বীনের নবী জবাব বলেন

মিষ্টি হেসে হেসে।

 

আচারণে দরদ ভরা

ত্যাগে জুড়ি ভার,

আল্লাহ যেন হায়াত দেন

দোয়া কর তার।

 

হাজীর সেবায় মগ্ন তিনি

রান্না করেন বেশ,

চরিত্রে নিঁখুত তিনি

গুণের নেইকো শেষ।

 

ঘরে ঘরে এমন মানুষ

দিও মহান রব,

শহীদ পাগল কর্মে পাগল

দোয়া কর সব।

 

২২. দাদা

দাদার হাতে দাদা

দাদা হল সাদা,

দাদার চোখে কাঁদা

গালটি বেশ সাদা।

 

দাদাগো দাদা খাও কি?

গালে চড় পাও কি?

আমার দেশে পাই না

কোন দিনই খাই না

একটা যদি পেতাম

মজা করে খেতাম।

 

দাদাগো তোমার দোষ কি?

ঘুসের টাকা খাও কি?

ঘুস আমি খাই না

বাজার পানে যাই না

মূল্য বৃদ্ধি বুঝি না

সরকারী খাদ্য খাই

যেথায় যেটুক পাই।

 

দাদা গো দাদা গালটি লাল,

চড়ের চোটে বেশামাল।

তোমার চড়ে দুনিয়া জয়,

বাজার দর হবে না ক্ষয়।

 

তোমার চড়ে শিক্ষা নিবে

কম মূল্যে পণ্য দিবে।

এমন আশা বাংলাদেশে

পণ্য নেব হেসে হেসে।

 

২৩. চাঁদের আলো

মুখখানি তার চাঁদের আলো

মুক্তা ঝরে পড়ে,

দুধের শিশু দুধ না পেয়ে

আঙুল চুষে খায়,

দুধ খাওয়ারই অবসরে

ব্লগে দেখা যায়।

 

বধূর সাজে বসে আছে

নয়ানাভিরাম আঁখি,

স্বামীর বাড়ি যাবে চলে

সবার দিয়ে ফাঁকি।

 

অপূর্ব তার ঘোমটা খানি

দেখতে আঁকা বাঁকা

বড়ই মধুর ফুলগুলি তার

বাঁধন দিয়ে রাখা।

 

মুখখানি তার চাঁদের আলো

মুক্তা ঝরে পড়ে,

লেখার মাঝে দারুন সুধা

হৃদয় যেন কাড়ে।

 

ইক্লিপ্স  নামটি তাহার

নাকটি বাঁশির মত,

রহম কর আল্লাহ তারে

শান্তি অবিরত।

 

২৪. ইকরা

ইকরা শুনি কণ্ঠে নবীর

দারুন মধু মাখা।

মহান ঘরে জন্ম নবীর

জন্মে আলোক ছটা,

বারতা শুনি এতিম শিশুর

অশ্রু ফোঁটা ফোঁটা।

 

নূরের গুহা শ্রেষ্ঠ গুহা

নবীর রঙে আঁকা,

ইকরা শুনি কণ্ঠে নবীর

দারুন মধু মাখা।

 

পথে পথে পাথর কুচি

তোমার পায়ের ছবি,

কালিমা শুনি রবের তরে

পড়ছে দয়াল নবী।

 

প্রতিদিন নিশি ভেঙে

উঠছে যখন রবি,

ঘোষণা শুনি দ্বীন ঈমানের

তোমার নূরের ছবি।

 

রক্ত ঝরা বদর অহুদ

সবার বড় আপন

দোয়া শুনি রাসূল (সা.) পাকের

পাপ কর সব গোপন।

 

সূরের গুহা বড্ড উঁচু

দুনিয়া জোড়া খ্যাতি,

শব্দ শুনি রবকে ডাকার

ঝরছে যেন জ্যোতি।

 

আকাশ বাতাস পাহাড় কূলে

নবীর আভা মেলে,

কথামালা শুনি নবীর

দিচ্ছে রহম ঢেলে।

 

নবীর তরে দরুদ পড়

আল্লাহ পাকের মত,

পাপ মোচনে করবে সহায়

শান্তি অবিরত।

 

২৫. আয়াজ

মৃত্যু হল স্বপ্ন সুখের

ফিরবে না আর কভু,

পুত্র শোকে পাগলপারা

ক্ষমা কর প্রভু্।

 

আয়াজ! আয়াজ! মধুর স্বরে

ডাকছে মা তার ধীরে,

আয়াজ গেছে শান্তি নীড়ে

আসবে না আর ফিরে।

 

বাবার চোখে স্বপ্ন ছিল

আনবে আয়াজ খ্যাতি,

দেশ জুড়ে উঠবে রব

বিশ্ব জয়ের জ্যোতি।

 

শোক সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে

আয়াজ গেল চলে,

চোখের কোণে কান্না শুকায়

আয়াজ! আয়াজ! বলে।

 

ক্ষমা কর আল্লাহ মহান

পাপ কর সব গোপন,

বন্ধু তুমি শ্রেষ্ঠ সবার

তুমি খুবই আপন!

 

২৬. ভূমিকম্প  

ওরে পাপিষ্ট তুই পাপ ছেড়ে দে

আল্লাহর পথে নে শপথ,

পাপ কালিমা মোচন করে

আল কোরআনের ধররে পথ।

 

তোর সীমানা আল্লাহর হাতে

কর ইবাদত ভক্তিময়,

উচ্চ করে ধর পতাকা

কালিমারই হবে জয়।

 

তাওবা করার সুযোগ দিল

ভয় দেখিয়ে দয়াময়,

জাহান্নামের আগুন ভীষণ

হবে নাকো সেটির ক্ষয়্

 

ভূমিকম্পের কঠিন আঘাত

তান্ডবতার ঘূর্ণিঝড়,

আল্লাহ পাকের বার্তা কঠিন

বিনয় ভরে নামাজ পড়।

 

পৃষ্ঠ দেখাও গর্ব কর

শক্তিমানের শক্তিকে,

ভয়াবহ আজাব হবে

এক্ষুনি তুই মুক্তিনে।

 

ভূমিকম্পের শক্ত থাবায়

ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সব,

জুলুমবাজী, নিষিদ্ধ কাজ

দে ছেড়ে তুই ডাকরে রব।

 

২৭. হজ্জ

হজ্জ পালনে ব্রতী হও ধনী মুসলমান

ফরয কাজ করবে সবে খুবই সাবধান,

জ্বিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখে কার্যাবলী শুরু

আল্লাহর হুকুম যথাযথ, রাসূল সা. গুরু।

 

মক্কা হল কেবলা সঠিক করবে উপাসনা

আরাফাত, মুযদালফা, করবে গমন মিনা,

চুমু দিবে আসওয়াদে নিয়ম মেনে কর

তওবা করে, ক্ষমা পেয়ে, তবেই তুমি মর।

 

তাওয়াফ কর, পাথর মার, টিলাদ্বয়ে ছাই

কোরবানীর ঐ রক্ত মাঝে আল্লাহর দিদার পাই,

আদম (আ:) ; নূহ (আ:) পথ দেখাল কাবার জিয়ারত

রাসূল সা. হাঁটলেন ধরে তাদের মহান পথ।

 

অশ্লীলতা গোনাহের কাজ চিরতরে খতম

নিষ্পাপ বান্দা হবে করবে শুধু মাতম,

মকবুল হজ্জ উত্তম অতি রাসূল পাকের কথা

বেহেস্ত তার মহান দান আল্লাহ দিবেন যথা।

 

দোজখ হতে নাজাত দিবেন আরাফার দিনে

ইবাদতে কষ্ট করে দিনটি নিবে চিনে,

ইব্রাহিমের আ: স্মৃতি আছে দুনিয়া জোড়া খ্যাতি

রাসূল সা. হল শ্রেষ্ঠ মানব ছড়ায় নূরের জ্যোতি।

 

লাব্বায়িকা আল্লাহুম্মা লাব্বায়িক মহান প্রভুর শানে

তাওয়াফকারী সকল মানব ভক্তিসহ মানে,

পুণ্যবতী হাজেরা বিবি  ইসমাইলের (আ:) টানে

জমজম কূপ উঠল ভরে প্রভুর সাগর বানে।

 

আদম (আ:) হাওয়ার (আ:) মিলন হল আরাফাতের কোণে

চোখের পানি ফেললে পরে মহান আল্লাহতায়ালা শোনে,

আদম (আ:)-এর বংশধর আসবে আরাফাতে

কান্নাকাটি করবে সবে আল্লাহ খুশি তাতে।

 

মক্কা বিজয় চরম বিজয় পরম অনুভূতি

সব মানুষের মাঝে তাই ইসলামেরই জ্যোতি,

বিদায় হজ্জে রাসূল সা. পাকের সর্বশ্রেষ্ট বানী

বেহুশ জাতি ক’জনা মোরা আজকে সেটি মানি?

 

২৮. আড্ডা

আড্ডা পোষ্টে আড্ডা দিতে

সব ব্লগার আসে,

কেহ বা চুটে আড্ডা মারে

কেউ বা খক্ খকিয়ে কাশে।

 

নতুন নতুন আড্ডা বাজ

আড্ডা মারে বেশ,

আড্ডা মেরে সময় কাটে

ডুবলো যখন দেশ।

 

ভারত যখন টিপাই মুখে

করে জলের বাঁধ,

আড্ডা মেরে সব ব্লগার

মেটায় তখন সাধ।

 

হায়রে মোদের আড্ডা রে

অবাক চেয়ে রয়,

সকল নদী মরুভূমি

দেশের তরে ক্ষয়।

 

আসুন সবে আড্ডা দেই

টিপাই রক্ষার তরে,

ভারতকে হটিয়ে দিয়ে

শান্তি প্রতি ঘরে।

 

২৯. মহৎ মানুষ

আমাদের ভাসানী খুবই সাদাসিধে,

রান্না করে একা পিলে খুব খিদে।

এত বড় দেশ নেতা রান্নাও জানে,

ইবাদতে করে বসে রবের শানে।

 

ফারাক্কার প্রতিবাদে ভাষা তার গরম,

ক্ষোভে ফেটে উঠল সে হয়ে খুব চরম।

লং মার্চ লং মার্চ চল চল সবে,

বাঁধ ভাঙ জল আন অজু হবে তবে।

 

শোষনের হাতিয়ার নদী মেরে ফেলা,

বাংলার নদী নিয়ে তারা করে খেলা।

ওদের খেলার সাথী বাংলার ভাদা,

স্বাধীনতা বেঁচে দিব, নেবে নাকি দাদা?

 

জেগে ওঠ তরুনেরা ভাসানীর মত,

লং মার্চ হবে ভাই যাব শত শত।

উদ্ধার হবে সব জল ভরা নদী,

মহৎ মানুষের দোয়া থাকে যদি।

 

৩০. চাষা

পতাকায় হ্যিসু করছে

হতে পারে চাষা ভাইয়ের শক্তি অধিক,

কোমরের বাঁকা ভাব করে ধিক্ ধিক্।

পতাকায় হ্যিসু করা বাহাদুরী নয়,

দুই হাতে যন্ত্র বড় নিশ্চয়ই।

 

হ্যিসু করে লাল সবুজ কেহ যদি করে ক্ষয়,
তোমার হৃদয়টা ক্ষান ক্ষান হবে নিশ্চয়ই।

রাজাকার রাজাকার যত পার গাল,

তাদের মুখে হ্যিসু যত পার ঢাল।

 

কোন কোন পতাকায় হিস্যু করা হলো,

আমেরিকা প্রথম হবে সেই কথা বলো।

বন্ধু সেজেছে তারা স্বার্থের তরে,

রণতরী ভেসেছিল আগুন দিতে সব ঘরে।

 

স্কুল কলেজ আর ভার্সিটি মিলে,

পতাকায় হ্যিসু করা কোন গুরু বলে।

শত শত পতাকা দুনিয়াতে ভরা

সবটাতে হ্যিসু করে ধরা কর সরা!

মায়ের পাশের হ্যিসু পতাকার ছাদে,

সারা বিশ্ব ঘৃণায় মুখ বুজে কাঁদে।

হাতে হাতে হাত রেখে হওগো আপন,

অমুসলিমদের মনে দাওগো কাঁপন।

 

৩১. বাঙাল

আয় ছুটে আয় বাঙাল ভাইয়ের স্বজনেরই দল,

ঘোড়া থেকে পড়ে গেছে দ্রাবীড় বাঙাল

গায়ে ছিল পান্জাবী আর পরনেতে লুঙ্গি,

দেখতে লাগে ঠিক যেন ভাদা এক জঙ্গি।

 

মাথায় টুপি, মুখে দাঁড়ি, হাত দুটি তার খোলা,

দুষ্টু মেয়ে কাঁদছে শোকে নারী এক অবলা।

ধর্মমতে অগ্নিমুখো চিতায় মৃত বাঙাল,

ঠিক যেন সে খাঁটি ভাদা, অনন্ত এক কাঙাল।

 

পুড়বে এবার বাঙাল ভাই চিতায় শুয়ে শুয়ে,

দুষ্টুরা সব মিনারে যাবে পাপ যাবে সব ধুয়ে।

বাঙাল ভাইয়ের পরিনিতি এমন ঠিকই হবে,

রবই কেবল খবর রাখে সঠিক তারিখ কবে।

 

অবাঞ্চিত ঘোষণা কর সব ব্লগার মিলে,

দালালি বন্ধে হঠাও ভাদা শেষ করে দাও কিলে।

ইসলাম নিয়ে বললে কথা লাগে বিষের মত,

দুষ্টু ঠোটে শান্তি লাগে, সেঞ্চুরিতে শত।

 

৩২. পেটুক

খাইগো আমি লুটে পুটে

যেথায় যেটুক পাই,

সর্বলোকে তাইতো বলে

আসছে পেটুক ভাই।

 

দশের খাদ্য নির্দয় ভাবে

একলা পেটে পুরি,
খাদ্য পেতে প্লেট হাতে

সকল দুয়ার ঘুরি।

 

নিজের বাড়ি যেমন তেমন

পরের বাড়ি মেলা,

সর্বনাশা পেটুক আমি

খাই যে সারা বেলা।

 

স্ত্রী বলে পেটুক মশাই

নিজের হাড়ি ফাঁকা,

পেটুক মশাই বলে হেসে

খাদ্যের আছে ঝাঁকা।

 

পরের খাদ্য খাব আমি

এই করিলাম পণ,

জীবন গেলেও রাখব ধরে
নিজের সকল ধন।

 

৩৩. আপন

আমরা দু’জন খুবই আপন

যায় না থাকা একা,

আমার রুমে মাঝে মাঝে

করো তুমি দেখা।

 

বিয়ের পরে দু’জনাতে

আছি পাশাপাশি,

দূরে দূরে থাকলে বল

কেমনে ফোটে হাসি।

 

নবীর দেশে সুখের মিলন

এবার হবে নাতো,

নিজ দেশেতে ফিরে যেয়ে

মিলন হবে শত।

 

পাশাপাশি রুম যে মোদের

কেমন করে থাকি,

এপাশ ওপাশ সময় কাটে

বোজে না যে আঁখি।

 

এক রুমেতে মজা করে

খাওয়া দাওয়া চলে,

একটু আদর ভালবাসা

দেই যে হাসির ছলে।

 

বেডে বেডে লোক যে আছে

কেমনে প্রেম করি,

কষ্ট করে দমিয়ে রেখে

মনে মনে স্মরি।

 

গলাগলি করে মোরা

চলি পথে পথে,

দেয় না সাপোর্ট কোন জ্ঞানী

শরীয়তের মতে।

 

এক দড়িতে কাপড় শুকাই

শান্তি লাগে বেশ,

মনটি জুড়ায় লাগলে তোমার

ঘন কাল কেশ।

 

হজ্ব কর আর নামাজ পড়

পর্দা প্রথা চালু কর,

মনের পর্দা বড় জেনেও

নিজকে সবাই মেলে ধর।

 

ওদের জন্য দোয়া কর

মিলন হওয়ার তরে,

ফুটুক হাসি প্রতি মুখে

শান্তি ঘরে ঘরে।

 

 

৩৪. তাওয়াফ

(হারাম শরীফে বসে কাবা’কে সামনে রেখে কবিতাটি লেখা)

ছুটছে সবে বুক ফুলিয়ে

চাচ্ছে ক্ষমা খোদার,

দূর থেকে সব এসেছে ছুটে

পেতে তোমার দিদার।

 

কেহ বা হাঁটে বুক ফুলিয়ে

কেহ বা হাঁটে জোরে,

কেহ বা কাঁদে ক্ষমা পেতে

কাবার গিলাব ধরে।

 

রাতে দিনে করছে তাওয়াফ

ক্ষমা পেতেই হবে,

রবের নূরের পরশ পেয়ে

ফিরব বাড়ি তবে।

 

সাদা কালো নেই ভেদাভেদ

সবাই বড় আপন,

মাফ করে দাও মহান প্রভু

পাপ কর সব গোপন।

 

জিকির মুখে কান্না চোখে

হৃদয় করে নরম,

সকল গোনহা ক্ষমা পেতে

নেইকো কোন শরম।

 

৩৫. ফিরে এসেছে

উনি ফিরে এসেছে

সবার জন্য দোয়া করেছে

দীর্ঘ সফর, কষ্ট অধিক

আবহাওয়া বেশ গরম,

মহান রবের অপার কৃপায়

মনটি হল নরম।

 

কাবায় যেয়ে নামাজ পড়ে

তাওয়াফ দিলাম কত!

হাজার রঙের নানান মানুষ

পেলাম শত শত।

 

নবীর বাড়ি, নূরের পাহাড়

মন ভরিয়ে দিল,

সূর পাহাড়ের দীর্ঘ সিড়ি

চোখে পানি এল।

 

সালাম দিলাম নবীর সনে

জুড়িয়ে গেল প্রাণ,

জান্নাহ, বাকি, অহুদ, কুবা

আল্লাহ পাকের দান।

 

এহরাম হল হজের শুরু

মিনা প্রবেশ দ্বার,

আরাফাতে দোয়া কবুল

থাকে না গোনহা আর।

 

মুজদালিফা, জামারা হয়ে

তাওয়াফ দিলাম বেশ,

সাফা মারওয়া ছাই করে

ফিরলাম আপন দেশ।

 

ভাইটিকে দোয়া কর

হজ্ব কবুলের তরে,

আল্লাহ পাকের শান্তি আসুক

সব মুমিনের ঘরে।

 

৩৬. মৃত্যু মিছিল

সড়ক পথের বেহাল দশা

মুক্ত স্বাধীন দেশে,

খ্যাতিমান সব দিচ্ছে জীবন

দিগ্বিজয়ের বেশে।

 

কোথায় পাব ‘মুক্তির গান’

‘মাটির ময়না’ পাখি,

লাখো মানুষের স্বপ্ন হত

অশ্রুসিক্ত আঁখি।

 

রাস্তা তো নয় চন্দ্রপৃষ্ট

মানুষ কষ্টে মরে,

গুণী কেহ মরলে পরে

তাদের টনক নড়ে।

 

মায়ের বুকের ধন চলে যায়

বোনের বুকের মায়া,

স্ত্রীর হারায় শ্রেষ্ঠ বাঁধন

আঁকড়ে থাকে ছায়া।

 

শকুনগুলো রক্ত চোষা

আকাশে পানে চায়,

টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি

লুটে পুটে খায়।

 

গভীর শোকে হয় বলিয়ান

মৃত্যু খবর পেয়ে,

ত্যাগী নেতা, মন্ত্রী সবে

লাশের দিকে চেয়ে।

 

উড়াল রেল, পাতাল রেল

আবুল আবুল খেলা,

নৌকা চলে রাজপথেতে

মানুষ ক্ষ্যাপা মেলা।

 

ব্যথার শোকে কাঁদছে স্বজন

আবুল তখন হাসে,
মযার্দাহীন লোকটি কেবল

লাশই ভালোবাসে।

সারা দেশে মরণ ছোবল

বেহাল দশা সড়ক,

এমন ভাবে চললে তো দেশ

আসবে ‌’৭৪ এর মড়ক।

 

রক্তে রাঙা দীর্ঘ মিছিল

হচ্ছে বাতাস ভারি,

ভাঙছে হৃদয়, অটুট বাঁধন

বাড়ছে লাশের সারি।

 

৩৭. বদর যুদ্ধ

সত্য-মিথ্যার বিভেদকারী

স্মরণীয় ইতিহাস,

মুশরিকগণ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ

ইসলাম করবে সর্বনাশ।

 

কুসংস্কার অন্ধকার যুগ

আরব দেশের রীতি,

যুদ্ধ তারা করবে এবার

নয়তো কোন প্রীতি।

মহাসত্য প্রকাশ পেলো

রাসূল হল নায়ক,

তাদের উপর নেমে এলা,

যুলুম পীড়া দায়ক।

 

যুদ্ধ হবে হালকা সাজে

রসূল পাকের দল,

সৈন্যসংখ্যা, রণ সম্ভার

নেহায়েতই দুর্বল।

কুরাইশরা হাজার খানেক

তীর, ধনুক আর বর্ম,

আবু জাহলের হুংকার ভারি

উড়িয়ে দে ওর ধর্ম।

 

মুহাজির আর আনসার মিলে

চলল বদর পানে,

তুলল দু’হাত, অশ্রুসিক্ত

মহান খোদার শানে।

 

মুহাজিরদের পতাকা হাতে

শেরে খোদা আলী ।

সা’দ বিন মু’আয হলেন

আনসারদের ঢালী।

 

যুদ্ধ শুরু, তুমুল জোরে

আল্লাহ পাকের ভাষণ,

ভীত হবে না, চিন্তিত না!

পাবে বিজয়ীর আসন।

আল্লাহ পাকের ইচ্ছাটা বেশ

সত্য দ্বীনের প্রকাশ,

মুমিনদের চেষ্টা বলে

ইসলাম হবে বিকাশ।

 

মল্লযুদ্ধ শুরু হল

হামযা, শাইবার পরে,

আলী তখন ব্যস্ত ভীষণ

ওয়ালীদ বধের তরে।

 

রাসূল তখন দু’হাত তুলে

করল শুধু দোয়া,

তোমার শানে গাইবে কারা

দলটি গেলে খোয়া।

 

ঝাঁপ দিল সব মুমিন সেনা

কাফির নেতার পরে,

আবু জাহলের মৃত্যু দেখে

থর থরিয়ে মরে।

 

মুজাহিদগণ দ্বিগুণ বেগে

সত্তর জনকে মারে,

সত্তর জনকে বন্দী করে

পণ আদায় করে।

 

আদেশ দিলেন দয়ার নবী

ওদের মেরো না!

ওরা মোদের খুব প্রিয়

কাছের আপনজনা।

 

হক বাতিলের দ্বন্দ্ব সদা

করতে হবে যুদ্ধ,

লড়তে হবে ঠান্ডা মাথায়

হবে না কেহ ক্রুদ্ধ।

 

বদর রঙে হও আগুয়ান
ওহে বীর মুসলমান,
তোদের মাঝে এখনও আছে
মহান আল কুরআন।

 

৩৮. ঈদে ঘরে ফেরা

নাড়ির টানে চলছে ছুটে

আপন আপন ঘরে,

ঝুলছে যেন বাদুড় বেশে

পড়ে কি আর মরে।

 

টিকেট নাই, মূল্য চড়া

চড়বে সবে ছাদে,

ফিরব বাড়ি, করব ঈদ

পথ চেয়ে মা কাঁদে।

 

বাস, ট্রেন চলছে তেজে

জাহাজ দুলে দুলে,

কাঁপছে হৃদয় দুরু দুরু

যাচ্ছি কি ঠিক কূলে?

 

দ্বিগুণ ভাড়া, তিক্ত মেজাজ

রাস্তা বেহাল দশা,

তবুও ঈদে যেতে হবে

যদিও ছুটি কষা।

 

ঈদের খুশি ঘরে ঘরে

তাইত বাড়ি ফেরা,

দিনটি আনে ক্ষমার ডালি

খোদার প্রেমে ঘেরা।

 

৩৯. ঈদের টিকেট

আগাম টিকিট লম্বা লাইন

চান্দি গরম বাবার,

অন্তহীন ভোগান্তিতে

সঙ্গে নিয়ে খাবার।

 

টিকিট যেন সোনার হরিণ

নাকাল নগরবাসী,

বাস, লঞ্চ ও ট্রেনের টিকিট

কিনতে গলায় ফাঁসি।

 

টিকিট নেই, টিকিট নেই

রব উঠেছে জোরে,

ঈদের টিকিট কালোবাজারে

শুনলে মাথা ঘোরে।

 

দ্বিগুণ ভাড়া, আগুনসম

টিকিট পাওয়া ভার,

আগাম টিকিট মিলছে কচিৎ

স্বজন আছে যার।

 

দীর্ঘ লাইন, ঠায় দাঁড়িয়ে

ধরনা কাউন্টারে,

টিকিট হাতে পেতেই হবে

কেউ যেন না হারে।

 

টিকিট আশায় মেঝেতে শুয়ে

রাত কাটিয়ে পার,

কেউ পেয়েছেন, কেউ পাননি

এ লজ্জা কার?

 

র‌্যাব, পুলিশের বিশেষ টিমের

তদারকির ফাঁকে,

কালোবাজারির হাতে টিকিট

রয়েছে ঝাকেঁ ঝাকেঁ।

 

ঘরমুখো শত মানুষের

কষ্ট অবিরত,

মন্ত্রী-এমপি ধন্য সবে

সুখ যে তাদের কত!

 

ঝুলছে নোটিশ পাবে টিকিট

হাজারো লোকের ঢল,

টিকিট কম, রাস্তা ভাঙা

তবুও ঈদে চল।

 

৪০. পাত্রী দেখা

পাত্রী দেখার মহান কাজে যাত্রা হল শুরু,

ঐতিহাসিক ঘটনা এটি মনটা দুরু দুরু।

বিকেল বেলা নতুন সাজে হাজির হলাম যখন,

সোফায় বসেই পিচ্চি শ্যালির বকবকানি তখন।

 

উঁকি ঝুকি বারে বারে নতুন অনুক্ষণে,

অনুভবে উঠল যেন হৃদয় পুলক মনে।

 

বসে আছি আপন মনে হঠাৎ দরাজ গলা,

সালাম দিয়ে হাত বাড়াতেই এল নামের পালা।

 

নাম কি তোমার? খোকন সোনা মুচকি দিয়ে হাসি,

শৈশবের এই ডাকটি শুনে হালকা এল কাশি।

 

নাস্তা পর্ব আর ইন্টারভিউ বাবা ভাইয়ের কাজ,

জবাব দিলাম শান্ত মনে নেই যে কোন লাজ।

 

বেতন কত, বাসা কোথায় বাবা জিজ্ঞেস করে,

মিষ্টি হেসে বললাম সবই জিভ যে টুকু নড়ে।

জন্ম তারিখ কত বাবা? আসল নাকি নকল?

গান, কবিতা জান কিনা? খেলায় আছে দখল?

 

সাঁতার, খেলা সবই জানি, কবিতা আর গান,

এসব কাজে পারদর্শী রাখব জাতির মান।

 

এমন সময় মেয়ে এল রাজকন্যার সাজে,

প্রাণভরে দেখলাম তারে মিষ্টি চোখের লাজে।

 

প্রতিক্ষিত সেই কনে যে সামনে আছে বসে,

ছোট্ট সোনা মিষ্টি মেয়ে বসেছে যে কোল ঘেষে।

 

পানি নাই, শুকনো মুখে অবস দেহ মন,

ভেতর ভারি ধড় ফড়ানি কি যে সারাক্ষণ।

 

দৃষ্টি দিলাম, দৃষ্টি নিলাম, লক্ষ্য বারে বারে,

ঠোঁটের কোণে স্বচ্ছ হাসি মুক্তা যেন ঝরে।

 

নিঃসংকোচ চাহনি তার পূর্ণ দৃষ্টি মেলে,

নদীর পারের অপরুপা, দিয়েছে কেহ ঢেলে।

 

পড়ালেখার জিজ্ঞেসেতে উত্তর যথাযথ,

নার্ভাস আমি, ভাবছি একা, সে তো সহজ কত।

 

কুরআন, হাদিস, নামাজ কালাম খবর নিলাম যবে,

মিষ্টি হেসে বলল সে যে যত্নে করি সবে।

দোষ কি আছে? গুণ কি তোমার? করেছো কিতা ফাইন্ড,

ভাবলো এবার, বললো পরে, সেক্রিফাইসিং মাইন্ড।

দাঁতগুলো তার মুক্তাসম চমকে উঠার মত,

থোকায় থোকায় দাঁত সাজানো স্বচ্ছ ঝিলিক শত।

 

ডাক্তার হবে রোগীর সেবা পছন্দ ঐ পেশা,

আমি হলাম ভবঘুরে,  ঘোরাই আমার নেশা।

 

যৌথ, একক কোন পরিবার ভালবাস তুমি,

সব পরিবার মানতে পারি ঠিক যদি হয় স্বামী।

 

অবসরের মাঝে তোমার সময় কেমন কাটে,

মুচকি হাসি বলল আমি ঘুমাই শুধু খাটে।

ভ্রু প্লাক, ঠোট ব্লাক মতামত কি বল,

হারাম কাজের অংশ এটি, দারুণ জবাব এল।

সপিং করার সখ আছে তার বলল সরল সোজা,

বলল হেসে নয় বিলাসী, হব না মোটেও বোঝা।

 

মেয়ের ভাইয়ের মোদ্দা কথা বোনকে নিয়ে যাব,

তুমি এবার একা একা চুপটি করে ভাব।

 

বাড়ি এসে ভাবছি একা পাত্রী দেখা নিয়ে

এত হই চই, কল্পনা শেষ, করব এবার বিয়ে।

 

৪১. হাসান ভাই

পাত্র মোদের ব্লগার হাসান

শান্ত মেজাজ বেশ,
পাত্রী দেখে অবাক মনে,

বলছে দেখাও কেশ।

 

জামাই আদর, বেশ আয়োজন

ভয় কেন গো কর,

দেখে, শুনে, বুঝে তবে

হাত দুটিকে ধর।

 

এত দিনে মনে মনে

যার ছবিটি এঁকেছি,

নীচু মাথা, লজ্জাশীলা

তবুও যেন দেখেছি।

 

একটি জোড়া খুবই আপন

দশ মিনিটের কথা,

বিয়ের পরে বুঝলাম শুধু

ভালবাসার ব্যথা।

 

বিয়ের তারিখ বার্তা সুখের

দু’মাস পরে হবে,

দু’মাস নাকি দু’শতাব্দি

আসবে সেদিন কবে।

 

শুক্রবার দিনটি ছিল

আনন্দেরই ছটা,

বিয়ে হল মধুর বাণে

মহা ধূমের ঘটা।

 

বিয়ে হল এক দেখাতে
বিধির বিধান ভাল,
বন্ধন হল বড়ই কঠিন
জগৎ করে আলো।

চাচু হব মজা হবে
মিষ্টি সুরের ডাক,
মোদের হাসান উঠবে জেগে
বিশ্ব করে মাত।

 

বিয়ের আগে ইয়ের সাথে

বিনিয়োগ হল মিছে,

জুটি সবই আল্লাহর হাতে

ঘুরবে না আর পিছে।

 

হাসান ভাইয়ের দুখের দিনে

মমতা জানাই সবে,

অবিবাহিত ব্লগারের মাঝে

আসবে বিয়ের মজা কবে।

 

৪২. অপমান

অপমান তো চরম হলো

হাসান ভাইয়ের তরে,

দুঃখ শোকে সব ব্লগার

তকে শেয়ার করে।

 

মডারেটররা বড়ই ভাল

লিখতে বলেন বেশি,

হুশিয়ারী দেন যাকে তাকে

যখন যেথায় খুশি।

 

মেঘ ভাঙ্গা রোদটি যখন

মাথার উপর পড়ে,

দেশ প্রেমিক ব্লগাররা

একটু নড়ে চড়ে।

 

দুই ব্লগার সাহসী পুরুষ

হাসান ভাই ও মেঘ,

কোলাকুলি হবে এবার

রইবে না আর খেদ।

 

৪৩. ছোট্ট বোন

মুক্তা মালা গলায় পরে

পরল জরির শাড়ি,

মিষ্টি মুখে ছোট্ট বোন

গেল স্বামীর বাড়ি।

 

প্রথম দিকে বাড়ির সবে

করত খুবই আদর,

যৌতুক দিতে অপরাগ তাই

আর করে না কদর।

 

শ্বশুড়ি বেশ বদ মেজাজী

ননদগুলি বাঁকা,

এদিক সেদিক হলে কিছু

দেয় যে বঁকা ঝকা।

 

খেজুর পাতায় শোয়ায় তারে

খাবার খুবই অল্প,

কথায় কথায় চোখ রাঙানি

মাখায় তেল স্বল্প।

 

হরেক রকম কাজের ফাকেঁ

পায় না কভু আরাম,

স্বামীর কথা যথাযথ

ফোনে কথা হারাম।

 

যৌতুক হল মহা বোঝা

গরীব ভাইয়ের পরে,

আমার দেশের কত বোন

এমনি ভাবেই ঝরে।

 

সপ্তাহ পরে ফিরে এল

মুখটি করে ভার,

লক্ষ টাকা দামী গাড়ি

চাইছে স্বামী তার।

 

নির্যাতনে অসহায় তাই

ঝরছে চোখের পানি,

বোনটি আমার কতই ভাল

আমরা সবে জানি।

 

যৌতুক হল মহা বোঝা

কঠিন অভিশাপ,

তোমরা সবে চেচিয়ে বল

কিইবা তার পাপ।

 

৪৪. আমরা মানুষ

আমরা মানুষ বড়ই বেহুশ

পাপের খেলায় লিপ্ত,

ধ্বংস লীলায় মত্ত মোরা

কোরআন হাদিসে ক্ষিপ্ত।

 

সৃষ্টি সেরা শ্রেষ্ঠ মোরা

নামছি সবার নিচে,

শকুন কুকুর ঘৃণা করে

জন্ম তোমার মিছে।

 

গীবত করা মিথ্যা বলা

সবই তোমার কাজ,

খোদার দানে না শুকরী

নেইকো তোমার লাজ।

 

খাদ্যে ভেজাল ওজনে কম

করছো হাজার পাপ,

এমনি ভাবে চললে তোমায়

করবে কে গো মাফ।

 

ফাঁকি বাজি চাঁদা বাজি

করছো মানুষ সবে,

নিয়ম নীতির বালাই নাই

জাগবে তুমি কবে।

 

অন্যায়েরই সাজা পাবে

কঠিন বিচার দিনে,

চলবে তুমি ন্যায়ের পথে

হাদিস কোরআন চিনে।

 

তোমার ভাল মন্দ সবে

চলবে তোমার সাথে,

কোরআন দিয়ে চলবে তুমি

দ্বীনের নবীর পথে।

 

৪৫. বেচারি মিলন

একলা কিশোর, অসহায় তাই

মারিল সকলে মিলে,

এত্তটুকুন শরীরের ওপর

কিল-ঘুষি আর ঢিলে।

 

উপভোগটা দীর্ঘ হলে

পুলিশ পেত মজা,

পলকা শরীর থেঁতলে দিতে

তাইত কঠিন সাজা।

উপর্যুপরি আঘাত করে

চালাল হরর মুভি,

আজ্ঞা পালন করল সবে

কষ্ট হল খুবই।

 

ইটের আঘাত থেঁতলে মাথা

পিষ্ট হল দেহ,

অকারণে মারল সবে

রক্ষার নাহি কেহ।

 

পুলিশ বলেছে মাইরা ফালা

চিৎকার গগন জুড়ে,

লাঠির আঘাত গণপ্রহার

লাশ ফেলে দে ছুড়ে।

 

উন্মত্ত পাষন্ড সব

কাড়ল মায়ের ধন,

ঝরবে না আর অশ্রু ফোটা

এই হোক তাদের পণ।

 

৪৬. লাইলাতুল কদর

হাজার মাসের চেয়েও সেরা

রাতটি হল কদর,

রামযানেরই শেষ দশকে

খুঁজবে করে আদর।

 

ব্যাকুল ছিলেন রাসূল পাকে

খুঁজতে খোদার ক্ষমা,

ইবাদতে গুরুত্ব দিতেন

নিয়ে পরিজন, প্রিয়তমা।

 

কোমর বেঁধে রাতটি ভরে

জাগত খোদার শানে,

প্রচার ছিল ব্যাপক ভাবে

সর্ব মুমিন জানে।

 

কুরআন নাজিল করেন প্রভু

বরকতময় রাতে,

বিশ্ব ধরায় শ্রেষ্ঠ কিতাব

রাখবে ধরে সাথে।

 

শবে কদরের ইবাদতে

ছোট গুনাহ মাফ,

তওবা হবে অশ্রুভরে

করব না আর পাপ।

শবে কদরের বিশেষ দোয়া

মহানুভবের কাছে,

ক্ষমা তোমার শ্রেষ্ঠ ভূষণ

এ রাতেই তা আছে।

 

দুর্দশার মুক্তি দাও

তোমার পথের দিশা,

নুহের মত ডাকছি মোরা

বুকে নিয়ে তৃষা।

 

মজলুমের সাড়া দাও

প্রার্থনায় রত,

তোমার আছে মহান ক্ষমা

করছো শত শত।

 

আমরা অচল, চালক বিহীন

ছুটছি স্রোতের পাপে,

পাপীর দু’হাত খুঁজছে ক্ষমা

থরথরিয়ে কাপেঁ।

 

জালিম শাসক করছে শাসন

বাংলাদেশের বুকে,

আইনের হাতে লাঞ্চিত তাই

মরছে ধুঁকে ধুঁকে।

 

শ্রেষ্ঠ রাতে প্রভুর শানে

কামনা বার বার,

জালিম হবে নাস্তানবুদ

সিংহাসন চুরমার।

 

৪৭. ফিরিয়ে দে

রক্তঝরা সিক্ত জমিন

রক্তের হোলি বন্ধ হোক,

ফিরিয়ে দে মা তত্বাবধায়ক

রইবে না আর দুঃখ শোক।

 

সকাল সন্ধ্যা হরতালে

হাঁকছে সবে স্লোগান,

ফিরিয়ে দে মা তত্বাবধায়ক

গণতন্ত্র রবে অম্লান।

 

হাতে হাতে বন্ধনে সব

শক্ত করে তুলছে রব,

ফিরিয়ে দে মা তত্বাবধায়ক

ঝরবে না আর রক্ত, শব।

 

গোলটেবিল আর টকশোগুলো

আলোচনায় তুলছে ঝড়,

ফিরিয়ে দে মা তত্বাবধায়ক

শান্তি সুখের রাখতে ঘর।

 

শান্ত মেজাজ, সুস্থ মনে

দেশ চালাতে চান যারা,

ফিরিয়ে দে মা তত্বাবধায়ক

সবাই হবে আত্নহারা।

 

৪৮. বাচ্চা

অল্প বয়স হাল্কা সাজে

রূপের ঝলক বেশ,

বাচ্চাগুলো মিষ্টি বেজায়

পাগল করা কেশ।

 

পিতা মাতা আসতে হবে

বাচ্চাগুলো নিতে,

কোন ব্লগের নাম ঠিকানা

প্রমাণ হবে দিতে।

 

বাচ্চাগুলো কাশতে পারে

কাঁদতে পারে ভাল,

পেশাব আর পায়খানাতে

ব্লগ করে কাল।

 

দুধে ভরা ফিডার চায়

নইলে অঝোর কাঁদে,

শুকনা মুড়ি, চিড়া দিলে

ভেড়ার মত নাদে।

 

কঠিন বিপদ, মুছিবতে

আছি ক’দিন ধরে,

এস বি হতে বাচ্চা নিবে

নইলে যাবে মরে!

 

৪৯. লাশ

তোরা টেন্ডারবাজ

অর্থ কড়ি সাবাড় করে

মানুষ মারার খেলা

আমরা লাশের মিছিল দীর্ঘ হব

জমবে সারা বেলা।

 

তোরা ডাকাত

মানুষ মারায় লিপ্ত তোরা

আইনে অবহেলা

আমরা লাশের মিছিল দীর্ঘ হব

জমবে সারা বেলা।

 

তোরা চালক

গাড়ির নিচে পিষ্ট করে

দৌঁড় মেরে সব পালা

আমরা লাশের মিছিল দীর্ঘ হব

জমবে সারা বেলা।

 

তোরা চাঁদাবাজ

পকেট কেটে হত্যা করে

মজা করিস মেলা

আমরা লাশের মিছিল দীর্ঘ হব

জমবে সারা বেলা।

 

তোরা সন্ত্রাসী

গোপন খুনে তেজি তোরা

গুমের চলে খেলা

আমরা লাশের মিছিল দীর্ঘ হব

জমবে সারা বেলা।

 

তোরা ধর্ষক

ধর্ষন করে শ্বাসরোধ করে

নদীতে নিয়ে ফেলা

আমরা লাশের মিছিল দীর্ঘ হব

জমবে সারা বেলা।

 

তোরা পিকেটার

পাউডার দিয়ে পুড়িয়ে খতম

গরান কাঠের চেলা।

আমরা লাশের মিছিল দীর্ঘ হব

জমবে সারা বেলা।

 

 

৫০. দুর্নীতিবাজ

তুই দুর্নীতিবাজ, তোর ভাঙব শিরদাঁড়া

স্বাধীন জাতি শক্ত পায়ে খাঁড়া।

তুই দুর্নীতিবাজ, তোর ভাঙব শিরদাঁড়া

তুই মহাপাপী, তুই দেশের ক্ষতি

দেশটা অচল, নেইতো গতি

ওরে তুই দাঁড়া?

তোকে করব দেশছাড়া

স্বাধীন জাতি শক্ত পায়ে খাঁড়া।

 

তুই সেঞ্চুরিয়ান, তোর ভাঙব শিরদাঁড়া

তুই কলঙ্কিত, তুই অত্যাচারী

তুই নারী ভোগী, তুই অনাচারী

ওরে তুই দাঁড়া?

তোকে করব দেশছাড়া

স্বাধীন জাতি শক্ত পায়ে খাঁড়া।

 

তুই সন্ত্রাসী, তোর ভাঙব শিরদাঁড়া

তুই বর্বর, তুই পাষন্ড

তুই রক্তচোষা, তুই আঘাত করিস প্রচন্ড

ওরে তুই দাঁড়া?

তোকে করব দেশছাড়া

স্বাধীন জাতি শক্ত পায়ে খাঁড়া।

 

তুই দখলবাজ, তোর ভাঙব শিরদাঁড়া

তুই নির্দয়, তুই কাপুরুষ,

তুই হায়েনা, তুই অমানুষ

ওরে তুই দাঁড়া?

তোকে করব দেশছাড়া

স্বাধীন জাতি শক্ত পায়ে খাঁড়া।

 

তুই নাস্তিক, তোর ভাঙব শিরদাঁড়া

তুই বেঈমান, তুই হায়াহীন

তুই অন্ধ, তুই দ্বীনহীন

ওরে তুই দাঁড়া?

তোকে করব দেশছাড়া

স্বাধীন জাতি শক্ত পায়ে খাঁড়া।

 

তুই ঘুষখোর, তোর ভাঙব শিরদাঁড়া

তুই জানোয়ার, তুই মহাচোর

তুই বাটপাড়, তুই সুদখোর

ওরে তুই দাঁড়া?

তোকে করব দেশছাড়া

স্বাধীন জাতি শক্ত পায়ে খাঁড়া।

 

 

 

 

 

 

 

লেখক পরিচিতি

মোঃ রবিউল ইসলাম, ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জনের জন্য বর্তমানেInternational Islamic University Malaysia (IIUM)” তে অবস্থান করছেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে BBS Honors in Accounting and MBA major in Accounting-এ ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি Bangladesh Islami University ও Northern University Bangladesh এ অধ্যাপনা করছেন। তাছাড়া তিনি IIUM, মালয়েশিয়াতেও খন্ড কালীন চাকুরী করছেন। তিনি Accounting এবং Accounting Related বিষয়ের উপরে ১৫টিরও অধিক এ্যাকাডেকিম বই লিখেছেন। তিনি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দেশী ও বিদেশী নামকরা জার্নালে তার অনেকগুলি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি দেশী ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগদান করেছেন। তার পেশা সম্পর্কিত বেশকিছু ট্রেনিং এ তিনি যোগদান করেছেন। তিনি সাতক্ষীরা সদর থানার ভোমরা ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া গ্রামের মোঃ হারুন-অর-রশীদ ও হাসিনা খাতুনের জ্যেষ্ঠ পুত্র।

robiulbiu@gmail.com

 

 

(Visited 33 times, 1 visits today)

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *