বিজয়ঃ দূর্বাঘাসের শিশির বিন্দু

বিজয়ঃ দূর্বাঘাসের শিশির বিন্দু

মোঃ রবিউল ইসলাম

 

মোঃ রবিউল ইসলাম
বিজয়ঃ দূর্বাঘাসের শিশির বিন্দু

 

বিভিন্ন বিষয়ে ৫০টি কবিতা

জুন ২০২০

  

বর্ণমালা-০৬

 

প্রকাশক

বর্ণমালা প্রকাশনী

আরাফাত আবাসিক এলাকা

খুলনা

 

 

কপি রাইট

লেখকের নিজস্ব

 

প্রথম প্রকাশ

জুন ২০২০

 

অনুপ্রেরণায়

মোসাঃ মনিরা খাতুন

মোঃ রফিকুল ইসলাম

আসিফ নেওয়াজ

 

কম্পোজ

মোঃ হালিমুল আলম

 

ডিজাইন

আবিদ ও মিম

 

কভার ডিজাইন

তাজ ও নাঈম

 

মূল্য

২৮০ (দুইশত আশি টাকা মাত্র) US $5

 

ISBN

…………………………………….

 

Precaution

No part of this book can be reprinted, photocopied or distributed in any form or by any means without the earlier written permission of the publisher.

উৎসর্গ

আমার পুত্র আবিদ ও কন্যা মিমকে

 

পরিবার থেকে নেওয়া

কূটিল মানুষের মনটা অন্ধকারাচ্ছন্ন। তাই তারা আবোল তাবোল বলতে দ্বিধাবোধ করে না। মিথ্যা তথ্য দিয়ে আপন একজনকে অন্যজনের চোখে বিভীষিকাময় করে তুলতেও তাদের বুক কাঁপে না। অনেক ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের ভূয়া কাগুজে সনদ নিয়ে বাহাদুরি দেখলে অন্তরাত্না কেঁপে ওঠে। তারা রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধাগুলোও কাজে লাগাচ্ছে। তাই এই মহান প্রয়াসের মাঝে আমার পরিবারের যুদ্ধকালীন অবদানটাকে সারসংক্ষেপ করতে ভুললাম না। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমার স্নেহময়ী মায়ের সাথে আমারও মৃত্যুর প্রহর গুণতে হয়েছিলো। যুদ্ধরত বাবার খোঁজে পাকিস্তানী হানাদাররা স্বদেশী দোসরদের সহায়তায় আমাদের গ্রামের বাড়ি ঘেরাও করে বাবাকে না পেয়ে আমার জীবনের একান্তানুভূতি মা’কে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো সাথে আমার একান্ত প্রিয় দাদীকেও। আমি তখন খুবই ছোট্ট। কেবল বসতে শিখেছি। আমার মায়ের পবিত্র কোলে বসে আমাকেও সেদিন যেতে হয়েছিলো। প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ আমার জন্মদাত্রী মা’কে আমাকে কোলেরতাবস্থায় ও দাদীকে হায়েনারা অমানবিক কষ্ট দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়েছিলো। এবার তাদের ক্যাম্পে মায়ের ও দাদীর অবস্থান ঠিক করে দিলো। আমি খুব কাঁদছিলাম তাই হায়েনারা একদোলা মিছরি দিয়ে মায়ের নিকটে বসিয়ে রেখেছিলো। কি ভয়ার্ত দৃশ্য! একটু পরেই লোলুপ জানোয়ারেরা প্রাণপাখি তিনটি সংহার করবে। বন্দুকের তাক! যেন আত্না শুকিয়ে যাচ্ছে। মায়ের অস্থিরতা বেড়ে যাচ্ছে। মা একনিবিষ্টভাবে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে স্মরণ করছে। অন্যদিকে আমার আব্বার কথাটাও বার বার মনে করছে। যুদ্ধকালীন সময়ে এমন অরাজক পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য খুবই স্বাভাবিক ছিলো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সাহেব যখন ২৬শে মার্চ  প্রথম প্রহরে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন তখন থেকেই আব্বার মনে এই অঞ্চলকে স্বাধীন করার দৃঢ় মানষিকতা পোষণ করতেন। তার ফলশ্রুতিতে যুদ্ধের শুরুর দিকে বাংলাদেশের সাতক্ষীরার ভোমরা আর ভারতের ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত পাড়ি জমিয়ে ওখানকার নাকুয়াদহ ট্রেনিং ক্যাম্পের প্রধান ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর সাহেবের তত্বাবধানে প্রাথমিক ট্রেনিং গ্রহণ করে দেশে ফিরে আসেন আর ঝাঁপিয়ে পড়েন মহান মুক্তির সংগ্রামে। মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতে সেদিন মা, দাদী ও আমার মুক্তি মিলেছিলো কিন্তু যুদ্ধ শেষ করেই তবে আমার বাবার মুক্তি মিলেছিলো। আমার এতিম বাবা আমার দাদীর একমাত্র পুত্র সন্তান হওয়ার ফলে তার (দাদীর) পরামর্শে (রাজাকাররা তোকে এখন মেরে ফেলবে) মুক্তিযুদ্ধের সনদ গ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলো। দাদীর নির্দেশ মানতে আমার বাবা সেটা আজো গ্রহণ করেননি। আর আজ আমার ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা সেটি হয়তো কোন দিন গ্রহণ করবেন না। কিন্তু সত্য কোনদিন চাপা থাকে না। আমরা স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি সেটিই অনেক প্রাপ্তি ও তৃপ্তি। আর আমার ইন্টারমিডিয়েট পড়ুয়া ছদর চাচাকে (আমার দাদার আপন ভাইয়ের পুত্র) পকিস্তানী হায়েনারা তার প্রাণপ্রিয় সাতক্ষীরা সরকারী কলেজ গেইট থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করেছিলো। আমরা তার লাশটি আজও পায়নি। আমার ঐ দাদী মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত তার স্নেহের ধন, বুকের মানিক, কলিজার টুকরাকে পাওয়ার জন্য খুবই কেঁদেছেন। শহীদ ছদর চাচা আজ তোমার তপ্ত রক্তমাখা প্রিয় বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু জাতি তোমাকে সেই শ্রদ্ধা দেখাতে পারিনি। আমার পরিবার স্বাধীনতা যুদ্ধে রক্ত ঝরানো পরিবার, আমার পরিবার যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা পরিবার, আমার পরিবার যুদ্ধকালীন কষ্ট স্বীকার করা পরিবার, আমার পরিবারকে নিয়ে আমি গর্বিত।

 

সূচিপত্র

 

ক্রমিক নং কবিতার নাম পৃষ্ঠা নং
রাসূলের অনুসারী  
দাওয়াত  
রক্তাক্ত বর্ডার  
ক্ষ্যাপ্যা  
নতুনে পুরাতনের আলো  
সর্ষে ফুলে হৃদয় দোলে  
নতুন বইয়ের সুঘ্রাণ  
শীতের কাতরতা  
বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা  
১০ স্বাগতম ২০১৩  
১১ বিজয়ের আলিঙ্গন  
১২ আমরা যারা সুশীল  
১৩ আমি লিখতে আসেনি  
১৪ বিজয়ঃ দূর্বাঘাসের শিশির বিন্দু  
১৫ বিজয়ের দীপ্তিরেখা  
১৬ মনুষত্ব  
১৭ ওরা মসজিদ পুড়িয়ে দিল  
১৮ শুভ পরিণয়  
১৯ অমর শহীদ স্মৃতি  
২০ ২১১৩ সাল! শতবর্ষ পরে  
২১ বাংলার বাঘ! অভিনন্দন  
২২ এগিয়ে যাও সত্যের সেনানী  
২৩ নামাজী পুলিশ  
২৪ বিজয়ের প্রথম প্রহর  
২৫ জেগে ওঠো বাংলাদেশ  
২৬ শিশু পুত্রের জন্মদিন  
২৭ আগুনে পোড়া লাশের স্তূপ  
২৮ এক মুঠো ভাতের জন্য  
২৯ নির্লজ্জ বাণী  
৩০ কাবার চাবি  
৩১ মহান আল্লাহ  
৩২ যদি এমন হতো  
৩৩ আমার সোনার বাংলাদেশ  
৩৪ মাগো দোয়া করো  
৩৫ দুষ্টামি  
৩৬ বন্ধনে বন্ধু  
৩৭ ভাবুন  
৩৮ ক্ষমার পথে! কা’বার পথে  
৩৯ হায়রে বেচারা গরুঃ মহাকান্ড  
৪০ মালালারা রক্তাক্ত  
৪১ আহা’রে মা  
৪২ রক্ত ঝরা দিন  
৪৩ ঈদের সুখ ভাগ করে নেই  
৪৪ আবার এলো ঈদ!  
৪৫ ব্যথাতুর হৃদয়ে আরাফাতের ক্ষমা  
৪৬ কোরবানী ও ঈদ সভ্যতার প্রতীক  
৪৭ নমনীয়তায় অভিবাদন  
৪৮ দেশপ্রেমের সনদ  
৪৯ সুশাসক  
৫০ একটি সংগঠন  

 

 . রাসূলের অনুসারী

রাসূলের অনুসারীদেরকে স্বাগতম,
তোমরা রাসূলের যোগ্য অনুসারী,
বিশ্ব মাঝে তোমরা রত্ন,
তোমাদেরকে স্বর্গীয় অভিবাদন।

আমাদেরকে কণ্ঠ শুনাবে,
কোরআনের বাণী শুনাবে,
হাদিসের আলো ছড়াবে,
সেটাই কাম্য।

সমাজের অনাচার তোমরাই পারো ঝেটিয়ে বিদায় করতে,
নতুন দিনের প্রজন্মকে তোমরাই পারো সুন্দরের পথ দেখাতে।
সেই অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে,
হে মহান মানবেরা তোমদের দীর্ঘায়ু কামনা করছি,
সুস্থতা কামনা করছি।

 

. দাওয়াত

তোমার ইচ্ছা ছিল দেশ রক্ষার
কিন্তু শাসক গোষ্টি তা প্রতিহত করলো,
তুমি হাসি মুখে বরণ করলে কারাগারের প্রকোষ্ট
দোয়া করি তুমি স্বাধীন বেশে ফিরে আসবে।

দাওয়াতে তুমি ছিলে অগ্রগামী
তুমি ছিলে অনিন্দ্য সুন্দরের অধিকারী,
আজো আছো অনাবিল চরিত্র নিয়ে
কিন্তু তুমি আজ কারারুদ্ধ।

তুমি ফিরে আসবে বিজয়ী বেশে
এটাই সকলের কাম্য।

 

. রক্তাক্ত বর্ডার

স্বাধীনতা আজ প্রশ্নবিদ্ধ!

প্রিয় মাতৃভূমি আজ রক্তাক্ত!

বর্ডার আজ বদ্ধভূমি!

ফেলানীর মানে আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ!

সীমান্তে ফেলানীর ঝুলন্ত লাশ!

কাঁটাতারে যেন এক খণ্ড বাংলাদেশ ঝুলছে!

লাল সবুজের দোদুল্যমান পতাকা ঝুলছে!

রক্তের হোলি খেলাতে সীমান্ত রঞ্জিত!

প্রতিটি রক্ত ফোটায় বাংলাদেশ অপমানিত!

জাতীয় দিবসগুলোতে বর্বর হত্যাকান্ড!

ভারতীয়দের অবজ্ঞাসূচক হাসি!

ফেলানীর কবরে গাঁদা ফুল ফুটেছে!

এ ফুল লাল সবুজের পতাকায় আকাঁ!

থোকা থোকা হলুদ রঙের গাঁদাফুলগুলো হাসছে!

সে হাসি যেন কিশোরী ফেলানীর উপহাসের হাসি!

স্বাধীনতা রক্ষার নামে সকলে অবচেতন!

কোথায় আজ স্বাধীনতা রক্ষার চেতনা!

বিএসএফ আত্মরক্ষার জন্য গুলি!

কাকে? নিষ্পাপ বাগদত্তা ফেলানির!

না, মানবতা, মানবাধিকার মুসলিম দেশের জন্য বেমানান!

ওরা বলে ভারত আমাদের বন্ধু!

ধিক তাদের!

বন্ধুরা কোনদিন লাশ উপহার দিতে পারে!

এমন বন্ধুত্ব চাই না!

ধিক্কার জানাই পাষন্ড এই বন্ধুদের!

নিপাত যাক তাদের ভন্ডামী!

শুভবুদ্ধির উদয় হোক প্রতিটি বিবেকবান মানুষের!!

দেশ এগিয়ে যাক আপন মহিমায়!

 

৪. ক্ষ্যাপ্যা

ডিজেল পেট্রোলের দাম বেড়ে আগুন
জনমানুষ ক্ষেপে হচ্ছে দ্বিগুণ
করবে তারা হরতাল
ক্ষেপেছে সবাই বেশামাল।

ট্রাক বাস বন্ধ
তেলের দামে অন্ধ,
এবার বুঝি রক্ষা নাই
তেলের দাম কমানো চাই।

মানব মনে বড়ই ব্যথা
কার সনে’বা কইবে কথা
যেদিকে যায় সেদিকে চোর
ধরতে হবে দিয়ে দোর।

 

. নতুনে পুরাতনের আলো

নতুন বছরের স্বাদ!

তাহলে পুরাতনকে কি ছুড়ে ফেলবেন!!

পুরাতনকে ছুড়ে তুমি বলছো নতুন স্বাগতম,

দামি গাড়ি বিশাল বাড়ি সবই কিন্তু পুরাতন!

তোমার বাবা তোমার মা সবাই খুবই আপনজন

পারবে তুমি ছুড়তে তাদের বলে তাদের পুরাতন!

আদরেভরা সন্তানগুলি কতই হৃদয়ছেড়া ধন,

পারবে তুমি করতে তাদের অন্যায়ভাবে অপমান!

টাকাকড়ি, স্বর্ন, হীরক সবই অমূল্য ধন,

পারবে তুমি ছুড়তে এসব তুচ্ছ করে কান্ডজ্ঞান!

স্ত্রী তোমার ভালবাসা পুরান দিনের আগমন,

নতুন বর্ণের সূর্য্যচ্ছটায় করবেকি আজ অভিমান!

শালা শালি চোখের মনি ওরাই হলো তাজা প্রাণ,

পারবে তুমি ছুড়তে তাদের চক্ষু করে টান টান!

পুরানো দিনের শখের পেশা আনলো বয়ে সম্মান,

পারবে তুমি ছুড়তে পেশা নতুন দিয়ে বলিদান।

সবার চোখে পুরান বছর ফিরবে না আর কোনদিন,

কবির চোখে পুরান ভালো থাকবে তাহা অমলিন!

 

. সর্ষে ফুলে হৃদয় দোলে

ভরেছে মাঠে সর্ষে ফুলে
নয়ন জুড়ায় হৃদয় দোলে,
মেঘ মেদুরে হলুদ মেলে
ফুলের সুভাস দিচ্ছে ঢেলে।

গাছে গাছে ফুলের মেলা
ডাকছে ওরা করতে খেলা,
ফুলের মাঝে তারার ঝলক
হৃদয় মাঝে ছড়ায় আলোক।

এক নিমিষে হাজার তারা
দেখলে হবে আত্নহারা,
বাংলা জুড়ে হলুদে আঁকা
লাল সবুজের স্বর্ণ রেখা।

চাষীর হাতের নরম ছোয়া
অন্তরভরে করছে দোয়া,
সবুজের বুকে হলুদের মাঠে
ফসল এবার তুলবে বাটে।

 

. নতুন বইয়ের সুঘ্রাণ

ছোট্ট সোনার কচি হাতে নতুন বইয়ের থলে,

দুধ খায়নি ছোট্ট সোনা বই আনবে বলে।

নববর্ষের প্রথম দিনে বই পেলো সব হাতে,

খুশির জোয়ার বইছে মনে পড়বে দিনে রাতে।

আপু আঁকে ভাইয়া আঁকে প্রজাপতির ডানা,

আঁকছে তারা নতুন রঙে নেই যে কোন মানা।

স্বপ্নে বোনা ভালবাসায় জয় ছিনিয়ে নিবে,

স্বরবর্ণ ব্যাঞ্জনবর্ণ লিখেই তারা দিবে।

সংখ্যা শিখে হিসাব করে দেশ চালাবে তারা,

দেশের তরে কল্যাণ হবে বিজয়ে আত্নহারা।

নজরুলের ঝিঙে ফুল আর সকাল বেলার পাখি,

রবীন্দ্রনাথের সোনার বাংলায় জুড়ায় বুঝি আঁখি।

গন্ধে বইয়ের নতুন পাতার নতুন আশার আলো,

দেশ গড়ার দৃপ্ত শপথ পরান জুড়িয়ে গেলো।

ছোট্ট শিশু কোথায় তুমি ডাকছে আম্মু সোনা,

নতুন মনে নতুন ধ্যানে নতুন জাল বোনা।

পারবে এরাই দেশ গড়তে এরাই দেশের মান,

শস্য শ্যামলে ভরাবে এদেশ করবে সুকল্যাণ।

ধন্যবাদ আর অভিনন্দন সরকারকে বলি,

নববর্ষের প্রথম দিনে দিলেন বইয়ের ঝুলি।

এমনি ভাবেই সকল কাজে হাত বাড়তে হবে,

তবেই দেশের মঙ্গল হবে শান্তি বইবে তবে।

 

. শীতের কাতরতা

ওরা ফুটপাতে আমরা ঘরে
যত শীত সব ওদের পরে
ওরা কি পাবে না
উষ্ন কাপড়
ওরা কি পাবে না
খড়ের ঘর বা দালান কোঠা
ওরা ঘুমাচ্ছে কুকুরের পরে
মানুষ নামের মানবতা আজ
ঘুমায়ে পড়েছে সবার আগে।

 

৯. বিবাহ বার্ষিকীর শুভেচ্ছা

প্রথম দেখা প্রথম প্রেম
আনন্দেতে কাটল ক্ষণ,
মধুর মিলন হল তাদের
কাটাবে তারা সুখের জীবন।

রাজকীয় পরিবেশে
বিয়ে হল দৃপ্তিময়,
বিশ্বসেরা জুটি তারা
পেল যেন সেরা জয়।

দুনিয়াতে শান্তি তাদের
আখিরাতের নেইকো ভয়,
রবের ভয়ই আসল মজা
নেইকো তাদের কোন ক্ষয়।

 

১০. স্বাগতম ২০১৩

[নতুনের আলিঙ্গন! নতুন বছরের অভিনন্দন!]

স্বাগতম হে ২০১৩ সাল!

প্রথম প্রহরে অনন্ত ভালোবাসাসিক্ত ফুলেল শুভেচ্ছা

প্রতিটি ক্ষণ অতিবাহিত হোক শান্তির বারতা ছড়িয়ে

বিভেদ ভুলে মানুষের অন্তরে জাগুক দেশপ্রেম

লাল সবুজের পতাকায় অঙ্কিত হোক শান্তি

দেশের সার্বভৌম থাকুক অটুট,

রক্তপাত, হানাহানির হোক অবসান।

বিজয়ের হাসিতে ভরে উঠুক গোটাদেশ ।

 

প্রত্যয়দীপ্ত বছরটি হোক শান্তি, সমৃদ্ধির প্রতীক

সম্মুখে অগ্রসরের অনুপ্রেরণা

নতুন সূর্য্যের আলোকরশ্মিতে বিধৌত হোক জরাজীর্ণতা

সকল সমস্যা হোক দূরীভুত

আসুক জীবনের শ্রেষ্ঠ আলিঙ্গন

নতুন বাঁক, নতুন স্মৃতি।

সূচনালগ্ন হোক রোগ, শোক, বিষাদ, বেদনাহীন

প্রত্যাশিত শান্তি ফিরে আসুক বিশ্বময়

আলোর ঠিকানায় উদ্ভাসিত হোক আত্মবিশ্বাসীরা।

দায়িত্ব নিতে হবে নতুন বছরকে সুন্দররুপে সাজানোর

দেশের শ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোকে তুলতে হবে সাফল্যের চূড়ায়

মন মানসিকতায় আনতে হবে পরিবর্তন,

ভূল-ভ্রান্তির শিক্ষাগুলোকে লাগাতে হবে কাজে

তাহলেই বছরটি হয়ে উঠবে চিরস্মরণীয়।

 

নতুন বছরে গাড়তে হবে জীবনের খুঁটি

গড়তে হবে সোনার বাংলাদেশকে

স্থাপন করতে হবে মাইলস্টোন।

ঠিক করতে হবে গন্তব্যে পৌঁছানোর রাস্তা

সেটাতেই ফুলে ফুলে ভরে উঠবে জীবত্মা
অনাবিল সম্ভাবনার দেশ হবে বিনির্মাণ।

 

নতুন বছরটা হোক মিলেমিশে থাকার প্রতিশ্রুতি

মানুষের দুঃখ কষ্টে সহযোগিতা করার মানষিকতা

দুর্নীতিকে না বলার প্রবণতা

কারোর উপর জুলুম না করার প্রতিজ্ঞা

মিথ্যা রটিয়ে ও মিথ্যা রায়ের বিপক্ষে অবস্থান

অভিব্যক্তি হোক মতামতকে অবহেলা না করার

অন্যের অধিকার হরণ না করার

কারো উপহাস না করার

কাজে ফাঁকি না দেওয়ার

পুরানো বছরের টুকরো টুকরো স্মৃতি রোমন্থন করে

সবাইকে নববর্ষের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।

 

১১. বিজয়ের আলিঙ্গন

যোদ্ধার দেহের ফোটা ফোটা রক্ত গড়ানো বিজয়

বিধবার দেহে সাদা কাপড়ে মোড়ানো বিজয়

ভোরের পাখির কুহুতানে জাগানো বিজয়

মাকড়সার জালের আবরণ জড়ানো বিজয়

ভোরের শিশির বিন্দু ঝরানো বিজয়

আমরা তোমাকে ভুলব না!

 

তুমি আসবে

আবার আসবে

যুগ যুগান্তর ব্যাপী!

 

১২. আমরা যারা সুশীল

সুশীল মানে কি সত্য নিয়ে লুকোচুরি খেলা!

সুশীল মানে কি ইসলামের নামে মিথ্যা বলা!

সুশীল মানে কি অন্যায়ের প্রতিবাদে বিরত থাকা!

সুশীল মানে কি অন্যায়ভাবে বন্দী মেয়েদের বিপেক্ষে কথা রাখা!

সুশীল মানে কি লুটপাটের উৎসবে দৃষ্টি রাখা!

সুশীল মানে কি দুর্নীতির অনুকূলে অবদ্ধ রাখা!

সুশীল মানে কি ঘুসের রাজ্যে আনন্দে কাটিয়ে দেওয়া!

সুশীল মানে কি পতাকার মান বিনষ্ট করা!

 

১৩. আমি লিখতে আসেনি

আমি লিখতে আসেনি! আমি কলম চালাতে আসেনি!
আমি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার হুংকারে অত্যাচারী থামাতে আসেনি!
আমি রবীন্দ্রনাথের মত সোনার বাংলা রচিতে আসেনি,
আমি হল মার্কের মত চুরি করতে আসিনি,
আমি শেয়ার বাজার ধ্বংস করতে আসেনি,
আমি ডেসটিনি পথ চেয়ে থাকতে আসেনি,
আমি ফ্লাই ওভারের গার্ডার ভাংতে আসেনি,
আমি বিশ্বজিতকে চাপাতি মারতে আসেনি,
আমি মন্ত্রীর উপর জুতা মারতে আসেনি,
আমি লুটপাটের রাজনীতি করতে আসেনি,
আমি স্ত্রীকে তালাত দিতে আসেনি,
আমি স্কাই পি সংলাপ প্রকাশ করতে আসেনি,
আমি রাজপথ রক্তাক্ত করতে আসেনি,
আমি দুর্নীতি করতে আসেনি,
আমি মেধাশূন্য হয়ে চাকুরী করতে আসেনি,
আমি কুইক রেন্টালে ভাগ বসাতে আসেনি,
আমি খুন গুম করতে আসেনি,
আমি গণতন্ত্রকে হত্যা করতে আসেনি,
আমি ভারতীয় গোলামী করতে আসেনি,
আমি দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করতে আসেনি,
আমি ধর্ষণের সেঞ্চুরী করতে আসেনি,
আমি গোয়েবলসীয় মিথ্যা বলতে আসেনি,
আমি চামচামী করতে আসেনি,
আমি সৃষ্টি করতে এসেছি! দেশ গড়তে এসেছি!

 

১৪. বিজয়ঃ দূর্বাঘাসের শিশির বিন্দু

হে মহান বিজয়!
ভোরের উজ্বল নক্ষত্র তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
সকালের বর্ণিল আলোচ্ছাটা তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
কোকিলের সুস্বরের কলতান তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
দূর্বাঘাসের শিশির বিন্দু তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
মুয়াজ্জিনের আজানের সুমধুর তান তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
খেজুর রসের মিষ্টি ফোটা তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
আকাশে মেঘমালার কোলাহল তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
আলো বিচ্ছূরিত তারকামন্ডল তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
তাইতো তুমি স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হলে।

হে মহান বিজয়!
নববধূর কংকনের ঝংকার তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
কৃষক শ্রমিকের তপ্ত ঘাম ঝরানো দেহ তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
লেখকের কালির আঁচড় তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
ছোট্ট শিশুর গলা ফাটানো কান্না তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
কুমারী নারীর রুপ যৌবনা তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
ব্যবসায়ীর খাঁটি ওজনের পণ্য তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
মায়ের শাড়ির আঁচলের রঙ তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
তাইতো তুমি স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হলে।

হে মহান বিজয়!
রেসকোর্সে ময়দানে যোদ্ধারা স্বমস্বরে তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্না তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
বিধবার শুভ্রাবরণে গুমরে কান্না তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
সন্তানহারা মায়ের হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
নির্যাতিতা বোনের অমলিন মুখ তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
হানাদারের নির্জীব হৃদয় তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
লাল সবুজের পতাকা তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
তাইতো তুমি স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হলে।

হে মহান বিজয়!
বঙ্গবন্ধুর দৃপ্ত ভাষণ তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
মেজর জিয়ার বিপ্লবী ঘোষণা তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
শ্যামলীর অপরুপ শোভা তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
পদ্মা মেঘনা যমুনার জল তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
পশু পাখির বিক্ষিপ্ত বিচরণ তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
সাগরের ঢেউরাজি তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
ন্যায় বিচারকের বিবেকাত্না তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
সংবাদপত্রের ক্রোড়পত্র তোমাকে বলেছিল স্বাগতম,
তাইতো তুমি স্বমহিমায় উদ্ভাসিত হলে।

হে মহান বিজয়!
তুমি বার বার আসবে কলূষিত বিদ্ধেষ দূরীভুত করতে,
তুমি বার বার আসবে অত্যাচারীর খড়গহস্ত প্রসমিত করতে,
তুমি বার বার আসবে দুর্নীতি নিমূল করতে,
তুমি বার বার আসবে শান্তির অমীয় সুধা পান করতে,
আমরা তোমার কল্যাণ কামনা করছি।

 

১৫. বিজয়ের দীপ্তিরেখা

হে বিজয় তোমাকে স্বাগতম!

তোমার আগমনে লাল সবুজে অংকিত পতাকা,

শকুনী থাবাহীন মানচিত্র,

অত্যাচারীর খড়গহীন শাসন,

দরদেভরা উৎকৃষ্ট শাসক,

শষ্য শ্যামলা প্রকৃতির সুবাতাস,

প্রতিটি হৃদয়াবারণে দোল খাচ্ছে।

 

হে বিজয় তোমাকে স্বাগতম!

তোমার আগমনে সার্বোভেৌম রাষ্ট্রের উদয়,

ভাবনাহীন শান্তি প্রতিভাত,

দরিদ্রহীন মানবতার আবাসস্থল,

সন্ত্রাসহীন জনপদে জীবন যাপন,

দুর্নীতির বিষমুক্ত প্রতিটি বিভাগ,

আমাদের মাতৃভূমিকে বিশ্বাসনে সমাসীন করেছে।

 

হে বিজয় তোমাকে স্বাগতম!

তোমার আগমনে প্রচ্ছন্ন শ্যামলীমার উঁকি,

যোদ্ধার দেহে স্বস্তির নি:শ্বাস,

রমনীকূলের হাস্ব্যজ্বল চাহনি,

বিজয়োল্লাসের হস্বধ্বনি,

ভোরের সূর্য্যের দীপ্ত আভা,

স্বদেশ গড়ার দীপ্ত পত্যয়ে আমাদের এই পথ চলা।

 

হে বিজয় তোমাকে স্বাগতম!

তুমি বার বার আসবে,

আমাদের সকল বিদ্বেষকে মুছে দিতে,

হানাহানির অবসান করাতে,

ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান হতে,

দেশ গড়ার দৃঢ় মনোবল নিয়ে,

বিজয়ের দীপ্তিরেখাতে চির ভাস্বর হতে।

 

১৬. মনুষত্ব

দেশদ্রোহী! স্বৈরাচারী! গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী!
ঠেকাও তাদের শক্ত হাতে,
দিনে কিংবা প্রতি রাতে।
অগ্নি মাখা গগণ শুরু,
অন্তর কাঁপে দুরু দুরু,
শকুনি আওয়াজ মুহুর্মুহু,
অস্তাচলে কুহু কুহু,
হাতছানি দেয় রাতের শাওন,
অন্তর্দলে দেশের ভাঙন।
সাবাস তুমি এগিয়ে চলো,
নৌকার মাঝি পাল তোলো।
ঝান্ডা হাতে ডান্ডা বেড়ী,
অন্যায় ভাবে ঘুরানো ছড়ি,
আগলে রাখো অস্ত্রবাজি,
তবেই ভোটে মানুষ রাজি।

অত্যাচারী, পাপাচারী, গণতন্ত্রের ধ্বংসকারী
রাখো ওদের পদতলে,
আঘাত হানো দলে দলে,
সবুজে ঘেরা লালে আঁকা,
উঁচু করে রাখো পতাকা,
বাঁচাতে হবে মনুষত্ব,
রাখবে দেশের অখন্ডত্ব।
দেশ বাঁচাতে হও বলীয়ান,
অস্তপারের সব পালোয়ান।
পথটি হলো খুবই নির্জন,
ব্যথামুক্ত দেশ সৃজন,
সকল ধ্যানীর এই আহ্বান,
দেশগড়ি এসো যারা সচেতন।

 

১৭. ওরা মসজিদ পুড়িয়ে দিল

ওরা বাংলাকে অশান্ত করে বিশ্ব দরবারে করল কলঙ্কিত,

ওরা বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংস করে ভিক্ষুদের করল শংকিত।

ওরা ভয়াল, ওরা অস্ত্রবাজ, ওরা রামদায় হানে আঘাত,

ওরা ছাত্রনামের ধ্বজাধারী, পিটুনিতে মারে শিক্ষক।

 

আয় তোরা সবে শপথ নিবে করতে ওদের খতম,

দলীয় রক্তে ক্যাম্পাস রাঙিয়ে করে শুধু তারা মাতম।

আঁচলের তলে লুকিয়ে ওরা করে যত অনাচার,

মাস্তানিতে পটু ওরা বেশ যেন পাক হানাদার।

 

আর কতকাল মিথ্যা বেশাতি সত্যের পথে আয়,

মদ-নারী ছেড়ে ইসলাম ধর নইলে হবে নিরুপায়।

আগুন নিয়ে করলে খেলা সেই আগুনেই হবে ইতি,

ধ্বংস ছেড়ে দেশ গড়ো আজ সেটা হবে সুখ্যাতি।

 

১৮. শুভ পরিণয়

মহাপরিণয়ে বাঁধা পড়ল ওরা দু’জন,
দুটি মনের অপূর্ব এক মিলন।
অনন্ত প্রতীক্ষার জবনিপাত ঘটল।
সময়ের নিশ্চল পাথরের অবসান হলো।
নতুন চন্দ্রালোকে দুটি তারার আনাগোনা,
পুষ্পকলির মৃদুমন্দ বাতাসের সান্তনা।
বিজয়ের আনন্দে ওরা বিভোর।
ঘোর অমানিষা ভেঙে শুভক্ষণের আগমন,
আজকের প্রতিটি ক্ষণ যেন আনন্দে সাজানো।
মেহেদী রাঙা হাতের আলপনায় সুবাসিত,
মনের কোনে মৃদুমন্দ ভয়, জড়তা।
মনের মানুষের জন্য সাজানো বাগান,
আজ ভরবে অনন্ত সৌরভে।

তাদের বন্ধন অনন্তকাল টিকে থাকবে,
এই প্রত্যাশায় শুভ রাত্রি।

 

১৯. অমর শহীদ স্মৃতি

পতাকার লাল বৃত্তাংশ তোমাদের রক্তের উজ্বল রঙ,
গোলাপের পাপড়িগুলি তোমাদের রক্তের অবিমিশ্র সাক্ষ্য,
শিমুল ফুলেরা বাতাসে তোমাদের রক্তিম আভার স্ফূরণ,
কৃষ্নচূড়া যুগে যুগে তোমাদের রক্ত মেখে সুপুষ্পিত।
আকাশের লাল রঙ তোমাদের স্বর্গীয় রুপের আচ্ছাদন,
অসংখ্য শহীদের রক্তে শ্রেষ্ঠ তোমাদের রক্তের ধারা।
পূর্নপ্রায় স্বাধীনতায় তোমাদের গড়ানো রক্তের স্রোত,
স্বরবর্ণ ব্যাঞ্জনবর্ণ তোমদের রক্তের আঁচড়ে আঁকা।
১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের রক্তের বাঁধন।
এ বাঁধন অটুট থাকবে চিরকাল, অনন্ত অসীম।
বিজয়ের পূর্বক্ষণে তোমাদের স্বর্গ কামনা করি।
বিজয় দীর্ঘজীবি হোক!

 

২০. ২১১৩ সাল! শতবর্ষ পরে

কালের গর্ভে শতবর্ষ তলিয়ে
শুকতারার উজ্বলতা ছড়ানো ভোরে
মুয়াজ্জিানের সুমধুর আজানের ধ্বনিতে
কোকিলের কুহু কুহু ডাকে
কৃষকের মাঠে সরিষা ফুলের দোলায়
খেজুর রসের নবান্নের উৎসবে
ধ্বনিত হবে শুকনা পাতার মর্মর ধ্বনি
সেই শুভক্ষণে ভোরের আভায় ছড়িয়ে পড়বে দিনটি
আজ হতে শতবর্ষ পরে
উঠবে নতুন সূর্য,
নতুন দিগন্তের হাতছানি।

অমলিন থাকবে লাল সবুজের পতাকা
অক্ষুন্ন রবে স্বাধীনতার সার্বভৌম
আকাশে বাতাসে দৃপ্তরবে শান্তির সুবাতাস
নক্ষত্রখচিত আকাশে চন্দ্রালোক ছড়াবে অবিরাম
জোয়ার ভাটার বহমানে নদীর গতিময় যৌবন
পাকৃতিক পরিবেশে অনাবিল পরশ
সমুদ্র সৈকতে পুলকিত হৃদয়
অনিন্দ্য সুন্দর সেই শুভক্ষণ
আজ হতে শতবর্ষ পরে
পৃথিবীর দিকে দিকে ফেলবে সাড়া
নতুন স্বপ্নের, নতুন আগমনী বার্তা!

মানুষের মনে মহাপ্রশান্তির দোলা
ইসলামের সুশীতল ছায়ায় সমবেত
লক্ষ কোটি মানুষের মাঝে পুলকিত রব
হানাহানির থাকবে নাগো সরব
দুর্নীতির শিকড় হবে মূলোৎপাটিত
শিহরিত থাকবে মানবতা
সেই সুলক্ষণ দেবে দেখা
আজ হতে শতবর্ষ পরে
যেদিন থাকবে নাগো মোর ছায়া
নতুন পথের যাত্রীদের হবে একসুখ বার্তা!

 

২১. বাংলার বাঘ! অভিনন্দন

সকালের মিষ্টি বাতাসে বিজয়ের গন্ধ ছিল,
সেই বিজয় আমাদের মাঝে ধরা দিল।
সারা দিন যুদ্ধ শেষে আমাদেরই জয়,
আমরা পেলাম বিজয়ের মাসে মহাবিজয়।

আকাশে বাতাসে আজ বিজয়ের বরতা,
শস্য শ্যামলা সবুজের বুকে সরব মানবতা।
জাতি দেখল লাল সবুজের দীপ্ত পতাকা,
বিশ্ব দরবারে বাংলার মুখ হলো উজ্বলতা।

হে বিজয়ী বীর তোমাদের স্বাগতম, অভিনন্দন!
তোমাদের ফুলেল শুভেচ্ছা,
তোমারা দীর্ঘজীবি হও,
ক্রিকেটে আসুক অনাবিল সুখ,
সোনার বাংলা ব্লগের পক্ষ থেকে এক রাশ শুভেচ্ছা!

 

 

২২. এগিয়ে যাও সত্যের সেনানী

চারিদিকে পাশবিক দন্ত নখর
চারিদিকে অত্যাচারীর খড়গহস্ত
চারিদিকে ঘোর অমানিশা
চারিদিকে শকুনীর আনাগোনা
চারিদিকে অস্ত্রের ঝনঝনানী
চারিদিকে হানাদারদের ছোবল
তবুও তোমাকে এগিয়ে যেতে হবে।

তোমাদের এক ফোটা তপ্ত রক্ত
সামান্য হলেও,
উর্বর হচ্ছে এই সবুজ জমিন
জান্নাতের পথ কুসুমাস্তীর্ন হচ্ছে
সুখের বাগান সুসজ্জিত হচ্ছে
এগিয়ে যাও হে বীর সেনানীরা
তোমাদের অপেক্ষায়,
বাংলার শান্তি প্রিয় মানুষ
বিজয়ের এই মাস হোক
তোমাদের বিজয়ের সোপান,
মুক্তির মসৃণ পথ।

তুমি তো ভীতু নও
তুমি তো কাপুরুষ নও
তুমি তো নরপশু নও
তুমি তো অস্ত্রবাজ নও
তুমি তো দ্বীনের খাদেম
তুমি তো রাসূলের সৈনিক
তুমি তো মহান রবের গোলাম
তোমার প্রতিফোটা তপ্ত রক্ত
এ জমিনে আনবে অনাবিল প্রশান্তি,
শোষনমুক্ত সমাজ, ইসলামী শাসক।

তোমার কোরআন পাঠ
হাদিসের অনুসরণ
ইসলামী সাহিত্যের ঝংকার
তোমাকে মানুষ করেছে
তুমি অমানুষ হতে পারো না
তোমার প্রতিফোটা রক্ত
জান্নাতের দিকে ধাবিত করবে,
তুমি নিরাশ হয়ো না
তুমি হতাশ হেয়ো না
তুমি উড়াবে কালিমার ঝান্ডা।

মুমিনের জীবন হলো কালিমার জীবন
মুমিনের জীবন হলো কষ্টের জীবন
মুমিনের জীবন হলো পরীক্ষার জীবন
তোমার এই জীবন মহান রব ক্রয় করেছেন
জান্নাতের বিনিময়ে।

 

২৩. নামাজী পুলিশ

পুলিশে পুলিশে ছেয়ে গেছে দেশ,
যেখানে সমাবেশ সেখানেই রেশ।
জাতি আজ ভয়ে আছে কিযে হয় দেশে,
মুমিনের আচরণ দেখাবেগো শেষে।

সরকারে দরকার ভাল কিছু নেতা,
পুলিশি শাসনে আসবে সভ্যতা।
রাজনীতি খুবই ভাল যদি থাকে সুজন।
অন্যায় করে পার হচ্ছে যে দুর্জন।

নামাজের সারিতে পুলিশের দেহ,
ভয়ে থাকে অস্থির ওরা কেহ কেহ।
এদেশে মানুষের হাসি দেখে দেখে,
পুলিশের চিহ্ন কেহ যাবে রেখে।

 

 

 

২৪. বিজয়ের প্রথম প্রহর

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজছে, বিজয় আসবে বলে,

ফোটা ফোটা রক্ত ঝরছে, বিজয় আসবে বলে,
সাদা কাশ ফুল মৃদু দুলছে, বিজয় আসবে বলে,
মুক্তি যোদ্ধারা স্লোগান দিচ্ছে, বিজয় আসবে বলে,
যুদ্ধ জিতে মানুষ ফিরছে, বিজয় আসবে বলে,
বাতাসে ধান ক্ষেত দুলছে, বিজয় আসবে বলে,
লাল সবুজের পতাকা উড়ছে, বিজয় আসবে বলে,
সাদা মেঘের ভেলা খেলছে, বিজয় আসবে বলে,
মায়ের বুকে শিশু হাসছে, বিজয় আসবে বলে,
বাবার চোখে স্বপ্ন সুধা, বিজয় আসবে বলে,
ভোরের আজান ভাসছে, বিজয় আসবে বলে,
পাখিরা কলোরব করছে, বিজয় আসবে বলে,
হাসগুলি প্যাক প্যাক ডাকছে, বিজয় আসবে বলে,
আকাশে রংধনু উঁকি দিচ্ছে, বিজয় আসবে বলে,
কৃষক মাঠে সুর তুলছে, বিজয় আসবে বলে,
মাঝি ভাটিয়ালি ধরছে, বিজয় আসবে বলে,
সাগরের ঢেউ শান্ত, বিজয় আসবে বলে,
গাছে গাছে ফল, ফুল বিজয় আসবে বলে,
চারিদিকে গোলাগুলি থামছে, বিজয় আসবে বলে,
শিশুরা কুজকাওয়াজ করছে, বিজয় আসবে বলে,
শাপলা শালুক ফুটেছে, বিজয় আসবে বলে,
কবি লেখকরা লিখছে, বিজয় আসবে বলে,
ঈমাম নামজে মনোযোগী, বিজয় আসবে বলে,

মুয়াজ্জিন আজান দিচ্ছে, বিজয় আসবে বলে,
শিশুরা আমসিপাড়া পড়ছে, বিজয় আসবে বলে,
ঘোমটা পরা রমনীরা কলসে পানি ভরছে, বিজয় আসবে বলে,
রাস্তার দুপাশে সাজানো বাগান, বিজয় আসবে বলে,
সত্যিই একদিন বিজয় এলো,
মানুষের মন তৃপ্তিতে ভরে গেলো।
আর আজো আমরা এই মাসকে বিজয়ের মাস বলি,
প্রতিটি কদমে শস্য শ্যামলা মায়ের আর্শিবাদে চলি।

 

 

২৫. জেগে ওঠো বাংলাদেশ

স্বাগতম বাংলাদেশ, সাবাস সোনার বাংলাদেশ,
মোরা বিজয়ী বংলাদেশ।
মাতৃভূমির মান রেখেছে ওরা,
খুলনার মাঠ করে মাতোয়ারা।
সাত উইকেটে বিশাল জয় দিয়ে,
বিজয় মুকুট আনলোগো ছিনিয়ে।

সাবাস বাংলা এগিয়ে যাবে তুমি,
রাখবে উঁচু মহান মাতৃভূমি।
বিশ্ব বুকে মানচিত্র নেড়ে,
বিজয়ী হাসি মোরা নিয়েছি কেড়ে।

 

২৬. শিশু পুত্রের জন্মদিন [আমার পুত্র আবিদ]

মেঘের ঘনঘটা
তারপরেও মনে হয় বৃষ্টি হবে না,
কেননা শীতের আমেজে মেঘগুলো সরে যাচ্ছে,
ওরা একত্রে জড়ো হয়ে একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাচ্ছে।
কিসের যেন আগমন বার্তা সারিবদ্ধ মেঘমালায়,
সেটি একান্ত অনুভূতির, প্রথম বাবা হওয়ার অনাবিল আনন্দ।
মহিয়সীর মাঝে মহানের জন্ম,
পৃথিবীর প্রতিটি ক্ষণে ক্ষণে শুভাগমনে আত্নতৃপ্তি,
আজ সেই পবিত্র দিন,
যেদিনের স্মৃতি আবার হৃদয় কোণে হাজির।
আজ বাবা হবার সেই দিন, সেই ক্ষণ।
আমার পুত্রের আজ শুভ জন্মদিন!
সকলের দোয়া, ভালাবাসায় সিক্ত হবে,
এই কামনা করি।
ওর ছোট্ট হৃদয় ভরে উঠুক আনন্দে, উদ্বেলে!
হে রব ওকে হায়াতে তৈয়েবা দান করো।

 

 

 

২৭. আগুনে পোড়া লাশের স্তূপ

বুক ফাটা আর্তনাদ,
ফিরিয়ে দাও আমার মানিককে!
ওরা নিষ্ঠুর,
ওরা দাবানল জ্বালিয়ে কেড়ে নিল অসংখ্য তাজা প্রাণ।
ওদের আর্তচিৎকারে আজও আকাশ বাতাস ভারি হয়ে আছে!
লাশের স্তূপে স্বজনদের আর্তনাদ!
কে নেবে এর দায়িত্ব?
শুধুই কি শোক প্রকাশে ওদের আত্না শান্তি পাবে?
বেওয়ারিশ লাশই ওদের লক্ষ্য,
ওদের কবর হলো অন্য আঙ্গিনায়।
হায়রে নিয়তি!!

 

২৮. এক মুঠো ভাতের জন্য

ফুল নিবেন ফুল
অসহায় আমি, ক্ষুধিত আমি, তৃষ্নার্ত আমি,
ফুল নিবেন ফুল।

কেহ খোঁজ নেয় না,
কেহ ফুল কিনতে চায় না,
সকলে অবহেলা করে,
অসুস্থ মায়ের ওষুধ কিনব
ফুল নিবেন ফুল।

আমাকে কেহ স্কুলে নেয় না,
কেহ আদর করে বই কিনে দেয় না,
আমি এতিম, কেহ মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় না,
ফুল নিবেন ফুল।

নিবেন স্যার, একটা ফুল,
আমার ছোট্ট পা দুটি আর চলছে না,
মুখের হাসি অস্পষ্ট,
আমি ভালবাসাহীনা,
আমাকে কেহ একটা খেলনা কিনে দেয় না,
ফুল নিবেন ফুল।

 

২৯. নির্লজ্জ বাণী

চারিদিকে ভবের মোহে মিথ্যা বাণী শুনি,
শ্রেষ্ঠ মানব মিথ্যায় ভরা নির্লজ্জের বাণী।
কথায় কথায় উচ্চারিত অজস্র মিথ্যার বুলি,
শ্রেষ্ঠ মুখে বাছবিচারহীন নিরেট মিথ্যা ঝুলি।
অবিশ্রান্ত ধেয়ে চলা এক মিথ্যা পৃথিবীর পথে,
অসভ্যতার জঞ্জালভরা জলে, স্থলে, পর্বতে।
চতুষ্পদ জানোয়ারের মত খাচ্ছো যেতে যেতে,
হারাম খাদ্য শ্রেষ্ঠ মুখে, সুদ, ঘুষ, মদে মেতে।

 

৩০. কাবার চাবি

কা’বা ঘর, রবের ঘর
অনিন্দ্য সুন্দর চাবি,
বিশ্ব জুড়ে ভালবাসা
মনের কোণে আঁকি।

এক রব এক নাম
মহান আল্লাহ,
আদি ঘর কাবা ঘর,
মাশাল্লাহ!

 

৩১. মহান আল্লাহ

রিজকি জোগায় কে?
মহান আল্লাহ তা’য়ালা।

বাঁচিয়ে রাখেন কে?
মহান আল্লাহ তা’য়ালা।

বিশ্ব মালিক কে?
মহান আল্লাহ তা’য়ালা।

আকাশ দেখান কে?
মহান আল্লাহ তা’য়ালা।

শূন্যে ভাসান কে?
মহান আল্লাহ তা’য়ালা।

ভালবাসায় ভরান কে?
মহান আল্লাহ তা’য়ালা।

 

৩২. যদি এমন হতো

[দুই মহীয়সীর মিলন মেলা]

আসুন হাতে হাত ধরি
একটি সোনার বাংলা গড়ি।

আসুন হাতে হাত ধরি
মানুষের ভাগ্য গড়ি।

আসুন হাতে হাত ধরি
সকল অপবাদ দূর করি।

আসুন হাতে হাত ধরি
একযোগে কাজ করি।

আসুন হাতে হাত ধরি
ইসলামকে ক্ষতি না করি।

আসুন হাতে হাত ধরি
দেশের সার্বিক উন্নয়ন করি।

আসুন হাতে হাত ধরি
ঘুষ দুর্নীতি ধ্বংস করি।

আসুন হাতে হাত ধরি
মুজিবের অবদান স্মরণ করি।

আসুন হাতে হাত ধরি
ভাসানী, শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী, জিয়ার অবদান স্মরণ করি।

আসুন হাতে হাত ধরি
অলসতা দূর করি।

আসুন হাতে হাত ধরি
ইসলামের পাবন্দিকরি।

আসুন হাতে হাত ধরি
জান্নাতের সিঁড়ি গড়ি।

আসুন হাতে হাত ধরি
সোনার মানুষ তৈরি করি।

আসুন হাতে হাত ধরি
মহান আল্লাহতায়ালাকে স্মরি।

আসুন হাতে হাত ধরি
খুন গুম বন্ধ করি।

আসুন হাতে হাত ধরি
কোরআন হাদিসের দেশ গড়ি।

আসুন হাতে হাত ধরি
অন্যায় না করার প্রতিজ্ঞা করি।

 

৩৩. আমার সোনার বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

শহীদ জিয়ার ঘোষণার দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

নজরুলের কবিতার দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

রবীন্দ্রনাথের পদচিহ্নের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

ধানের দেশ, গানের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

মাছের দেশ, গাছের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

ভাষার দেশ, আশার দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

ছয় দফার বঙ্গ দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

রক্তঝরা স্বাধীন দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

কবির দেশ, লেখকের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

নদীর দেশ, চরের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

গোলাপ ভরা ফুলের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

আকাশ ভরা তারার দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

একাত্তরে অগ্নিঝরা ভাষণের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

ফলের দেশ, জলের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

সুন্দর বনের বাঘের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

দুধের দেশ, মধুর দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

বান্দরবানে পাহাড় বেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

শীতল ছায়ায় শান্তি বেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

চা বাগানে শান্তি বেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

আজান ধ্বনির মুখরিত দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

সকল ধর্মের সমাবেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

কাশফুলের ঢেউয়ের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

নৌকা মাঝি মাল্লার দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

লিচুর দেশ, কলার দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

সবুজ রঙের পাখির দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

রঙের দেশ, ঢঙের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

খেজুর রসে ভরা দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

বাংলা মায়ের এলো কেশ
আমার সোনার বাংলাদেশ।

ডাবের পানি মিষ্টি বেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

নূপুর পায়ে চলছে বেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

আষাঢ় মাসে কদম বেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

শীতের পিঠা গরম বেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

আষাঢ় মাসে ব্যাঙের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

কৃষ্নচূড়ার বসন্তের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

চৈত্র মাসের তুলার দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

বনে বনে ফুলের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

রসে ভরা আমের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

সমুদ্র মাঝে ইলিশের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

বর্ণমালার কথার দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

বাংলা মেয়ের স্বপ্ন বেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

গ্যাসের দেশ, কয়লার দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

হাওড় বাওড় বাঁধের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

বন্যা খরা আয়লার দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

পাটের দেশ, আখের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

নারীর ভূষণ লজ্জার দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

নোবেল জয়ী গর্বের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

কামার, কুমার, তাঁতীর দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

সরিষা ফুলের মাঠের দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

গর্বে ভরা যোদ্ধার দেশ,
আমার সোনার বাংলাদেশ।

 

৩৪. মাগো দোয়া করো
তোমার খোকা যাচ্ছে মিছিলপানে,
দেশ বাঁচাতে যদি শহীদ হই,
তবে ক্ষমা করো মা!
জান্নাতের সিঁড়িতে তোমার সাথে দেখা হবে ইনশাল্লাহ!

 

৩৫. দুষ্টামি

ভাইয়ার কামড় শক্ত কামড়
পুতুল ভাঙার দায়ে,
আপুর প্রাণ ওষ্ঠাগত
ভাইয়ার দাঁতের ঘায়ে।

এবার ছাড় সোনা ভাইয়া
লাগছে বেজায় দেহে,
আর কখনও তোমার পুতুল
দেখব নাকো চেয়ে।

দুষ্টু ভাইয়া বেজায় জেদি
মাংশ তুলে নিবে,
তুলতুলে ঐ দেহে এবার
দাঁত বসিয়ে দিবে।

আম্মু দেখে ছুটে এল
দে ছেড়ে দে সোনা,
অবসান হোক দুষ্টামিসব
ঘরের সকল কোণা।

 

৩৬. বন্ধনে বন্ধু

বন্ধু বেশে আমরা সবাই চলছি অবিরত,
জয়ের নেশায় ছুটছি মোরা মাড়িয়ে বাঁধাশত।
ক্লাসরুমে আসছি মোরা শিখব নতুন পড়া,
দেশ গঠনে কাটাব জীবন হবো নাকো পাতা ঝরা।

আমরা তরুণ, আমরা শক্তি, থাকব বিজয়ী বেশে,
সকল অনাচার দুপায়ে দলে, শান্তি আনব দেশে।
বন্ধু বন্ধুর সহযোগিতা করে অটুট রাখব রাঁধন,
ন্যায়ের পথে চলবো মোরা অসাধ্য করে সাধন।

কটূকথা মোরা কভু নাহি কব, সত্যের সৈনিক,
আরশের বাণী প্রচার করব, পাঁচ বার দৈনিক।
পিতা-মাতা মোদের বড় সম্মানের মহান আল্লাহর পরে,
দোয়া করি মোরা প্রতি ক্ষণে ক্ষণে রহমত যেন ঝরে।

অনন্য সম্মানে মাথা নত করি, গুরুজন পদতলে,
ক্ষমা করো প্রভু, পিতা-মাতা গুরু বিভীষিকাময় পরকালে।
মোরাও ক্ষমা চাই, ক্ষমা যেন পাই, হে রব তোমার কাছে,
মোরা গোনহাগার, নেয়ামত যত, আছে গো তোমার কাছে।

 

৩৭. ভাবুন

অট্টালিকায় বসবাসে নেইকো কোন বাঁধা,
সত্য নিয়ে বাঁচতে হবে দুনিয়া সেতো ধাঁধাঁ।
যতই তুমি হওগো ধনী, হওগো অসীম গরিব,
কোরআন দিয়ে চললে পরে কবর হবে শরীফ।
কবর হবে জান্নাতের ফুল, নয়কো জাহান্নাম,
মাটির দেহ মাটিই খাবে, নেইকো কোন দাম।
দুনিয়া মাঝে চলবে যেন তুমি মুছাফির,
কবর মাঝে যাওয়ার তরে থাকবেগো অধির।
দ্বীন কি তোমার, রব’ই বা কে? শুনবে নেতা কে?
জান্নাত পেতে দ্বীনের পথে চলতে হবে যে!
মানুষ ঠকাও, মানুষ কাঁদাও, নির্দয়ভাবে খুন,
কবর হবে শেষ ঠিকানা জাহান্নামের আগুন।
ধনী গরিব এক ঠিকানা, একই রঙের কাফন,
হিসাব নেবে একই ফেরেশতা, পাশাপাশি দাফন।
অহংকার আর হুংকারেতে বাঁচবে নাকো ধনী,
সুখেরবাগে থাকবে সেই-ই দ্বীনের পথের জ্ঞানী।

৩৮. ক্ষমার পথে! কাবার পথে

ক্ষমা কর প্রভু, ক্ষমা কর মোদের, স্পর্শেছি ক্ষমার কা’বা,
মিথ্যা দুনিয়া দু’পায়ে দলে, হঠাব শয়তানী সব থাবা।
তাওয়াফ করেছি মাতাফ মাড়িয়ে কা’বার সসম্মানে,
হাজরে আসওয়াদ চুম্মন করে শান্তি পেয়েছি মনে।
সাফা মারওয়া’য় সুনিপুন সা’ঈ আবৃত পরশখানি,
ক্ষমার রাজ্যে সকলে খুঁজেছি তোমার নূরের ঝলকানি।
মিনাতে তোমার ডেকেছি সকলে দু’হাত আকাশে তুলে,
ক্ষমায় কেঁদেছি আরাফাতে প্রভু যেও না কভু ভুলে।
মুজদালিফার খোলা আকাশে ইবাদতে সপেছি রবে,
পাথর কুড়িয়ে শয়তানী ধোকা বধ করেছি সবে।
পশু কোরবাণী, রক্ত ঝরিয়ে, রবের দিদার পেতে,
মাথা মুন্ডিয়ে নিরাহংকার আজ সাধারণ মানুষেতে।
কবুল কর এই গোনাহগারের! এই মিনতি করি!
পাপিষ্ট সব ক্ষমা কর প্রভু! কা’বার রবেকে স্মরি!!

 

৩৯. হায়রে বেচারা গরুঃ মহাকান্ড

মোটর সাইকেলে যাচ্ছে গরু
শক্ত ভাবে বাঁধা,
পারছে নাতো নড়তে এটি
আস্ত গরু আধা।

কোরবানীর এই গরুরটা আজ
নিচ্ছে দু’জন মিলে,
হাসবে সবাই মুখটি টিপে
এমন ভাবে নিলে!

ঘুরছে চাকা যাচ্ছে বাড়ি
গরু পিছে বাঁধা,
বাড়ি নিয়ে পালবে গরু
চেয়ারম্যান দাদা।

 

 

 

৪০. মালালারা রক্তাক্ত

ওহে পশ্চিমা কলমের শক্তির আঁচড়ের মালালা!
ওহে পশ্চিমা দালাল, বাক স্বাধীনতার বন্ধু!
কোথায় আজ তোমাদের মানবতা!
কোথায় সেই ভালবাসা!
এক মালালাকে কত আদর, ভালবাসা!
লক্ষ মালালা আজ রক্তের সিঁড়িতে হাবুডুবু খাচ্ছে!
তাদের ফিনকি রক্তে রবের জমিন আজ সিঞ্চিত!
ওদের কি দোষ! ওদের রক্ত কি সত্যিই প্রয়োজন!?
ওরা কোন ধরণের জঙ্গি? ওরা কি কোন অস্ত্রধারী?
ওরা কেবল মুসলিম! তাইতো?
ওদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে রক্ত নিয়ে তবেই কি শান্ত?
ওদের ভিটে মাটি থেকে বিতাড়ন কোন গণতন্ত্র?
হায়রে মুসলিম শক্তি! কোথায় সেই ওমরের শাসন?
কোথায় খালিদের উত্তরসূরী?
বাংলার মুসলিম শাসক তাদের প্রতি দয়া করুন!
তাদের একটু আশ্রয় দিন!
কি জবাব দেবেন মহান আল্লাহর কাছে!
ওরা আমাদের কলিজার টুকরা সন্তান!
ওরা আমাদের স্নেহের, অতি আদরের কচি ভাই বোন!
ওদের জন্য বিশ্ব বিবেক কি মরে গেছে?
কোথায় গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালারা?
কোথায় জাতিসংঘ?
কোথায় মানবাধিকার কর্মীর ধ্বজাধারীরা?
ওরা শংকিত, ওরা বিপদগ্রস্থ, ওরা অনাহারী!
ওদের জন্য কেহ কি মুখ খুলবে না?
জেগে ওঠো মুসলিম! জেগে ওঠো! ঘুমানোর সময় যে নাই!!‍
ওরা আমাদের সন্তানদের মারছে!
ওরা সন্তানের পিতামাতাদের মারছে!
জাতির বিবেক আজ অসুস্থ!
মুসলিম জাতি হিসাবে আমরা লজ্জিত!
আমরা অনুতপ্ত না! ‍
আমরা উৎকন্ঠিত না!
কি আশ্বর্য!

পশ্চিমা শক্তি আজ মজা লুটছে! রক্ত চুসছে!
ওরা মুসলিম দেশগুলিকে করায়াত্ত করার চেষ্ট করছে!
অথচ অমুসলিম দেশের অস্ত্র কারখানায় তারা হামলা করছে না!
সেখানে তার কিছু বলছে না!
বরং একত্রে মুসলিমদের উপর হিংস্র হায়েনার মত হামলে পড়ছে!
মদীনায় একজন আনছার একজন মুহাজিরকে সাহায্য করেছিল!
আজ গোটা বিশ্বে একজন আনছার কি নেই?

 

৪১. আহা’রে মা

দরিদ্রের ঘাম ঝরানো রক্ত করে শোষণ,
বিরাট অহংকারকে হৃদয়ে করো পোষণ।
তুমি পশু, পাষন্ড, উৎশৃঙ্খল, নির্দয় বর্বর,
ওরে দুর্মতি দুনিয়াব্যপী করছো অত্যাচার।
কোথায় নারীবাদী, নারীর ইজ্জতের কল্যাণী,
ধূলায় লুটায় কেন আজ মহীয়সীর দেহখানি?
ওই দেখো ভাইসব ওরা কত অত্যাচারী,
সারাটা জীবন এরা অভাগা, থাকে অনাহারী।
চেয়ে দেখো নির্বোধ ওরা স্পর্ধিত পশু বেশে,
এই ভুবনে উঠবে কি কখনো এই নারীরা হেসে?
ওগো পথিক বেশে জন্ম নেওয়া ঘুচুকসব জরা,
ছন্দে নাচুক, মৃদু হাসিতে, ভরুক বসুন্ধরা।

 

৪২. রক্ত ঝরা দিন

[সেই সুন্দর ফুটফুটে চেহারাগুলোতে রক্তের ছোপ]

হিংস্র দানবেরা ছিনিয়ে নিল অসংখ্য তাজা প্রাণ
রক্তের প্রতিটি ফোটায় আজও পিচ্ছিল রাজপথ
পিচঢালা পথের বাঁকে বাঁকে এখনও লাশের গন্ধ
ঝড়ের তান্ডবের কলঙ্কিত ইতিহাস আজ
অসংখ্যা দানবের দন্ত নখরে ছিন্নভিন্ন হয় তারা
গা শিউরে ওঠা সেই নিষ্ঠুরতায় দেশবাসী স্তম্ভিত
মানুষের উপরে হিংস্রতা বর্বরতাকে হার মানায়
সেই ভয়াল বিষন্নতায়ভরা দিন আজ
সেই সুন্দর ফুটফুটে চেহারাগুলোতে রক্তের ছোপ
শহীদের পরিবারগুলোতে বইছে শোকের ছায়া
পরিবারগুলোর আকুতি! কেন এই হত্যাকান্ড? কেন এই নির্মমতা?
ওদের তো কোন দোষ ছিল না
ওরাতো এক আল্লাহকে ভালবাসত
ওরা ছিল দ্বীনের দায়ী
ওরা ছিল সত্যের দিশারী
ওরা ছিল সর্বশ্রষ্ঠ কিতাবের অনুসারী
ওরা ছিল রাসূলের সা. একনিষ্ঠ কর্মী
ওরা ছিল মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত অগ্রপথিক
এটাই কি ওদের দোষ?
হে আল্লাহ ওদেরকে কবুল করে নিও
ওদের নির্ঝরনী প্রবাহিত জান্নাত দিও।
আমিন!!

 

৪৩. ঈদের সুখ ভাগ করে নেই

ওরা দুখী, ওরা ত্যাগী, ওদের নেই কোন ভবিষ্যত,
ওরা চায় ভালবাসা, একটু সুন্দর পরশ মাখানো পথ।
চারিদিকে ঈদের আমেজে মনের কোনে লাল সবুজের আভা,
ওরা গরিব অনাথ নিত্য খেটে পায় না কোনো শোভা।

নষ্ট করো না খাদ্য কভু অনাথ আছে না খেয়ে,
ওদের দৃষ্টি দিগন্ত মেলে দানের দিকে চেয়ে।
সারাদিনভর অনেক কষ্টে দিন যে ওদের চলে,
আমাদের ধনে ওদের অধিকার যেও না কভু ভুলে।

 

৪৪. আবার এলো ঈদ!

অভিনন্দন!

এলো খুশির ঈদ! একটি বছর পরে,
আনন্দেরই বন্যা যেন বইছে সকল ঘরে।
রাত পোহাল সূর্য্যছটায় বলছে ঈদের গান,
ধনী গরিব চারিদিকে আজকে এক সমান।
সব বাড়িতে আনন্দেরই ঢেউ যেতেছে বয়ে,
নানান সাজের পোষাক পরে জরির টুপি দিয়ে,
ঈদের নামাজ পড়বে সবে ঈদগাহেতে যেয়ে।
খুদবা দিবে ঈমাম সাহেব জ্ঞানের কথা বলে,
মহান রবের ইবাদত করে আসব সবে চলে।
মহাসুখে ফিরবে সবে আপন ঘরে ঘরে,
মিষ্টি, পোলাও, কোরমা খাবে যার যা মনে ধরে।
মা-বাবার দোয়া নিয়ে ঘুরবে সকল খানে,
মিশবে সবে মজা করে আনন্দেরই বানে।
সকল বাড়ির দুয়ার খোলা নেইকো কোন মানা,
দু’হাত ভরে বিলাবে সবে নানান রকম খানা।
করি মিনতি দু’হাত তুলে রবের দিদার পেতে,
তওবা করি থাকব না আর গোনহে’তে মেতে।

 

৪৫. ব্যথাতুর হৃদয়ে আরাফাতের ক্ষমা

এই ধরণীতে অমলিন চাঁদ বয়ে আনে কল্যাণ,
পশুর রক্তে পশুত্ব হত মহা রবের অবদান।
অজস্র আঁখির দুখ-দীপ নিয়া
ঘুরছে তোমার সৃষ্টি ব্যাপিয়া,
আরাফাত মাঠে বান্দা সচকিত
বিষ্ময় ভরে ওঠে পুলকিত,
এত ভালো তুমি? এত ভালোবাসো? এতো তুমি মহীয়ান?
বিশ্ববাসীর স্বপ্ন চোখে সফল হবে কোরবান।

তোমার মমতা কতগো সুন্দর কত সে মহৎ পিতা,
সৃষ্টি শিয়রে আশ্রিত মোরা ধরে রেখে সভ্যতা।
একই সুরে আজ আরাফাত মাঠে অজুত কণ্ঠে গান,
শিরক কুফরী নিমূল করে বিজয়ী আল-কোরআন।
শয়নে স্বপনে দিবানিশি ভরে অপরাধ হয়েছে যত,
প্রভু, এই প্রান্তরে ভিক্ষা মাগী ক্ষমা কর অবিরত।
তুমি ক্ষমাকারী মোরা মুখাপেক্ষী
তুমি অতুলনীয় মোরা স্বাক্ষী,
নবীজির বুকে জ্বেলে দিয়ে দীপ
অশান্ত দ্বীপে প্রজ্বলন প্রদীপ,
তুমি রহমান? তুমি রহীম? তুমি এত দয়াবান?
জালিমের মাঝে আলোর দীপ্তি ওরা তো ভাগ্যবান।

অন্যায় হয়েছে বিশ্বাঙ্গনে মোরা মনুষ্য জাতি,
শিশুর রক্তে সিঞ্চিত করে ফুলাই বুকের ছাতি।
তৃপ্তি ভরে এই ময়দানে এবাদতে মশগুল,
ক্ষমা কর প্রভু চিরতরে আজ জীবনের যত ভুল।
তোমার ক্ষমা আছি গো চাহিয়া
অশ্রু বিগলিত নয়নে বাহিয়া,
চোখে মুখে আছে বিষন্নতা আজ
মনের কোণে রেখেছি যে লাজ,
শত শতাব্দী গড়ানো আরাফাতে মোদের করো না অপমান,
প্রভু, ক্ষমা করে দাও অযূত কণ্ঠের যত আছে আহ্বান।
তুমি সত্যিই মহান!
অতুলনীয় তোমার সম্মান!

 

৪৬. কোরবানী ও ঈদ সভ্যতার প্রতীক

পশুর হাটে যাচ্ছে সবাই কিনবে ঈদের পশু,
আনবে বয়ে আনন্দোৎসবে নরনারী ও শিশু।
স্মরি মোরা পরজীবনের শাস্তির অমানিশা,
সুসংবাদ পাপ্তরাই পাবে কেবল পথের দিশা।
খুশীর দুয়ার মুসলিম মাঝে কিশোর, যুবক মিলে,
নবউদ্দীপনায় রইবে সবাই ঈদের দিন সকলে।
নতুন বসন মিষ্টি ভূষণ সজ্জিত আজ সবে,
উৎসবেতে উঠবে মেতে তওফিক দিও রবে।
ঈদুল আজহার কোরবানীরই রক্ত ঝরা দিনে,
ইসলামেরই অনুসারীদের আল্লাহ নিবেন চিনে।
মহান নবী ইব্রাহীমই আল্লাহর নির্দেশ মেনে,
মিনা প্রান্তরে প্রিয়তমকে কোরবানী রবের সনে।

 

৪৭. নমনীয়তায় অভিবাদন

ফরিয়াদ করি, ধরণীর মাঝে, ধূলিমাখা তব অসহায় মালাবার,
প্রতিকার পেতে, রাত জেগে থেকে, দোয়া করি বার বার।
আঁখির কাঁপুনি, বুকে ধুক ধুক, ধূলা মলিন পা দু’খানা,
ঘুঁচিল ব্যথা, মুছিলাম আঁখি, উপশম হলো মনের যাতনা।
বিষ্ময়ে ভরে দেখিলাম লেখা কবি গাজী আন্-নূর,
পাঠকের ছোয়ায় হাজার তারার আলোতে ভরপুর।
যতটুকু হেরি বিষ্ময়ে মরি, ভরে ওঠে সারা প্রাণ,
অমায়িক ওরা দেশের মালিক, অনন্ত মহীয়ান।
প্রভাত সন্ধ্যা দোয়া করি তব আরশের মালিকেরে,
সুস্নিগ্ধ মাটি, সুধাসম জল, পাই যেন ধৈর্য ধরে।
লেখার আসরে, কবিতার ভাষা, কতনা মধুর বাণী,
সভ্য দেশে অজস্র লিখে কাটাবো জিন্দেগানী।

 

৪৮. দেশপ্রেমের সনদ

আজকের এ মুহূর্তে অবসন্ন শ্মশানস্তব্ধতা,
আমাবষ্যার অন্ধকারে হাতড়ানো বিষন্নতা।
তবুও তিনি ক্লান্তিহীন, ভয়হীন, অকুতোভয়,
দুরন্ত যৌবনার কাছে নাহি পরাজয়।
তুমি ক্ষুধিত বন্ধু নও, নও কোন ব্যাধিতে ভারাক্রান্ত,
তবুও স্বার্থের টানে, শত্রুর আবরণে, করলে চক্রান্ত।
বসন্ত মাঝে দুর্বার সাজে গড়লে প্রাসাদবালা,
প্রাচুর্যেভরা এই রঙ্গনে বাড়ালে ধূলিময় ঝামেলা।
তুমি মহানায়ক, তোমার অঙ্গনে লালসবুজের ঝান্ডা,
মুজিবের আদর্শে নিঃশব্দে গড়ে ওঠা সৈনিক আজ ঠান্ডা।
উন্মুখ দেশবাসী দেখতো তোমার সুনিপন চমকানী,
লজ্জায় আজ ছদ্মাবরণে এ আকাশ, এ দিগন্ত, এই পুষ্পিত মাঠখানি।
বাবু তোমায় স্বপ্নের নীলে তন্দ্রার পরিপাটি,
দেশ প্রেমের একটি সনদ রাখবে তোমায় খাঁটি।

 

৪৯. সুশাসক

[দুর্নীতি এদের স্পর্শ করে না]

সাবাস শাসক, অবাক তুমি
দুনিয়া জোড়া খ্যাতি,
দ্বীনের পথে মহান তিনি
বিশ্ব করে জ্যোতি।

আকাশ পানে রবের ধ্যানে
হৃদয়ে ব্যাকুলতা,
শান্তি সুখের স্বপ্ন ছোয়া
বিশ্বের সভ্যতা।

 

৫০. একটি সংগঠন

দীপ্ত শিখায় উদ্ভাসিত ক্যাম্পাসগুলো আজ তপ্তভূমি,

পৃথিবীর সবচাইতে ভয়ংকারতম সংগঠনের তান্ডবলীলায় ক্যাম্পাসগুলো আজ কম্পমান।

সশস্ত্র জঙ্গী সংগঠনের করাল থাবায় ক্যাম্পসগুলো আজ জিম্মি,

অস্ত্রের শনশনানিতে চরম ভীতিকর অবস্থা,

যেন হারমানা ৭১ এর কালোরাত্রি,

কলমের বদলে পিস্তল, বইয়ের পরিবর্তে রামদা ওদের হাতে শোভা পাচ্ছে,

এগুলো জঙ্গী সংগঠনের জংলী ভাবাবেগের বিষ্ফোরণ।

ওরা সশস্ত্র সংগঠন, ওরা সন্ত্রাসী সংগঠন, ওরা ছাত্র নামের কলংক,

ওরা স্বপ্নের সিঁড়ির হয়ত ছোয়া পাবে,

কিন্তু জাতির সাথে নির্মম পরিহাস বরদাশত করবে না।

 

দলীয় কর্মীকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা,

চাঁদাবাজি বন্ঠনে নির্মম খুন,

ছাত্রাবাস পুড়িয়ে ঐতিহ্য বিলীন করা,

দখলের প্রতিযোগিতায় জাতিকে নিষ্পেষণ করা,

উগ্র সংগঠন হিসাবে নিজেদের উদ্ভাসিত করা,

প্রবাহমান গণতন্ত্রকে মূলোৎপাটন করে স্বৈরতন্ত্রের বীজবপন করা,

সবই ওদের বিরত্বগাঁথা!

তাহলে ওদের জাড়িয়ে কেন এই প্রহসন।

 

মানকি আজ সেঞ্চুরীর প্রবক্তা, পরিমলেরা যোগ্য অনুসারী,

ঈভ টিজিং ওদের জীবনী শক্তি,

অত্যাচার নির্যাতন যেন ওদের অধিকার,

জাতির ঘাড়ে মহাঅভিশাপ সমাগত,

খুন গুম নিরবে পরিবারকে কাঁদাচ্ছে,

ওরা নির্মম, ওরা কাপুরুষ, ওরা জ্বালাময়ী,

মানবতা ওদের কাছে ভূলুন্ঠিত।

দুঃচরিত্রতা ওদের কাছে বিজয়ের মুকুট,

আদর্শবাহী ঝান্ডা উড়িয়ে ওরা চলেছে লক্ষ্যের পানে,

তাহলে কেন এই শঠতা!

 

বিসমিল্লাহ ওদের কাছে বিষাক্ত শব্দ,

ইসলাম ওদের কাছে আফিমতুল্য,

রাসূলের (সা.) আদর্শের কথা ওদের কাছে অরণ্যে রোদন,

কোরআন ওদের কাছে নিছক শবযাত্রার পুস্তক,

ধর্মীয় উপসানালয় ওদের কাছে খেলনা পুতুলের আশ্রয়স্থল,

ওরা লালন করে চরম ধোকাবাজী, চরম শয়তানী,

মানুষের রক্তে হোলি খেলা ওদের অস্থি চর্মের আর্শিবাদ,

ওরা লুটেরা, ওরা কপট, ওরা সত্যের প্রতিবন্ধক,

তবে কেন ওদের পরাভূত করার খায়েশ।

 

দুনিয়াজোড়া সশস্ত্র সংগঠন, অস্ত্রবাজি যাদের মূলমন্ত্র,

মানুষের হৃদয়ে ক্ষতে রক্ত মাখা আলিঙ্গন যাদের পছন্দ,

পৃথিবীর ইসলামী কোন সংগঠনও ওদের নাগাল পায়নি,

পৈশাচিকতা ওদের রক্তের বন্ধন,

ওদের নিষিদ্ধ করাই আজ সময়ের দাবী,

পৃথিবীর নিকৃষ্টতম সংগঠন!!

তবে, ওরা নিরবে দাওয়াত দিবে,

শতশত আত্মা পরিত্রাণ পাবে।

 

বন্যপশুর আচরণকেও ওরা হার মানায়,

শয়তানী হিংস্র নখরে ওরা বলীয়ান,

মানুষের দুঃখে ওরা অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে,

এরা জাতির আদর্শপুত্র,

সোনার বাংলার অগ্রসরমান সৈনিক,

ব্যাংক লুটেরা, সমাজের কুলাঙ্গার,

ওদের জঙ্গি বলুন,

ওদের কে না বলুন।

ওরা দেশের মর্যাদা বিঘ্নকারী,

ওরা সম্পদ ধ্বংসকারী।

ওরা গণমানুষের হৃদ স্পন্দন!

ওদের হেফাজতের জন্য মহান রবের নিকট দু’হাত তুলে দোয়া করি।

লেখক পরিচিতি

মোঃ রবিউল ইসলাম, ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জনের জন্য বর্তমানেInternational Islamic University Malaysia (IIUM)” তে অবস্থান করছেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে BBS Honors in Accounting and MBA major in Accounting-এ ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি Bangladesh Islami University ও Northern University Bangladesh এ অধ্যাপনা করছেন। তাছাড়া তিনি IIUM, মালয়েশিয়াতেও খন্ড কালীন চাকুরী করছেন। তিনি Accounting এবং Accounting Related বিষয়ের উপরে ১৫টিরও অধিক এ্যাকাডেকিম বই লিখেছেন। তিনি দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দেশী ও বিদেশী নামকরা জার্নালে তার অনেকগুলি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি দেশী ও আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগদান করেছেন। তার পেশা সম্পর্কিত বেশকিছু ট্রেনিং এ তিনি যোগদান করেছেন। তিনি সাতক্ষীরা সদর থানার ভোমরা ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া গ্রামের মোঃ হারুন-অর-রশীদ ও হাসিনা খাতুনের জ্যেষ্ঠ পুত্র।

robiulbiu@gmail.com

 

(Visited 30 times, 1 visits today)

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *