চোখের পানিতে নেই শেষ বিদায়!

চোখের পানিতে নেই শেষ বিদায়!

লেখক-মোঃ রবিউল ইসলাম

এপ্রিল ০৬, ২০২০

ক্ষুধার্ত কুত্তাগুলি দিনরাত ঘেউ ঘেউ করছে। ক্ষুধা তৃষ্নায় কাকগুলি দিনময় কাকা রব তুলছে। পিপাসার্ত ঘুষখোরগুলি বাসায় অবস্থান করে হাহাকার করছে। দুর্নীতিবাজ অফিসারগুলি হাত পা গুটিয়ে করোনাকে গালি দিচ্ছে। ক্লাসে ফাঁকিবাজ অসম্মানিত শিক্ষকগুলি প্রহর গুণছে আর বিলাপ করছে কোচিং থেকে অর্থ হাতিয়ে না নিতে পারার অপেক্ষটুকু প্রকাশ করে। বাসের অসাধু মালিকগণ যাত্রী হয়রানী করে টাকা লুটে না নিতে পারার বেদনায় মর্মাহত। ধোকাবাজ ভিক্ষুকগুলি অসহায় নেত্রে তাকিয়ে  আছে। সন্ত্রাসীরা অস্ত্রে শান দিচ্ছে অসহায়দের খুনের দীপ্ত নেশায় কখন মেতে উঠবে। বন্ধ বার কখন খোলা হবে এই চিন্তায় মাদকসেবীরা বিভোর। সেইদিনের অপেক্ষায় চাঁদাবাজরা চুপসে আছে কখন অস্ত্রের মুখে মানুষের সম্পদ লুণ্ঠনে নামবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসী গ্রুপগুলি নিরব, কেননা সেখানে এখন আর অস্ত্রের ঝনঝনানি নেই। কুলাঙ্গার পেয়াজের মূল্যবৃদ্ধিকারীরা মানুষের বদদোয়া নিয়ে আজ টু শব্দ করছে না। লবণ নিয়ে নেই কোন চেঁচামেচি। অর্থলোভী মাক্স ব্যবসায়ীরা আজ নিরব হয়ে গেছে।

কোলাহল নেই আদালত পাড়ায়, মাকেটে, খেলার মাঠে। কোলাহল নেই মদের বারে, চায়ের আড্ডায়, রেষ্টুরেন্ট ও শেয়ার বাজারে। কোলাহল নেই শয়তানী মাজারে, উড়ন্ত বেশ্যার খদ্দেরখানায়। কোলাহল নেই সাগর পাড়ে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা পল্লবীতে। কোলাহল নেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, কোচিং এর বদ্ধঘরে। রিক্সা ভ্যান ঠেলাওয়ালারা বুভুক্ষ। আকাশে বিমান পাখা মেলে উড়ছে না, নৌপথে যাত্রী শূন্য। দীর্ঘদেহী ট্রেনের দুচোখ উপরে তুলে চলার গতি গেছে থেমে। যতদূর চোখ যায় সড়ক পথের দু’ধারে সারি সারি পত্র পল্লবিত বৃক্ষসারি আর বাহনহীন রাজপথের শুনশান নিরবতা।

অভাবগ্রস্ত মানুষেরা ত্রাণের জন্য সামাজিক দূরত্ব মেনে ঠাঁয় দাড়িয়ে, এর মাঝেই কেহ কেহ ত্রাণ চুরি করে, সাংবাদিক পিটিয়ে বেশ খ্যাতনামা হয়ে উঠার ব্যর্থ প্রয়াস চালাচ্ছে। কিছু কিছু স্বাস্থ্য সচেতন হাসপাতাল রোগী ভর্তি না নেওয়ায় পথে পথে ঘুরে কিছু আদম সন্তানের আত্মা নিরবে নিভৃতে মহান আল্লাহর দরবারে হাজির হচ্ছে। করোনাকে কেন্দ্র করে সরকার বিরোধী দলকে আগের মতো দোষারোপ করছে না যে, এটা তোমাদের কারসাজি। লক ডাউন আর হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা মন্ত্রীরা আগের মতো বাক্য ব্যয় করছে না। দেশময় মানুষ লকডাউনে থেকে ১৪৪ ধারার স্বাদ উপলব্ধি করছে। বের হলেই সেনা পুলিশের মধুময় আপ্যায়ন।

মসজিদগুলিতে উপচে পড়া ভিড়। লকডাউনে বন্দি অলস সময়ে, সক্ষম দম্পত্তির ভবিষ্যত জেনারেশনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়াও অমূলক নয়। লক ডাউনে মানুষ দিশেহারা, কেহ সর্বহারা। কবরের নিরবতা প্রতিটি পরিবারের মধ্যে, কি হবে সামনের দিনগুলিতে। বাঁচবো তো! করোনায় আক্রান্তদের পাশে সান্তনায় নেই কোন নিকট আত্নীয়। দেহটিকে ভীষণ রকমে ঝাঁকিয়ে কাঁপিয়ে মৃত্যু স্বাদ নিতে হচ্ছে। মৃত ব্যক্তির কাফন দাফনে নেই লোকজনের আনা গোনা। চোখের পানিতে নেই শেষ বিদায়। জানাজা সম্পন্ন হচ্ছে খুবই স্বল্প পরিসরে। সবাই যেন ভীত বিহ্বল! কি হবে সামনের পরিবশে।

কেহ কারো প্রতি অন্যায় করলে মাফ চেয়ে নিচ্ছে। এ যেন এক ভয়াবহ দৃশ্য! কেয়ামতের একটুকরা ঝলক। চারিদিকে লাশ! এর মধ্যেই কিছু লোক করোনার টাকা আত্নসাৎ মেতে উঠেছে। কিছু মানুষকে খুন হতে হচ্ছে। সিগারেট খেকোরা যেখানে সেখানে এখনো সিগারেট খেয়ে নিজের আভিজাত্যকে জানান দিচ্ছে। রাস্তাঘাটে আগের মতো ধূলাবালিতে ভরপুর আছে। ফুটপাতের হাটার পরিবেশটা বেশ অপরিষ্কার। মাদক ব্যবসায়ীরা আগের মতো রুটগুলি দখলে রেখেছে।

তবে সরকার দারুন সুখবর দিয়েছে বিশাল অংকের প্রণোদনা প্যাকেজ উপহার দিয়ে। প্রস্তুত করেছে করোনা টেস্ট করার সব আয়োজন। হাসপাতালে রেডি নার্স ডাক্তার। কবর স্থান রেডি করেছে মানুষের শেষ শান্তিটুকু নিশ্চিত করতে। মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতে শুরু করেছে।

রমজানের পূর্বে একটি নতুন সূর্যের অপেক্ষায় দেশবাসী, বিশ্ববাসী। যে সূর্যটি বলে দেবে আমি আজ মহান আল্লাহর রহমত নিয়ে পূর্বাকাশে উদিত হয়েছি। আমার আলোক রশ্মিতে নেই কোন বিষাক্ত করোনার আভা। আমি দৃপ্ত মাখা। আমি সুন্দর স্বাস্থ্যের বারতা নিয়ে এসেছি। আমি করোনাকে আমার উজ্বল আলোয় আর দেখাবো না। আমি তেজদীপ্ত হয়ে নতুন রুপে উদিত হয়েছি। করোনা মহান আল্লাহ উঠিয়ে নিয়েছেন। তবে আমি যুগে যুগে সকল অন্যায়কে ধ্বংস করার জন্য মহান রবের ইচ্ছায় আপ্রাণ চেষ্টা করবো।

হে মানুষ! তোমার কি মনে পড়ে? তুমি সামান্য অপরাধে আদমকে অন্যায়ভাবে খুন করেছো, তার পরিবারের আহাজারি তোমার হৃদয়কে একটু গলাতে পারেনি। তোমার বোনের সম্পদ ফাঁকি দেওয়ার সেই নির্মমতা। বাবা মাকে কষ্ট দিয়ে চোখের অশ্রু গড়ানোর দিনগুলি। কি অন্যায় ভাবে মানুষকে গুম করে লাশ ফেলে রাখা। গুমের কত লাশ আজো ফিরিয়ে না দেওয়া! কত অসামীকে অন্যায়ভাবে বেকসুর খালাশ দেওয়া। কত মানুষকে আবার অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে ফাঁসিতে লটকানো। তোমার সম্মানিত শিক্ষককে অযাথা অপমান করেছো। বড়দের শ্রদ্ধা করা থেকে বিরত থেকেছো। তোমার বিচারে কত নির্দোষ সাজা পেয়েছে। কত পরিবার বিনা বিচারে হাহাকার করেছে। কত মানুষের নিকট থেকে ঘুষ নিয়েছেন। মেধাহীনকে চাকুরি দিয়ে মেধার অবমূল্যায়ন করেছেন। কত নিষ্ঠুরভাবে চাকুরি কেড়ে নিয়ে পরিবারকে কাঁদিয়েছেন। আজ করোনায় সারা বিশ্ব কাঁপছে। বিশ্বব্যাপী দুর্দিন চলছে। জেনে না জেনে যে যা পাপ করেছে তার জন্য অনুতপ্ত হচ্ছে। আর কত অন্যায় করবেন হে বিশ্ববাসী! এবার নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সময় এসেছে। নাস্তিকতা পরিহার করার সময় এসেছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের একত্ববাদকে স্বীকার করার সময় এসেছে।

করোনা বিশ্বময় একটি শিক্ষা। একটি ভয়ার্ত পরিবেশ।  এর চাইতে ভয়াবহ পরিবেশ হবে, কিয়ামতের দিন কেহ কারো পরিচয় দিতে চাইবো না। আপনজনদের দেখে মানুষ পালাবে। সকলে ইয়া নফসি ইয়া নফসি করবে। সেই দিনের কথা আর করোনার বিভীষিকাময় দিনগুলির কথা চিন্তা করে আর অন্যায় পথে পা দিবো না। কবরের কথা চিন্তা করবো। পাপের কথা চিন্তা করে তওবা করবো। অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ গ্রাস করবো না। মানুষের খুন, গুম করবো না। মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনি মিনি খেলবো না। কারো প্রতি অবিচার করবো না, মিথ্যা স্বাক্ষী দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলবো না। আমাদের সকল কর্মকান্ড সম্মানিত লেখকদ্বয় লিখে রাখছেন। একদিন সব কথাই মহান রবের সামনে প্রকাশিত হবে। সেই বিচার দিনের মুখোমুখি হতে, আমরা কল্যানের পথে ফিরে আসি, মহান আল্লাহর দিকে আমরা ফিরে আসি। শেষ!

(Visited 4 times, 1 visits today)

Leave A Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *